আব্দুল্লাহ আল মারুফ নিজস্ব প্রতিবেদক >>> আমি একজন স্বচ্ছ রাজনৈতিক নেতা হওয়ার কারনে ২০১৪ সালে ডঃ নদভী আমাকে তাঁর নির্বাচনের প্রধান এজেন্ট মনোনিত করেছিলেন, সাংসদ থাকাকালীন তাঁর বিভিন্ন দূর্নীতি ও অনিয়মের কারনে আমি নিজেকে সরিয়ে নেওয়ায় ডঃ নদভীর দৃষ্ঠিতে আমি এখন শীর্ষ সন্ত্রাসী। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের আওয়ামীলীগ দলীয় ঈগল প্রতিকের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সদ্য পদত্যাগকারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মোতালেবের নির্বাচন সমন্বয়কারী ডাঃ আ.ম.ম মিনহাজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন।
২৪ ডিসেম্বর’২৩ ইং রবিবার সন্ধ্যায় ঈগল প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোতালেবের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় সাতকানিয়া পৌরসভাস্থ পরশমনি কমিউনিটি সেন্টারে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীর লাগামহীন মনগড়া অপপ্রচার, ভিত্তিহীন মিথ্যাচার, রুচিহীন চরিত্রহননের চেষ্টা ও নির্বাচনী কাজে বাঁধা প্রদানের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মোতালেবের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক ডাঃ মিনহাজ আরো বলেন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো দেশে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। দলের একজন কেন্দ্রীয় গুরুত্বপুর্ন নেতা হিসাবে নেত্রীর নির্দেশনার বাইরে বিপ্লব বড়ুয়ার যেখানে কিছু করার সুযোগ নাই, সেখানে নৌকার প্রার্থী ডঃ আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বিপ্লব বড়ুয়াকে জড়িয়ে জনসম্মুখে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালিয়ে এলাকায় সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প ছড়ানোর হীন প্রচেস্টা চালাচ্ছেন। অথচ দলের কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব বড়ুয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারনার সাথে সম্পৃক্ততাতো দুরের কথা তিনি সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার ভোটারও নন।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনে নৌকার প্রার্থী ডঃ নদভীর অতীত ইতিহাস অনেক বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ডাঃ মিনহাজ বলেন, অতীতে তাঁর (নদভী) বিরুদ্ধে চরতি ইউনিয়নের একটি সভায় গীতাপাঠে বাঁধা দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার স্পষ্ঠ নজির রয়েছে। তাছাড়া ২০১৭ সালে নদভীর এনজিও আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের সাথে নেটওয়ার্ক থাকার কারণে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এতেই প্রমাণিত হয় যে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সাথে কার নেটওয়ার্ক রয়েছে অথবা কে সন্ত্রাসী।
সন্ত্রাসবাদের কারণেই আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছিল। আচরণবিধি লঙ্গন করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রচারে ফান্ড ব্যবহার, বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রচার প্রচারণা, পাকিস্তানী নাগরিককে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি, কয়েকটি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে সুপরিকল্পিতভাবে নিয়মিত বাঁধা দিয়ে নির্বাচনী মাঠকে উত্তপ্ত সংঘাতময় করার হীন পাঁয়তারা করে চলছেন।
সামনের দিনগুলোতে ডঃ নদভী মিথ্যা মামলা সাজানোর জন্য এবং প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীকে কোনঠাঁষা করতে নিজেদের লোকদের হামলা ও জানমালের ক্ষতির আশংকার কথাও জানিয়েছেন।
ডঃ নদভী অস্ত্র ও সন্ত্রাসী জড়ো করছেন এবং তার গাড়ির পেছনের গাড়িতে অস্ত্র রেখে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন অভিযোগ করে ডাঃ মিনহাজ আরো বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারনার শুরু থেকে তাঁর সন্ত্রাসীদের দিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় যে সন্ত্রাস ও অস্ত্রের ঝনঝনানী প্রদর্শন করে নিজের সন্ত্রাসের স্পষ্ঠ নজির সৃষ্ঠি করেছেন, তিনিই আবার আমাকে সন্ত্রাসের গডফাদার আখ্যা দেওয়া মনগড়া ভিত্তিহীন অপপ্রচার, মিথ্যাচার, রুচিহীন চরিত্রহননের অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই হতে পারেনা। এসব লাগামহীন ভিত্তিহীন ঢালাও অপপ্রচার রাজনীতির নোংরা সংস্কৃতি ও নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্ন করার নামান্তর বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ডাঃ মিনহাজ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, মোতালেবের প্রধান শক্তি সন্ত্রাস নয়, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সাধারণ ভোটার। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনে তিনি নদভীর প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়কের দায়িত্বে থেকে জীবন বাজি রেখে তাঁকে জিতিয়েছিলেন উল্লেখ করে বলেন, “তখনতো আমি মিনহাজ গডফাদার ছিলাম না, এখনকি ওই উপকারের পুরস্কার দিচ্ছেন, আমাকে গডফাদার বলে?”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. মিনহাজ বলেন, নদভী শ্বেত সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভোট চিনিয়ে নিয়ে বিজয়ের যে দিবাস্বপ্ন দেখছেন, তা সফল হবে না। আগামী ৭ জানুয়ারী মোতালেবের প্রধান অস্ত্র-সাধারণ ভোটাররা এক সঙ্গে ভোট বিপ্লব ঘটিয়ে মোতালেবকে জেতাবেন। তখনই প্রমাণ হবে, আসল অস্ত্র সাধারণ ভোটার।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মোতালেবের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মেয়র মো. জোবায়ের, উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আনজুমান আরা বেগম, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সন্তোষ কুমার মল্লিক, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমদ লিটন, পৌরসভা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবদুল গফুর লালু, উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি আলহাজ শফিকুল ইসলাম, চেয়ারম্যান আবু ছালেহ, চেয়ারম্যান রমজান আলী, কাউন্সিলর মাসুমা বেগম ও আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট মো. শাহরিয়ারসহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে ডাঃ মিনহাজের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নৌকার প্রার্থী ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি বলেন, নিজেরা সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসবাদের সাথে যুক্ত থেকে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় রক্ত ঝরিয়ে উল্টো আমার উপর মিথ্যা ও বানোয়াট দোষ চাপাচ্ছেন, যার কোন ভিত্তি নেই। আমার গাড়ি বহরে নয়, ডা. মিনহাজের গাড়ি বহরেই অস্ত্র থাকে।”
আজ রোববারও এওচিয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁর স্ত্রীর জনসমাবেশের বাইরে মোতালেবের সমর্থকরা গুলি ফায়ার ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বলে জানান।দলের কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব বড়ুয়ার বিরোদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ডঃ নদভী এমপি বলেন, বিপ্লব বড়ুয়া দলের কেন্দ্রীয় নেতা হয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঈগল মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান ও নেতা-কর্মীদের ফোন করে চাপ সৃষ্টি করছেন বলে তাঁর কাছে স্পষ্ট অভিযোগ আছে বলে উল্লেখ করেন।


মন্তব্য