২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
সাতকানিয়ায় অবৈধ দুই ইটভাটায় অভিযান জরিমানা ও চুল্লী অকার্যকর বান্দরবানে র‍্যাবের ঝটিকা অভিযান ১৬ বছরের পলাতক খুনি গ্রেফতার জবির অর্থনীতি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের শিক্ষা ও পাঠ্যক্রম সম্পাদক নির্বাচিত ড. শাহজাহান মজুমদার চট্টগ্রাম জেলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে সাংবাদিকদের মিলনমেলা ও সদস্য সনদ বিতরণ লালদীঘিতে বাঘা শরিফের দাপট ১১৭তম আসরেও সেরা। সাতকানিয়ার পরিবেশ রক্ষায় এমপি জসিম উদ্দীনের ৫ দফা ঘোষণা নোয়াখালীর চাটখিলে উপজেলা বিএনপি’র বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত সখিপুরে কৃষকদের সার, বীজ ও খামারীদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ চট্টগ্রামে জব্বারের বলিখেলা ও বৈশাখী মেলা হরেক রকম পণ্যের বিপুল সমাহার র‌্যাবের জালে মহেশখালীর ত্রাস ফজইল্যা ডাকাত
আন্তর্জাতিক:
লাহোর থেকে যাতি উমরা স্মৃতির অলিন্দে পাঞ্জাবের আতিথ্য তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি ডলার ও সুন্দরী স্ত্রী চাইলেন উগান্ডার সেনাপ্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না ইরান।। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় আহত ইরানি নেতা কামাল খারাজির মৃত্যু নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ ইরানের ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে নামবে নরক ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ হরমুজ: ভূ-রাজনীতির অগ্নিপথ ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উদ্বেগ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: মার্কিন কোষাগারে বিপুল খরচের বোঝা ৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ: নাসার আর্টেমিস-২ অভিযানের সফল শুরু
     
             

মহান স্বাধীনতা দিবসে ভারতবাসিকে স্মরণ ও পন্য বর্জনঃ

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

কবি শাহাদাত হোসেন তালুকদার লেখক ও কলামিস্ট, চট্টগ্রাম >>> বাংলাদেশের মানুষ ভারতের প্রতি অসন্তুষ্টি মনোভাব গড়ে উঠার জন্য দায়ী কি ভারত সরকার নাকি বাংলাদেশের জনগণ ? অন্যদের মত রাজনীতির উত্তরে যদি বলি বিএনপি,তবে এতে আমরা একমত হতে পারিনা কারণ ভারত বিরোধী মনোভাব গড়ে তোলার জন্য বিএনপির মধ্যে তেমন কোন রাজনৈতিক পুঁজি পটুত্বের মার্কেট আছে বলে মনে হয়না।
বিশদভাবে আলোচনার অবকাশ থাকে ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বাঙালির জীবনে চরম দুঃসময়ে ইন্দিরা গান্ধি ও ভারতের জনগণ বাংলাদেশকে বুকে টেনে নিয়ে নানা ভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন তরান্বিত করেছে একথা ঐতিহাসিক ভাবে সত্য ও স্বীকৃত। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ সবসময় ভারতের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকার চেষ্টা করেছে যা আজও অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ সর্বদা ভারতকে আস্থা ও বিশ্বাসে রাখার চেষ্টায় অভ্যস্থ সত্ত্বেও এ পর্যায়ে এসে উভয় দেশের সম্পর্কের চিড় ধরার সমূহ কারণ কি ইহা উভয় দেশের জনগণ ও সরকারকে নিশ্চয় অনুধাবন করা উচিত।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর আমাদের তৃতীয় প্রজন্ম ইতিহাসের পাতা থেকে ভারত সম্পর্কে যা কিছু জানেন এইটকুই কেবল।
আমরা তখনকার মানুষ সেদিনের বাংলাদেশ সৃষ্টিরলগ্নে ইতিহাসের আমি সাড়ে সাত বছরের শিশু মুক্তি যোদ্ধা সেদিনকার অনেক কিছুই আমার স্মৃতিতে জাজ্জ্বল্যমান সেক্ষেত্রে আমি একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা দাবি রাখার অধিকার আছে যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের সময় পানি ঔষধ বা রমনা সিগারেট খুটিনাটি এসবের যোগান দাতা ছিলাম,যেহেতু আমার পিতা প্রয়াত আলহাজ্ব খায়ের আহমদ তালুকদার ৮০জন ইপিআরকে উত্তর পদুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সপ্তাহের অধিক সময় পর্যন্ত সমস্ত ভরনপোষণ করে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে জীবন মরণ উপেক্ষা করে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

