৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর টোল প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত অবশেষে পটিয়ায় নির্মিত হচ্ছে মিনি স্টেডিয়াম। চট্টগ্রামে কোস্ট গার্ডের হাতে ৭০ লাখ টাকার বিদেশি মদ জব্দ ইপিজেডে কোস্টগার্ডের অভিযান ৭০ লাখ টাকার বিদেশি মদ উদ্ধার প্রতিপক্ষকে ঘুষি দিয়ে ১৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক শত্রুর হার্ট অ্যাটাক হওয়ার মতো অস্ত্র সামনে আনতে যাচ্ছে ইরান ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতনের ১৮৫৫ মামলা: সংসদে আইনমন্ত্রী বাঁশখালীতে স্বাধীনতার ৫ দশকেও উন্নয়নের ছোঁয়া নেই: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে সাঁকোয় পারাপার শত শত শিক্ষার্থীর হাটহাজারীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত বাঁশখালীতে ৩ কোটি টাকার ইয়াবাসহ আটক ৩
আন্তর্জাতিক:
লেবাননে ইসরাইলি হামলা ৩ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিহত ৫ জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে লড়াইয়ে ৪ শীর্ষ প্রার্থী মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপাকে ভারতের বিমান খাত: জ্বালানির আকাশচুম্বী দামে বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি লাহোর থেকে যাতি উমরা স্মৃতির অলিন্দে পাঞ্জাবের আতিথ্য তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি ডলার ও সুন্দরী স্ত্রী চাইলেন উগান্ডার সেনাপ্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না ইরান।। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় আহত ইরানি নেতা কামাল খারাজির মৃত্যু নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ ইরানের ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে নামবে নরক
     
             

তাহিরপুরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা।

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

আবুহায়াত আহমেদ (তাহিরপুর প্রতিনিধি)>>> ছেলেগুলো কিছুদিন আগেও ফ্রি ফায়ার কিংবা পাবজিতে আসক্ত ছিলো। টিকটক কিংবা রিল্স্ ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে অভিভাবকের হাতে গালি, বকা এমনি পিটুনিও খেয়েছে।মাস দেড়েকের ব্যবধানে আজ তারা প্রশংসিত সব মহলে।বলছিলাম তাহিরপুর উপজেলার সেইসব শিক্ষার্থীর কথা,যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে নিজেদের অবস্থানে থেকে মাঠে নেমেছিলো।যারা এখন দেশ সংস্কারে হাত দিয়েছে নিজেদের এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজে।তাদের এমন সব ইতিবাচক কর্মকান্ডে খুশি অভিভাবকবৃন্দ।কেউ কেউ তাঁদের সন্তানকে নিয়ে খুব গর্ববোধ করছে।শিক্ষকরাও প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন তাদের শিক্ষার্থীদের।দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের তুমুল আন্দোলনের মুখে সরকার পতনের পর কর্মবিরতিতে চলে যান পুলিশ সদস্যরা।তাই যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেয় দেশের শিক্ষার্থীরা।এরই ধারাবাহিকতায় তাহিরপুর উপজেলায়ও এসব কাজ করে যাচ্ছের স্থানীয় শিক্ষার্থীরা।উপজেলার তাহিরপুর বাজার, বড়ছড়া বাজারসহ আরও দুই একটি জনগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এসব কাজ করেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার ও শনিবার উপজেলার তাহিরপুর বাজার ও বড়ছড়া বাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শনিবার সকাল ১০টার দিকে নিজেদের স্কুল-কলেজের নির্ধারিত ইউনিফর্ম, স্টুডেন্ট আইডি কার্ড, হ্যান্ডগ্লাভস্,মুখে মাস্ক লাগিয়ে বড়ছড়া জয় বাংলা বাজারের এরিয়া গুলো পরিষ্কার করছেন ট্যাকেরঘাট T.L.M.P হাইস্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।তারা সবাই সম্মিলিতভাবে একত্রিত্ব হয়ে কাজ করেছেন।তাদের এমন প্রশংসনীয় কাজ দেখে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ নিয়ে আসছেন কোল্ড ড্রিংস্, খুশি মনে কেউ খাওয়াচ্ছেন মিষ্টি, রাজনীতিবিদদের মধ্যে কেউ কেউ এনে দিচ্ছেন চকলেট,কেক,কোমল পানীয়।সামাজিক সংগঠন ব্যাবসাহিক নেতৃবৃন্দ মিলে প্রত্যেকজন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিয়েছেন পানির বোতল।এ বছরের ট্যাকেঘাট T.L.M.P হাইস্কুল এন্ড কলেজ এর পরিক্ষার্থীরা জানান,শিক্ষার্থীরা দেশে দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করেছে।স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটিয়েছে। এখন দেশটা নতুন করে গড়তে হবে।আমাদের অনেক দায়িত্ব, অনেক কাজ।ঘরে বসে থাকলে হবে না,লেখাপড়ার পাশাপাশি দেশ গঠনেও আমাদের সকলকে ভূমিকা রাখতে হবে।তবে আমরা যেহেতু পরীক্ষার্থী তাই হয়তো এসব কাজে বেশি সময় দিতে পারবো না।পুলিশ তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করুক।আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করবো।বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক জানান, ছেলেদের নিয়ে দুঃশ্চিতা করতাম।যে হারে মোবাইলে আসক্ত হয়েছিলো তাদের দিয়ে কী হবে সেটা নিয় সব সময় চিন্তিত থাকতাম আমরা।এখন দেখছি,আমাদের এই প্রজন্মই দেশটাকে প্রকৃত স্বাধীনতা এনে দিয়েছে।রাস্তাঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছে।ঘুম থেকে উঠেই বাজারে চলে আসছে এসব দায়িত্ব পালন করতে।যতদিন লেখাপড়া নাই এসব কাজ করুক,আমাদেরও ভালো লাগে। লোকজন বলে আমাদের ছেলেরা দেশের জন্য কাজ করছে। শুনে মনে বেশ আনন্দ লাগে।এলাকার মেম্বার, চেয়ারম্যান ও মুরুব্বিয়ান রা বলেন,শিক্ষার্থীরা যেটা করে দেখিয়েছে সেটা আমরাও করতে পারিনি।তাদের কাছে আমরা ঋণী হয়ে রইলাম।শুধু ঘুরাফেরা,মোবাইল ফোনে আসক্ত একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠছে দেখে আমরা সত্যি খুবই ‘কনসার্ন’ ছিলাম তাদেরকে নিয়ে।সত্যি,তারা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। এখন তারা দেশ গঠনে ভূমিকা পালন করছে,রাস্তাঘাট পরিষ্কার করছে।তাদেরকে ধন্যবাদ।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page