দৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব জাহাঙ্গীর হোসেনের সই করা গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঐ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং গতকাল থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ (১) ধারার ক্ষমতাবলে জামায়াতে ইসলামীসহ এ দলের সকল অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হলো।
গেজেটে বলা হয়েছে ‘যেহেতু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত কয়েকটি মামলার রায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যার পূর্বনাম জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এবং তার অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরকে (পূর্ব নাম ইসলামী ছাত্র সংঘ) ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধে দায়ী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, ‘যেহেতুে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ একটি রিট পিটিশন মামলার রায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন বাতিল করেছে এবং আপিল বিভাগ উক্ত রায় বহাল রেখেছে এবং যেহেতুে সরকারের নিকট যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ রয়েছে যে, জামায়াতে ইসলামী এবং এর অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র শিবির সাম্প্রতিক কালে সংঘটিত হত্যযজ্ঞ, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সরাসরি এবং উসকানির মাধ্যমে জড়িত ছিল এবং যেহেতু সরকার বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরসহ এর সব অঙ্গসংগঠন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িত রয়েছে যেহেতুে, সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর ধারা ১৮ (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির ও এর সকল অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ সত্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হলো।
সন্ত্রাস দমন আইনের চতুর্থ অধ্যায়ের ‘নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তালিকাভুক্তকরণ এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন বাস্তবায়ন’ বিষয়ে বলা হয়েছে: কোনো ব্যক্তি বা সত্তা (সন্ত্রাস দমন আইনের ১৭ ধারায় স্বত্ব বলতে ব্যক্তি সংগঠন দলকে বুঝানো হয়েছে এবং এ ধরনের ব্যক্তি দলকে আইনে তালিকাভুক্ত করার বিধান রয়েছে।) সন্ত্রাসী কাজে জড়িত বলে গণ্য হবে যদি সন্ত্রাসী কাজে অংশগ্রহণ করে কিংবা সন্ত্রাসী কাজ করে, সন্ত্রাসী কাজের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে, সন্ত্রাসী কাজ সংঘটনে সাহায্য করে বা উত্সাহ দেয়, সন্ত্রাসী কাজে জড়িত কোনো সত্তাকে সমর্থন বা সহায়তা প্রদান করে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন নম্বর ১৯৭৩-এ শাস্তি প্রদানের বিধান রয়েছে। এই রেজুলেশনে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। এই রেজুলেশন ও সন্ত্রাস দমন আইনে এ ধরনের কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন নিষিদ্ধঘোষিত কাউকে আশ্রয় প্রদান করলে সে-ও শাস্তির আওতায় আসবে। সন্ত্রাস দমন আইনের ঐ ধারা অনুযায়ী নিষিদ্ধঘোষিত ব্যক্তি সংগঠনের সব হিসাব, সম্পদ জব্দ করে সরকারের অনুকূলে নিতে পারবে। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ছাড়াও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পারবে। এই আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
১৯৪১ সালে সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদির প্রতিষ্ঠিত দলটি চতুর্থ বারের মতো নিষিদ্ধ হলো। পাকিস্তান আমলে দলটিকে দুই দফায় নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে গণহত্যায় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার জন্য স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং সে সময় দলের নেতারা পাকিস্তানে নির্বাসনে চলে যান। কিন্তু ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর এবং কয়েকটি সামরিক অভ্যুত্থান আর পালটা অভ্যুত্থানের পালাবদলে ১৯৭৭ সালে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলে দলটির নেতাকর্মীরা ফিরে আসার অনুমতি পান এবং ১৯৭৯ সালের মে মাসে তত্কালীন জামায়াতে ইসলামীর অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা আব্বাস আলী খানের নেতৃত্বে দলটিকে নিবন্ধন দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, উচ্চ আদালতের রায়ে ২০১৩ সালে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। জামায়াতের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর জামায়াতের আপিল খারিজ করে দেয়। নিবন্ধন বাতিলের ফলে বাংলাদেশে প্রতীক নিয়ে এককভাবে (দলীয়ভাবে) নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারায় দলটি। মানবতাবিরোধী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল থেকেও এক আদেশে দলটিকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করে নিষিদ্ধ করার আদেশ দিলেও সরকার দীর্ঘদিন বিষয়টি নিয়ে উচ্চবাচ্য করেনি।
