১০ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
ভোটের আঙ্গুলের কালির দাগ মুছে যাওয়ার আগেই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করেছে সরকার –শামা ওবায়েদ সুনামগঞ্জে দুই দিনব্যাপী মহালয়া উৎসব সম্পন্ন সাতকানিয়ায় ইলিশ বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা, জব্দ ইলিশ বিতরণ এতিমখানায় উখিয়ায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত উপজেলায় ডিসি জাহিদ: ডেঙ্গু রুখতে মাঠে নামল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ডেঙ্গু রুখতে মাঠে নামল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন রাজশাহীতে ৬৯০ যানবাহনে তল্লাশি, মামলা ৫৫, আটক ৬২ দক্ষিণ চট্টগ্রামে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আট হাজার লবণচাষি রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিপুল পরিমান ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদকদ্রব্য জব্দ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর জোর দিলেন অর্থমন্ত্রী, কলেজিয়েটে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের ঘোষণা
আন্তর্জাতিক:
নেপালে সাহসী সাংবাদিকতার জন্য শহীদুল ইসলাম বাবরকে ফুলেল শুভেচ্ছা সমাজসেবায় বিশেষ অবদান: স্বর্ণপদক ও সম্মাননা পেলেন নাহিদ উজ্জামান শিল্পী শিমলার মুকুটে নেপাল-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অনন্য স্বীকৃতি জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে থাকা ৫৩৪টিসহ ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের দীর্ঘ দাবি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত শিল্পী শিমলা নেপালে হিমবাহ ধসে বন্যা: নিহত ৩১, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সেবায় অটল ইউএনআরডব্লিউএ, কার্যক্রম বন্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান বদলাচ্ছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের চিত্র: দুবাইয়ের ট্রানজিট প্রবণতা ও নতুন ডিজিটাল নিয়ম
     
             

বাঁশখালীতে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী বিরোধ নিরসনে এমপি জহিরুলের মধ্যস্থতা

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় সরল ইউনিয়নের সরকারি খাসজমি, লবণ মাঠ ও চিংড়ি ঘের দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রক্তক্ষয়ী বিরোধ নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছেন বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম। তাঁর মধ্যস্থতায় বিবদমান পক্ষগুলোকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক মীমাংসা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডসহ উপকূলীয় সমুদ্র চর এলাকায় সরকারি খাসজমি, লবণ মাঠ ও চিংড়ি ঘেরের দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুগের পর যুগ ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সংঘর্ষ, গুলাগুলি, হতাহতের ঘটনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে এক ঘটনায় পশ্চিম সরল এলাকায় মনছুর গ্রুপ ও কবির গ্রুপের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জের ধরে তুমুল সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে দোকানে বসে থাকা ব্যক্তি, পথচারী, শিশু ও বয়স্কসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।এর আগে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর বিকেলে সরল ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন সমুদ্র চর এলাকার সরকারি খাসজমিতে অবস্থিত লবণ মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হন।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ওই সময়ে ডা. গিয়াস উদ্দীনের পক্ষের লোকজন লবণ মাঠে কাজ করতে গেলে একই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মনসুর আলম ওরফে মচ্ছা মেম্বারের সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।তৎকালীন সময়ে বাঁশখালী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় মামলা হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।দীর্ঘদিনের এই বিরোধ ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে গত রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় বাঁশখালী জেনারেল হাসপাতালের হলরুমে দুই পক্ষের ১০ সদস্যকে নিয়ে প্রথম মীমাংসা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মধ্যস্থতা করেন সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম।বৈঠকে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে উভয় পক্ষকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। প্রশাসনের সহযোগিতায় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।”বৈঠকে ওসি রবিউল হক বলেন, “রাষ্ট্রে বসবাস করতে হলে রাষ্ট্রের আইন মেনে চলতে হবে। সরলে অতীতে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর অনেকগুলোই আইনবিরোধী। সবাইকে মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রের চেয়ে কেউ শক্তিশালী নয়। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।”তিনি আরও বলেন, “বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ রয়েছে। তবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষকে নির্ধারিত প্রতিনিধিদের নাম জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক আহ্বান করে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।এদিকে দীর্ঘদিনের সংঘাত, প্রাণহানি ও আতঙ্কের পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, আলোচনার মাধ্যমে সরল ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page