১১ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
ভোটের আঙ্গুলের কালির দাগ মুছে যাওয়ার আগেই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করেছে সরকার –শামা ওবায়েদ সুনামগঞ্জে দুই দিনব্যাপী মহালয়া উৎসব সম্পন্ন সাতকানিয়ায় ইলিশ বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা, জব্দ ইলিশ বিতরণ এতিমখানায় উখিয়ায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত উপজেলায় ডিসি জাহিদ: ডেঙ্গু রুখতে মাঠে নামল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ডেঙ্গু রুখতে মাঠে নামল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন রাজশাহীতে ৬৯০ যানবাহনে তল্লাশি, মামলা ৫৫, আটক ৬২ দক্ষিণ চট্টগ্রামে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আট হাজার লবণচাষি রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিপুল পরিমান ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদকদ্রব্য জব্দ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর জোর দিলেন অর্থমন্ত্রী, কলেজিয়েটে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের ঘোষণা
আন্তর্জাতিক:
নেপালে সাহসী সাংবাদিকতার জন্য শহীদুল ইসলাম বাবরকে ফুলেল শুভেচ্ছা সমাজসেবায় বিশেষ অবদান: স্বর্ণপদক ও সম্মাননা পেলেন নাহিদ উজ্জামান শিল্পী শিমলার মুকুটে নেপাল-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অনন্য স্বীকৃতি জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে থাকা ৫৩৪টিসহ ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের দীর্ঘ দাবি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত শিল্পী শিমলা নেপালে হিমবাহ ধসে বন্যা: নিহত ৩১, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সেবায় অটল ইউএনআরডব্লিউএ, কার্যক্রম বন্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান বদলাচ্ছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের চিত্র: দুবাইয়ের ট্রানজিট প্রবণতা ও নতুন ডিজিটাল নিয়ম
     
             

বন্যার পর চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, প্রতিরোধে জোর দিচ্ছে চসিক ও জেলা প্রশাসন

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম >>>  ১৯ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি ২৬০, আট ওয়ার্ডে বাড়তি সতর্কতা।বন্যার পানি নেমে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও চট্টগ্রামে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৯ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৬০ জন রোগী। একই সময়ে নগরীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টির পর কোথাও ৭২ ঘণ্টা পানি জমে থাকলে দ্রুত ডেঙ্গুবাহক এডিস মশার বিস্তার ঘটতে পারে।চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৭৮ জন। এর মধ্যে বর্তমানে ৮৫ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত শুক্রবার এক দিনে নতুন করে ১৬ জন, শনিবার ১২ জন এবং রোববার ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মে মাসে ৩৭ জন, জুনে ১২২ জন এবং চলতি জুলাইয়ের ১৯ দিনেই ২৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে চলতি মাসেই রোগীর সংখ্যা আগের মাসগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, বন্যার পানিতে পুরোনো ডেঙ্গুর লার্ভা ধুয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে বৃষ্টির সঙ্গে তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ায় নতুন করে এডিস মশার বংশবিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, কোথাও তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টা পানি জমে থাকলেই সেখানে ডেঙ্গুবাহক মশার জন্ম হবে এবং তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।এদিকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২৯৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নগরীর আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব ওয়ার্ড হলো- জালালাবাদ, পাঁচলাইশ, উত্তর কাট্টলী, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, পাথরঘাটা, দক্ষিণ হালিশহর ও দক্ষিণ পতেঙ্গা।টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও চট্টগ্রামে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। জলাবদ্ধতা কমে গেলেও বৃষ্টির পর জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ার আশঙ্কায় সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৯ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৬০ জন। এ সময় নগরীতে একজন নারীর মৃত্যু হয়েছে।জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৭৮ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮৫ জন রোগী। জানুয়ারিতে ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২, মার্চে ২০, এপ্রিলে ২৯, মে মাসে ৩৭, জুনে ১২২ এবং চলতি জুলাইয়ের ১৯ দিনেই ২৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত শুক্রবার নতুন করে ১৬ জন, শনিবার ১২ জন এবং রোববার আরও ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, বন্যার পানিতে পুরোনো লার্ভা ধুয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে কোথাও ৭২ ঘণ্টা পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার জন্ম হবে। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।চসিক সূত্র জানায়, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ২৯৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর নগরীর আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো— জালালাবাদ, পাঁচলাইশ, উত্তর কাট্টলী, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, পাথরঘাটা, দক্ষিণ হালিশহর ও দক্ষিণ পতেঙ্গা।চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিধন কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহি বলেন, বর্তমানে ছয় মাসের কীটনাশক মজুত রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩০৫ জনের টিম নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়া ডেঙ্গুর আটটি হটস্পটে সাত সদস্যের বিশেষ প্রশিক্ষিত দল কাজ করছে।চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মৌসুম অনুযায়ী এখন ডেঙ্গুর বংশবিস্তারের সময়। তাই হটস্পট এলাকাগুলোতে ফগিং জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম চলছে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু রাস্তায় কীটনাশক স্প্রে করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এডিস মশা ঘরের ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, ভাঙা প্লাস্টিকের পাত্র, গাছের গোড়াসহ অল্প জমা পানিতেও বংশবিস্তার করে। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা, ছাদ, বারান্দা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালতের আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। একই সঙ্গে মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে ডোজ, ক্যালিব্রেশন ও স্প্রে পদ্ধতির যথাযথ তদারকির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।এদিকে পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ২৫ জুলাই জেলার সব সরকারি দফতর ও সরকারি আবাসিক ভবনের ছাদে একযোগে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতার চর্চা সরকারি দফতর থেকেই শুরু করতে হবে। কর্মসূচির আগে ও পরে ছবি ও ভিডিও জেলা প্রশাসনে পাঠাতে হবে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা উদ্যোগকে পুরস্কৃত করা হবে এবং অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে সরকারি বাসা বরাদ্দ বাতিলসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, ছাদবাগান ভালো উদ্যোগ হলেও পরিচর্যার অভাবে যদি জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page