আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। চট্টগ্রামের ১২ মেগাওয়াট ঐতিহ্যের ধারক ‘আবদুল জব্বার স্মৃতি বলীখেলা’র ১১৭তম আসরে ফের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরলেন কুমিল্লার খ্যাতনামা বলি বাঘা শরিফ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানের বালুভর্তি মঞ্চে লড়াকু প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদ বলিকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।
বিকেল থেকেই লালদীঘি ময়দান ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। হাজারো দর্শকের গগনবিদারী চিৎকারের মধ্যে শুরু হয় চূড়ান্ত লড়াই। রেফারির বাঁশি বাজার সাথে সাথেই শারীরিক শক্তি আর কৌশলের অসাধারণ প্রদর্শনীতে মেতে ওঠেন দুই বলি। শ্বাসরুদ্ধকর কয়েক মিনিটের লড়াই শেষে বাঘা শরিফের শারীরিক কসরত ও অভিজ্ঞতার কাছে হার মানতে বাধ্য হন রাশেদ বলি। রেফারি যখন শরিফের হাত উঁচিয়ে ধরেন, তখন পুরো ময়দান করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও নগদ অর্থ তুলে দেন। এর আগে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ।
মেয়র তার বক্তব্যে বলেন,জব্বারের বলীখেলা কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি চট্টগ্রামের নাড়ি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১১৭তম আসরের এই উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে, আমাদের শেকড়ের টান কতটা শক্তিশালী।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাঙালি যুবকদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি সঞ্চয়ের লক্ষ্যে ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এই বলীখেলার সূচনা করেছিলেন। সেই থেকে প্রতি বছর ১২ বৈশাখ (২৫ এপ্রিল) এই মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
বলীখেলাকে কেন্দ্র করে লালদীঘি ও আন্দরকিল্লাসহ আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসেছে তিন দিনব্যাপী বিশাল বৈশাখী মেলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কারুশিল্পীদের মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ-বেতের আসবাবপত্র এবং ঐতিহ্যবাহী লোকজ খাবারের পসরা মেলাকে রঙিন করে তুলেছে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ‘চাটগাঁইয়া’ কৃষ্টির এই মিলনমেলায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বন্দরনগরীতে।


মন্তব্য