২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
পীরগঞ্জে শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষ্য পীরগঞ্জ থানার উদ্যেগে মত-বিনিময় সভা দোয়ারাবাজারে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে তিনবোনের স্ট্রাম্পে টিপছাব স্বাক্ষর আদায়, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন শাহপরীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৩০ হাজার ইয়াবা জব্দ চাঁদাবাজ ধরতে গিয়ে অতর্কিত হামলা ১২ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ অস্ত্রসহ আটক ১  পটিয়ার সংসদ সদস্য এনামের পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন সাতকানিয়ায় গাঁজা সেবনরত অবস্থায় ১ জনের ৭ দিনের কারাদণ্ড কক্সবাজার জেলা পরিষদের কর্মসম্পাদন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ ও ব্যবসায়ীদের দ্বন্ধ অবসানে প্রশাসনের সভা ফেসবুকে ভুয়া গ্রুপের প্রতারণা: বাঁশখালীর আরিফের সিন্ডিকেটে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ রুহিয়ায় ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্প
আন্তর্জাতিক:
সমাজসেবায় বিশেষ অবদান: স্বর্ণপদক ও সম্মাননা পেলেন নাহিদ উজ্জামান শিল্পী শিমলার মুকুটে নেপাল-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অনন্য স্বীকৃতি জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে থাকা ৫৩৪টিসহ ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের দীর্ঘ দাবি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত শিল্পী শিমলা নেপালে হিমবাহ ধসে বন্যা: নিহত ৩১, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সেবায় অটল ইউএনআরডব্লিউএ, কার্যক্রম বন্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান বদলাচ্ছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের চিত্র: দুবাইয়ের ট্রানজিট প্রবণতা ও নতুন ডিজিটাল নিয়ম নেপালে বন্যা ও ভূমিধস: ১৫৭ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ চার শতাধিক
     
             

বাংলাদেশেও হয় আইভিএফ চিকিৎসা

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

 ডা: ফারহানা মোবিন>>>

নারীদেহের তলপেটের ভেতরের দিকে ওভারি বা ডিম্বাশয় নামে একটি অঙ্গ রয়েছে। দৈহিক সম্পর্কের সময় এই অঙ্গ থেকে ডিম্বাণু আসে। আর পুরুষের দেহ থেকে আসে শুক্রাণু। ডিম্বাণু আর শুক্রাণু মিলে তৈরি হয় একটি সন্তানের ভ্রূণ।

এরপর সেই ভ্রূণটি নারীদেহের জরায়ুতে ৯ মাস ধরে বড় হয়। তারপর পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে একটি শিশুর জন্ম হয়। এটি সন্তান জন্মের প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক নিয়ম। যেসব দম্পতি স্বাভাবিক নিয়মে মা-বাবা হতে পারেন না, তাঁরা অনেকেই আইভিএফ প্রেগন্যান্সির চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।
আইভিএফ প্রেগন্যান্সি (IVF Pregnancy) বা ‘আইভিএফ’ মানে ‘ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’, যাকে আমরা সাধারণত ‘টেস্টটিউব বেবি’ হিসেবেই চিনে থাকি। ইন মানে ভেতরে, ভিট্রো মানে কাচ আর ফার্টিলাইজেশন মানে নিষিক্তকরণ। অর্থাৎ কাচ বা টেস্টটিউবের ভেতরে নারী-পুরুষের ডিম্বাণু ও শুক্রাণুকে একত্রে রেখে নিষিক্ত ডিম্বাণু তৈরি করা হয়। এই নিষিক্ত ডিম্বাণুকে যন্ত্রপাতির মাধ্যমে নারীদেহের জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।
তারপর সেই নিষিক্ত ডিম্বাণু বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে পরিপূর্ণ মানবশিশুতে পরিণত হয়।
আমাদের দেশে অসংখ্য মানুষের কাছে আইভিএফ পদ্ধতি এখনো নতুন কিছু। তবে এই পদ্ধতি নতুন চিকিৎসা নয়। বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশ এবং পাশ্চাত্য দেশগুলোতে টেস্টটিউব বেবি বা আইভিএফ পদ্ধতি ব্যাপক পরিচিত ও প্রচলিত। এই পদ্ধতি ভীষণ ব্যয়বহুল একটি চিকিৎসা।

আমাদের দেশে অনেক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ আইভিএফের মাধ্যমে চিকিৎসা করছেন।
যাঁদের জন্য আইভিএফ প্রেগন্যান্সি কার্যকর

♦ যাঁদের বারবার গর্ভপাত হয়, জরায়ুতে কোনো সমস্যা রয়েছে অথবা স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ যাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি কাজে আসবে।