অনেকটা আকস্মিকভাবে গত ২৯ জুলাই রাতে শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৪ দলের বৈঠকের পর জামায়াতে ইসলামী ও তার সব অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বৈঠকে শরিক দলগুলোর বক্তব্য, তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ, দলটির অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন সময় দেওয়া আদালতের রায় ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধে ১৪ দল সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যার পূর্বনাম ছিল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহত্ ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশে ইসলামি শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন এই দলের উদ্দেশ্য। দলটি ‘ইকামতে দ্বীন’ (ধর্ম প্রতিষ্ঠা) নামক মতাদর্শকে মূলভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে। একে ‘রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা’ অর্থে দলীয় ও রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করে থাকে। এটি পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর একটি শাখা এবং তা মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের আদর্শ ধারণ করে।
আশির দশকে জামায়াত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বহুদলীয় জোটে যোগদান করেছিল। এ সময় দলটি আওয়ামী লীগ ও সমসাময়িক বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে এবং পরবর্তীকালে দলটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য আন্দোলন করে। ২০০১ সালে নির্বাচনের আগমুহূর্তে বিএনপির সঙ্গে মিলিত হয়ে আরো অন্য দুটি দলসহ চারদলীয় ঐক্যজোট গঠন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনে চারদলীয় ঐক্যজোট জয়লাভ করলে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারে জামায়াতের তত্কালীন আমির ও সেক্রেটারি জেনারেল মন্ত্রী নিযুক্ত হন।
২০১০ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে গণহত্যায় অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করে। ২০১২ সালের মধ্যে দুজন বিএনপি নেতা ও জামায়াতের সাবেক ও বর্তমান সদস্যসহ বেশকিছু নেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৩ সালের জুলাই পর্যন্ত জামায়াতের অনেক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাবেক আমির গোলাম আযমকে ৯০ বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এসব রায়ের কারণে জামায়াত দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংস প্রতিবাদ করে, যাতে অনেক লোক নিহত হয় ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সাহায্য করতে রাজাকার, আলবদর, আলশামস প্রভৃতি বাহিনী গড়ে তোলে। এরা পুরো মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে কাজ করে। দলটির বিরুদ্ধে সে সময় হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে।
স্বাধীনতার পর সাধারণ ক্ষমার আওতায় জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী কারাগার থেকে বেরিয়ে এলেও দল হিসেবে জামায়াত নিষিদ্ধ ছিল বহু বছর। পরে ১৯৭৬ সালে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল মিলে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আই.ডি.এল) নামের একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামী তৎপরতা শুরু করে। যদিও রাজনীতিতে সরাসরি সক্রিয় হতে শুরু করে আরো তিন বছর পরে।
নিষিদ্ধ থাকার সময়ে এই দলের নেতারা অনেকে আটক বা আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিলেন। আর যারা বাইরে ছিলেন তারা আইডিএলে সম্পৃক্ত থেকে সংগঠন গুছিয়েছেন। ১৯৭৯ সালে জামায়াত ইসলামী সরাসরি রাজনীতি করার সুযোগ পায়। পরবর্তী সময়ে আরো সুসংগঠিত হতে পেরেছে, কারণ তারা ক্যাডারভিত্তিক দল বলে নেতারা যেভাবে বলে, কর্মীরা সেভাবেই কাজ করে। জামায়াতে ইসলামীর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে আইডিএল-এর ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর ছয় জন এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তবে অনেকেই মনে করেন, বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য কিংবা নানা প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এলেও ১৯৭৯ সালে সক্রিয় হওয়ার চল্লিশ বছর পর এসে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে চরম কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটি এবং শেষ পর্যন্ত নিবন্ধন হারিয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে। তবে এ সময়েও সামাজিক যোগাযোগ এবং অভ্যন্তরীণ দলীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখার কাজটি করে গেছে জামায়াত।