কাজে ইতিহাস স্বচক্ষে দেখা ও পাঠ করার মধ্যে বিস্তর প্রার্থক্য বিধায় বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মের চোখে সবসময় ভারতের তাঁবেদারি ও কর্তৃত্ব সুলভ মনোভাব ও দাম্ভিকতা আজকের প্রজন্মের জন্য হতাশাব্যঞ্জক ও তিক্ত অভিজ্ঞতা পেয়েছে।
মোদি সরকার ভারতের ক্ষমতায় আসার পর তার নিজ দলের রাজনৈতিক স্বার্থে হাসিলের জন্য ধর্মকে পুজি করার কারণে নিরেপক্ষতা রক্ষায় বারংবার হুঁচট খেয়েছেন,মোদি তার স্বভাবগত হিন্দুত্ববাদ এক মুহূর্তের জন্যও ছাড়তে সক্ষম হননি।
এতে করে ভারতের উদারপন্থী প্রতিবেশী রাষ্ট্র গুলোর মধ্যে ভারতের সাথে মনোমালিন্য ও সন্দেহের ফলে যারযার সতর্ক অবস্থান বৃদ্ধি পেতে চলেছে,কেননা ভারতের চারিপাশে রাষ্ট্রগুলোতে প্রত্যেক ধর্ম গোত্রের মানুষের সর্বদাই আন্তরিক সহঅবস্থানে পরিচালিত হয়।
অপরদিকে মালদ্বীপের সাথে ভারতের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে ঠেকেছে, ইহার প্রকৃত কারণসমূহ ভারতের জনগণকে ভেবে দেখা এখনই জরুরি।
তাছাড়া প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটান ও নেপালের সাথে ভারতের সম্পর্কের হালনামা হামেশা নিঃপ্রভ ও অমর্ম।সেদিক বিবেচনায় কেবল বাংলাদেশ সরকারই আজও ভারতকে অবজ্ঞার জন্য কখনোই প্রস্তুত থাকেন না, কিন্তু ইদানিং নানাবিধ কারণে ভারতের পন্য বর্জনের বিষয়টি যদি বাস্তবিক অর্থে সঠিক খবর হয়ে থাকে তবে এতে প্রশ্ন থাকে যে বিশ্বের এত বড় পরাশক্তির ভারত হওয়া সত্ত্বেও কেন তার প্রতিবেশী ছোটখাট রাষ্ট্র সমূহের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির হেতু কি এবং তার জন্য দায়ী কি ভারত নাকি প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, ভুটান, নেপাল কিংবা শ্রীলঙ্কা, আফগান ?
জম্বু কাশ্মীরে বহু আগে থেকে পাকিস্তানের লোলুভ দৃষ্টি লেগেই আছে এই সমস্যা কখনো শেষ হওয়ার না,
ইদানিং আবার অরুণাচল প্রদেশকে চীনের ভৌগোলিক সীমানার দাবী উঠতে বা বলতে চীনের পক্ষ থেকে শোনা যায়।
গতবছর তৃতীয় ভাগের শেষের দিকে সাধারণ ক্রিকেট খেলায় হার-জিৎ এর পক্ষে বিপক্ষে সাপোর্টার থাকবে তা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার,কিন্তু সামান্য এই ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে ভারতের মিডিয়া এমন কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তাদের অতি রঞ্জিত মনগড়া কটাক্ষ মূলক কথাবার্তা ও দাম্ভিকতা অতিমাত্রার বাড়াবাড়ি নয় কি,ভারত ও বাংলাদেশের বুঝতে হবে এখন তৃতীয় প্রজন্মের দুনিয়া,একাত্তরের কথা শুনছে দেখেনি।
আমাদের মনে রাখা উচিত অহংকার পতনের ইঙ্গিত। ভারতের মিডিয়া গুলো হীনমন্যতার যে কান্ড কীর্তন দেখিয়েছেন তার থেকে উভয় দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে ভাতৃত্ব সূলভ সম্পর্কের অবর্ণনীয় টানাপোড়েনের সুত্রপাত বলে বিজ্ঞ নাগরিক মহলের ধারণা।

পাদটীকাঃ
সামগ্রিক অর্থে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জনজীবনের চাহিদার ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে ইহাই স্বাভাবিক,এক্ষেত্রে নিজেরা স্বনির্ভর হওয়ার তাগিদ অনুভব করা নিঃসন্দেহে মঙ্গলজনক এবং ইহা দেশের মানুষের পক্ষে আনন্দের সুসংবাদ,কাজেই পরনির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে ও নিজেদের সক্ষমতা কিংবা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের এখনই বাংলাদেশের জন্য মোক্ষম তথা উত্তম সময়।
সুতরাং এখানে বলার অবকাশ থাকে না যে বাংলাদেশের মানুষের ভারতীয় পন্য বর্জন একথার চেয়ে বড় যুক্তি হচ্ছে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দিকে এগোতে চায়।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page