♦ আইভিএফ হলো এক ধরনের অ্যাসিস্টেড রি-প্রডাক্টিভ টেকনোলজি অর্থাৎ প্রজননকারী পদ্ধতি সহায়ক। দীর্ঘদিন ধরে যেসব দম্পতি বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগছেন অথবা অধিক বয়সসম্পন্ন নারী, জননতন্ত্রের জটিল ও বড় কোনো অপারেশন হয়েছে, এ জন্য স্বাভাবিক গর্ভধারণ সম্ভব নয়, এমন পরিস্থিতিতে আইভিএফ প্রেগন্যান্সি কার্যকর।

♦ স্বামী বা স্ত্রীর হরমোনজনিত সমস্যা বা বারবার গর্ভপাত হওয়া অথবা জননতন্ত্রের সমস্যা থাকলে কৃত্রিম গর্ভধারণের চিকিৎসা নিতে পারেন।

আইভিএফ নিয়ে যত ভুল ধারণা

♦ বাংলাদেশে আইভিএফ হয় না। শুধু পাশ্চাত্য দেশেই সম্ভব।

♦ প্রথম সন্তান আইভিএফ হলে আর কোনো দিন স্বাভাবিক নিয়মে গর্ভধারণ করা যাবে না। আইভিএফই করাতে হবে।

♦ আইভিএফ প্রেগন্যান্সির জন্য বহুবিধ হরমোনের ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। তাই সারা জীবন রক্তে হরমোনের মাত্রা এলোমেলো হয়ে যায়।

♦ টেস্টটিউব বেবি মানেই স্বামী ছাড়া অন্য পুরুষের শুক্রাণু ব্যবহার করা হয়। (অন্য পুরুষের বা নারীর সহযোগিতা প্রয়োজন হলে চিকিৎসকরা প্রতিটি বিষয় রোগীকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে বুঝিয়ে বলে থাকেন।) তবে এই পদ্ধতি ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। তাই জেনেবুঝে এই চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।

♦ টেস্টটিউব বেবির চিকিৎসা মানেই ভয়াবহ শ্বাসকষ্ট হবে। তারপর আইসিইউতে থাকতে হবে। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। সব নারীর শারীরিক সক্ষমতা এক নয়। আইভিএফের জন্য বিভিন্ন ধরনের হরমোনের ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। এসব ওষুধের জন্য অনেকের শ্বাসকষ্ট, অস্থিরতাসহ বহুবিধ সমস্যা হতে পারে। অনেকের আবার কিছুই হয় না।

♦ এই পদ্ধতির মাধ্যমে যমজ বা তিনটি সন্তান জন্ম নেবেই। এই ধারণাও সম্পূর্ণ ভুল।

আইভিএফের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

নারীর ডিম্বাণুুর গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য হরমোনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য হট ফ্ল্যাশ, রক্তচাপ বৃদ্ধি, ওজন বৃদ্ধি, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরানো, জ্বর জ্বর লাগা, হাত-পায়ে বা পেটে পানি চলে আসতে পারে।

অনেকের ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম হয়। এই সমস্যায় পেটে পানি জমে যাওয়া, পেটে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তবে সবার হয় না। অনেকের এসিডিটি, মানসিক অবসাদ, অস্থিরতাসহ আরো বহুবিধ সমস্যা বাড়তে পারে। অনেক রোগীর তেমন জটিল কোনো কষ্ট হয় না। তবে গর্ভাবস্থা স্বাভাবিক বা কৃত্রিম যেটিই হোক, প্রত্যেক নারীর কমবেশি শারীরিক কষ্ট হয়।

লেখক : মেডিক্যাল অফিসার, স্ত্রী প্রসূতিবিদ্যা ও বন্ধ্যাত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ঢাকা, বাংলাদেশ

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

পীরগঞ্জে শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষ্য পীরগঞ্জ থানার উদ্যেগে মত-বিনিময় সভা
চাঁদাবাজ ধরতে গিয়ে অতর্কিত হামলা ১২ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ অস্ত্রসহ আটক ১ 
সাতকানিয়ায় গাঁজা সেবনরত অবস্থায় ১ জনের ৭ দিনের কারাদণ্ড
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ ও ব্যবসায়ীদের দ্বন্ধ অবসানে প্রশাসনের সভা
ফেসবুকে ভুয়া গ্রুপের প্রতারণা: বাঁশখালীর আরিফের সিন্ডিকেটে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ
হোয়ানকের মঞ্জুরুল আলমের দাফন সম্পন্ন! জানাযায় শোকাহত মানুষের ঢল
কালিয়াইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন
সাতকানিয়ায় ৩ হাসপাতালে অভিযান: ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

You cannot copy content of this page