পাকিস্তান আমলে জামায়াত দুই বার নিষিদ্ধ হয়: ১৯৪৮ সালে ইসলামি সংবিধানের দাবিতে প্রচারণা শুরু করলে পাকিস্তান সরকার জননিরাপত্তা আইনে সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদিকে গ্রেফতার করে। দুই বছর পর মি. মওদুদি জেল থেকে ছাড়া পান। এর মধ্যেই নেতা হিসেবে উঠে আসেন গোলাম আযম এবং ১৯৫৭ সালে তিনি তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল নিযুক্ত হন। রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে ১৯৫৮ সালে অন্য সব দলের সঙ্গে জামায়াতের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করেন তখনকার সেনা শাসক আইয়ুব খান। এরপর মুসলিম পারিবারিক আইন ও শিক্ষা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেয় দলটি। বিশেষ করে মুসলিম পারিবারিক আইন নিয়ে তুমুল সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতাও তৈরি হয় তখন এবং সেজন্য জামায়াতকেও দায়ী করেন অনেকে। ১৯৬৪ সালের জানুয়ারিতে জামায়াতকে আবার নিষিদ্ধ করা হয়। মওদুদি ও গোলাম আযমসহ অনেককে আটক করা হয়। সে বছরের শেষ দিকে দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ১৫১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে চারটি আসন পায় দলটি।
মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা ও স্বাধীন দেশে নিষিদ্ধ: জামায়াতে ইসলামী দল হিসেবে এবং এর নেতারাও সক্রিয়ভাবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেন। তখন পাকিস্তানি শাসকদের সহযোগিতায় শান্তি কমিটি গঠন করা হয়।
এই দলটির নেতৃত্বেই রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী হয়েছিল যারা ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডসহ যুদ্ধকালীন গণহত্যায় সহযোগিতার জন্য তীব্রভাবে সমালোচিত। ১৯৭২ সালে লন্ডনে গিয়ে পূর্ব পাকিস্তান উদ্ধার কমিটি গঠন করেছিলেন গোলাম আযম। বাংলাদেশের বিরোধিতা ও গণহত্যায় সহায়তার জন্য ১৯৭৩ সালে যে ৩৮ জনের নাগরিকত্ব সরকার বাতিল করেছিল গোলাম আযমও ছিলেন তার একজন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশের বাইরে থাকা জামায়াত নেতারা আবার দেশে ফিরতে শুরু করেন।
১৯৭৬ সালে গোলাম আযম নাগরিকত্ব ফেরতের জন্য আবেদন করলেও সে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপর ১৯৭৮ সালে পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে তিনি ঢাকায় আসেন। এরপর আর ফিরে যাননি। ১৯৮০ সালে ঢাকায় এক সম্মেলনের মাধ্যমে ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’ গঠিত হয়। সেখানে গোলাম আযমকে অনেকটা গোপনে আমির করে প্রকাশ্যে আব্বাস আলী খানকে ভারপ্রাপ্ত আমির ঘোষণা করা হয়।
১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১০টি আসন পায় তারা। পরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে জামায়াতও এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়। তবে তাদের বড় সাফল্য আসে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে। সেবার ১৮টি আসন জিতে তারা এবং তাদের সমর্থনেই সরকার গঠন করে বিএনপি।
এরপর থেকে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আবার তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে দেশে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯২ সালে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যে গণআদালত হয়, সেখানে গোলাম আযমের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। এরপর দলটি বেশ কোণঠাসা অবস্থায় পড়ে। তবে ১৯৯৪ সালে আদালতের রায়ে নাগরিকত্ব ফিরে পান গোলাম আযম, জামায়াতও দল হিসেবে আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের যখন আন্দোলন চলছিল, তখন জামায়াতও আলাদাভাবে কেয়ারটেকার সরকারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে গেছে। ১৯৯৯ সালে বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট করে জামায়াত, যার নাম হয় চারদলীয় জোট।
সরকারে আসা ও পরে বিপাকে পড়ে নাম বদল: গোলাম আযম ২০০০ সালে অবসর নিলে দলটির শীর্ষ পদে আসেন মতিউর রহমান নিজামী। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় গেলে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ মন্ত্রিত্ব পান। স্বাধীন বাংলাদেশে এটাই জামায়াতের প্রথম সরকারে অংশগ্রহণ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুটি আসন পায় জামায়াত। ঐ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় আওয়ামী লীগ। এরপর তারা আর কোনো ভোটে অংশ নিতে পারেনি। ঐ বছর নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পাওয়ার জন্য ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’ নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ করা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজা খাটা অবস্থায় ২০১৪ সালের অক্টোবরে মারা যান গোলাম আযম। এ সময় তিনি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলেন। তার ৯০ বছরের সাজা হয়েছিল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়। একই ধরনের মামলায় ২০১৫ সালে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের এবং ২০১৬ সালে আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হলে চরম বিপাকে পড়ে দলট


মন্তব্য