চীনের অত্যাধুনিক শিল্পোন্নয়ন সোমবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এর মাধ্যমে হিউম্যানয়েড রোবট প্রযুক্তিতে চীনের পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক নেতৃত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে এবং দেশটির তথাকথিত ‘নিউ নিউ থ্রি’ কৌশলগত খাতÑ রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উদ্ভাবনী চিকিৎসা- আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বের মোট হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহের ৯৭ শতাংশেরও বেশি এসেছে চীনা নির্মাতাদের কাছ থেকে। এই অর্জন বিশ্ববাজারে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের একটি শক্তিশালী প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বব্যাপী হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ প্রায় ১৯১০০ ইউনিটে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭২ শতাংশ বেশি, যা এই খাতের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এ সময় বাজারে নেতৃত্বেরও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। চীনা রোবোটিক্স কোম্পানি এজিবট ইউনিট্রিকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ স্মার্ট অ্যানালিটিক্স গ্লোবাল (এসএজি) গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের হিউম্যানয়েড রোবটের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি চীন থেকে এসেছে। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, কেবল উৎপাদন নয়, বরং অভ্যন্তরীণ চাহিদার দিক থেকেও চীন বিশ্ববাজারে একক আধিপত্য বজায় রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবোটিক্স খাতে চীনের এই দ্রুত অগ্রগতি দেশটির দীর্ঘমেয়াদী শিল্প কৌশলের অংশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির সাথে হিউম্যানয়েড রোবটের সমন্বয় ঘটিয়ে চীন বিশ্ব অর্থনীতির নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে। ইউনিট্রি রোবোটিক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সাংহাইয়ের শেয়ার বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। ২০২৬ সালের এই প্রথমার্ধের তথ্য অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতে বিশ্বব্যাপী হিউম্যানয়েড রোবটের বাজারে চীনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ব্যাপক উৎপাদনের সক্ষমতা চীনকে এই প্রতিযোগিতায় অপরাজেয় করে তুলেছে।
সূত্র: মানবজমিন


মন্তব্য