আবদুর রাজ্জাক, কক্সবাজারঃ–কক্সবাজারের চকরিয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলার ভিকটিমকে উদ্ধারে অভিযান পরিচালনার সময় হামলার শিকার হয়েছে চকরিয়া থানা পুলিশ । এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) আরকানুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আংশিক ভিডিওকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল সৃষ্টির অপচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।থানা সূত্রে জানা যায়, ৩০ মে ২০২৬ তারিখে আবদুল জলিল (৪৮) চকরিয়া থানায় উপস্থিত হয়ে নুরুল আমিন প্রকাশ গুরা মিয়া (২৩) ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারের ভিত্তিতে চকরিয়া থানায় এফআইআর নং-৬০, জি.আর. নং-২২৫, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৫)-এর ৭/৩০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) আরকানুল ইসলাম সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী নয়াপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের দাবি, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল মামলার ভিকটিম নুর ফাতমা (১৪)-কে উদ্ধার করা এবং মামলার আসামিদের গ্রেফতার করা। উল্লেখ্য মেয়েটির প্রকৃত বয়স ১৪ হলেও সেটি ২০ বলে প্রচার করছে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল, দাবি পুলিশের। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় এজাহারভুক্ত আসামিসহ কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশি কার্যক্রমে বাধা প্রদান করেন। এ সময় ভিকটিমের পিতা-মাতাকে চাকু দিয়ে হামলা চালিয়ে তাদের আহত করা হয় এবং তাদের ব্যবহৃত ভাড়াকৃত সিএনজি অটোরিকশাও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে এসআই আরকানুল ইসলাম ও তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে পুলিশের সহযোগিতায় ভিকটিমকে যেখানে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ, সেই কক্ষে প্রবেশ করা হয়। পুলিশের দাবি, এ সময় প্রধান আসামি নুরুল আমিন হাতে থাকা একটি ধারালো ছোরা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন তিনি ভিকটিমকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে ছোরা প্রদর্শনের মাধ্যমে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভিকটিমের জীবন রক্ষা এবং আসামিকে নিয়ন্ত্রণে আনার স্বার্থে এসআই আরকানুল ইসলাম নিজের এবং ফোর্সের আত্মরক্ষায় প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করেন। একপর্যায়ে ভিকটিমকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে ঘটনার একটি অংশবিশেষ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভিডিওটিতে ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়নি। বরং পুলিশের উদ্ধার অভিযান, আসামির প্রতিরোধ, হামলা এবং ভিকটিমের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়গুলো বাদ দিয়ে আংশিক দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে।পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, দায়িত্ব পালনকালে একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে জনমত গঠন করা হলে তা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে পারে। তারা বলেন, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের সহায়ক নয়।
এ বিষয়ে এসআই (নিঃ) আরকানুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে, তিনি আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ভিকটিমের জীবন রক্ষার্থেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তাদের মতে, ঘটনার আংশিক ভিডিও প্রচারের কারণে তিনি অযাচিত সমালোচনা ও জনবিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।


মন্তব্য