আব্দুল্লাহ আল মারুফ নিজস্ব প্রতিবেদক >>>দেশে ব্যবসা বাণিজ্যের সময় ও খরচ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল সিঙ্গল উইন্ডো’ পদ্ধতির দ্রুত বাস্তবায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায়। একই সঙ্গে জাতীয় লজিস্টিকস নীতিমালা প্রণয়ন এবং অধিকতর অটোমেশনের মাধ্যমে বন্দরে পণ্য খালাসের সময় হ্রাসের আহবানও জানিয়েছেন কর্মশালার বক্তারা।৪ নভেম্বর’২৩ ইং শনিবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) দেশে ব্যবসা বাণিজ্যের সময় ও খরচ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল সিঙ্গল উইন্ডো’ পদ্ধতির দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করে। ‘Trade Facilitation for Improving the Competitiveness: Challenges and Way Forward’ শীর্ষক এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সচিব মিস শরিফা খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ.এইচ.এম. আহসান এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো: তোফায়েল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মানিত সদস্য মোঃ হাবিবুর রহমান।কর্মশালায় বক্তারা বলেন, একটি দেশের সার্বিক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে গতি আনয়নে বাণিজ্য ব্যবস্থাপনাকে সহজীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা সহজীকরণের জন্য বাণিজ্য সংক্রান্ত নিয়ম-নীতি ও পদ্ধতিসমূহের প্রয়োজনীয় আধুনিকীকরণ ও সমন্বয় সাধন খুবই প্রয়োজন। বাণিজ্য সহজীকরণ ব্যবসা-বাণিজ্যের দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জন এবং বাণিজ্য সম্পাদনে সময় ও খরচ কমিয়ে আনতে সহায়তা করে বলেও জানান বক্তারা। স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণ পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত রপ্তানির সুবিধা ক্রমশ উঠে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রপ্তানির ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব নিরসনের লক্ষ্যে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দেশের সার্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সকল বাণিজ্য সহজীকরণ নীতিপদ্ধতিসমূহ বাস্তবায়ন করা অত্যাবশ্যক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমুদ্র বন্দর, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও লজিস্টিকস খাতের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা, বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনাসমূহ চিহ্নিতকরণ এবং তার আলোকে দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের সার্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় তা নিয়ে বিষদ পর্যালোচনার লক্ষ্যে এই কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মশালায় প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউইসের কমিশনার জনাব মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর প্রেসিডেন্ট জনাব ওমর হাজ্জাজ, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জনাব সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ এবং বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স এসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব মোঃ আমিরুল ইসলাম চৌধুরী।
বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, ইআরডি ও এসএসজিপি প্রকল্পের কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ উক্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন
কর্মশালায় বক্তব্য প্রদানকালে ইআরডি সচিব মিজ শরিফা খান তাঁর বক্তব্যে বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় সাধনের আহবান জানান।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান জনাব এ.এইচ.এম. আহসান তাঁর বক্তৃতায় আমদানি রপ্তানি সংক্রান্ত প্রক্রিয়াসমূহ আরও বেশী অনলাইন ভিত্তিক করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার জনাব মো: তোফায়েল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন যে কর্মশালা থেকে আগত পরামর্শসমূহ সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নে সরকারকে সহায়তা করবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান বন্দরসমূহের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যেকার সামুদ্রিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্রস্থল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জনাব আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন যে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকগণ তাঁদের সক্ষমতা দ্বিগুণ করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইআরডি-এর অতিরিক্ত সচিব ও এসএসজিপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জনাব ফরিদ আজিজ। জনাব ফরিদ আজিজ তাঁর বক্তৃতায় উত্তরণ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সার্বিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় কি প্রভাব পড়তে পারে বা নতুন কি সুযোগ ও সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে সেই বিষয়ে স্থানীয় বেসরকারি খাত বিশেষত রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রতিনিধিদের মধ্যে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় সচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।কর্মশালার মূল বিষয়বস্তুর উপর একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন ইআরডি-এর সাপোর্ট টু সাস্টেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রকল্পের কম্পোনেন্ট ম্যানেজার ডঃ মোস্তফা আবিদ খান।


মন্তব্য