এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম >>> ১৯ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি ২৬০, আট ওয়ার্ডে বাড়তি সতর্কতা।বন্যার পানি নেমে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও চট্টগ্রামে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৯ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৬০ জন রোগী। একই সময়ে নগরীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টির পর কোথাও ৭২ ঘণ্টা পানি জমে থাকলে দ্রুত ডেঙ্গুবাহক এডিস মশার বিস্তার ঘটতে পারে।চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৭৮ জন। এর মধ্যে বর্তমানে ৮৫ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত শুক্রবার এক দিনে নতুন করে ১৬ জন, শনিবার ১২ জন এবং রোববার ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মে মাসে ৩৭ জন, জুনে ১২২ জন এবং চলতি জুলাইয়ের ১৯ দিনেই ২৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে চলতি মাসেই রোগীর সংখ্যা আগের মাসগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, বন্যার পানিতে পুরোনো ডেঙ্গুর লার্ভা ধুয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে বৃষ্টির সঙ্গে তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ায় নতুন করে এডিস মশার বংশবিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, কোথাও তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টা পানি জমে থাকলেই সেখানে ডেঙ্গুবাহক মশার জন্ম হবে এবং তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।এদিকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২৯৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নগরীর আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব ওয়ার্ড হলো- জালালাবাদ, পাঁচলাইশ, উত্তর কাট্টলী, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, পাথরঘাটা, দক্ষিণ হালিশহর ও দক্ষিণ পতেঙ্গা।টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও চট্টগ্রামে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। জলাবদ্ধতা কমে গেলেও বৃষ্টির পর জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ার আশঙ্কায় সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৯ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৬০ জন। এ সময় নগরীতে একজন নারীর মৃত্যু হয়েছে।জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৭৮ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮৫ জন রোগী। জানুয়ারিতে ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২, মার্চে ২০, এপ্রিলে ২৯, মে মাসে ৩৭, জুনে ১২২ এবং চলতি জুলাইয়ের ১৯ দিনেই ২৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত শুক্রবার নতুন করে ১৬ জন, শনিবার ১২ জন এবং রোববার আরও ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, বন্যার পানিতে পুরোনো লার্ভা ধুয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে কোথাও ৭২ ঘণ্টা পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার জন্ম হবে। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।চসিক সূত্র জানায়, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ২৯৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর নগরীর আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো— জালালাবাদ, পাঁচলাইশ, উত্তর কাট্টলী, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, পাথরঘাটা, দক্ষিণ হালিশহর ও দক্ষিণ পতেঙ্গা।চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিধন কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহি বলেন, বর্তমানে ছয় মাসের কীটনাশক মজুত রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩০৫ জনের টিম নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়া ডেঙ্গুর আটটি হটস্পটে সাত সদস্যের বিশেষ প্রশিক্ষিত দল কাজ করছে।চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মৌসুম অনুযায়ী এখন ডেঙ্গুর বংশবিস্তারের সময়। তাই হটস্পট এলাকাগুলোতে ফগিং জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম চলছে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু রাস্তায় কীটনাশক স্প্রে করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এডিস মশা ঘরের ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, ভাঙা প্লাস্টিকের পাত্র, গাছের গোড়াসহ অল্প জমা পানিতেও বংশবিস্তার করে। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা, ছাদ, বারান্দা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালতের আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। একই সঙ্গে মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে ডোজ, ক্যালিব্রেশন ও স্প্রে পদ্ধতির যথাযথ তদারকির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।এদিকে পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ২৫ জুলাই জেলার সব সরকারি দফতর ও সরকারি আবাসিক ভবনের ছাদে একযোগে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতার চর্চা সরকারি দফতর থেকেই শুরু করতে হবে। কর্মসূচির আগে ও পরে ছবি ও ভিডিও জেলা প্রশাসনে পাঠাতে হবে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা উদ্যোগকে পুরস্কৃত করা হবে এবং অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে সরকারি বাসা বরাদ্দ বাতিলসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, ছাদবাগান ভালো উদ্যোগ হলেও পরিচর্যার অভাবে যদি জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।