৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
রাঙ্গুনিয়ায় ছেলের হাতে পিতা খুন, ৭২ ঘণ্টায় রহস্য উদ্ঘাটন। সাতকানিয়ায় উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ এমপি শাহজাহান চৌধুরীর চট্টগ্রামের নতুন এসপি মাসুদ আলম পটিয়ায় রংয়ের কাজ করতে গিয়ে ৯ফুট উঁচু থেকে পড়ে প্রাণ হারাল এক তরুণ। পটিয়ায় পুলিশি অভিযানে যুবলীগ নেতা সহ ৩আসামী গ্রেপ্তার। এক যুগ পর ৩০তম বিসিএস পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি চট্টগ্রামে ‘জলাবদ্ধতা নেই’ বিতর্কের মাঝেই চসিক মেয়রের জরুরীভিত্তিতে ৬ কমিটি গঠন পটুয়াখালীতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ১০ কেজি গাঁজাসহ মা-ছেলে গ্রেপ্তার, বাবা পলাতক। চট্টগ্রাম বার নির্বাচনে উত্তেজনা: মনোনয়ন নিতে গিয়ে বাধার অভিযোগ সংগীতের আঙিনায় চট্টগ্রামের জুলি মৌলিক গানে নতুন সম্ভাবনা
আন্তর্জাতিক:
লেবাননে ইসরাইলি হামলা ৩ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিহত ৫ জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে লড়াইয়ে ৪ শীর্ষ প্রার্থী মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপাকে ভারতের বিমান খাত: জ্বালানির আকাশচুম্বী দামে বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি লাহোর থেকে যাতি উমরা স্মৃতির অলিন্দে পাঞ্জাবের আতিথ্য তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি ডলার ও সুন্দরী স্ত্রী চাইলেন উগান্ডার সেনাপ্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না ইরান।। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় আহত ইরানি নেতা কামাল খারাজির মৃত্যু নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ ইরানের ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে নামবে নরক
     
             

তানোর বিলকুমারী নদী দিন দিন শুকিয়ে যাওয়ার পথে, তবুও মাছের প্রাচুর্যে মুখর

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

সোহেল রানা,তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি >>> রাজশাহীর তানোর উপজেলার জীবন্ত ঐতিহ্যের অংশ বিলকুমারী নদী এখন ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনই কমছে নদীর পানির স্তর, কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে নদীর তলদেশ পর্যন্ত। অথচ আশ্চর্যের বিষয়— পানির পরিমাণ কমে গেলেও নদীতে এখন মাছের প্রাচুর্য দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে, যা স্থানীয় বাজারে প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীর পানি কমে যাওয়ায় মাছগুলো নির্দিষ্ট গর্ত ও খাদে জড়ো হয়। ফলে রিংজালসহ ছোট জাল দিয়েই এখন সহজে মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে। এতে যেমন স্থানীয় জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে, তেমনি বাজারেও সরবরাহ বেড়ে দাম স্থিতিশীল রয়েছে। মেলান্দি গ্রামের মৎস্যজীবী জিয়াউর রহমান বলেন,কয়েকদিন আগেও নদীতে মাছের পরিমাণ খুবই কমে গিয়েছিল। কিন্তু এখন পানি কমে যাওয়ায় শিব নদী ও বিলকুমারীর সংযোগস্থলে প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে। এতে আমাদের আয়ও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। কুটিপাড়া গ্রামের আরেক মৎস্যজীবী আশরাফুল আলম জানান, বর্তমানে বাজারে ট্যাংরা, শিং, মাগুর, কই, বোয়াল, পুটি, রুইসহ নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে। দামও এখন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আছে। আগের মতো আর অতিরিক্ত দাম দিতে হচ্ছে না। তানোর বাজারের মাছ ক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বাজারে মাছের সরবরাহ বেড়েছে। ফলে দামও স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। বর্ষার পরপর এমন সময়েই সাধারণত স্থানীয় নদী ও বিলের মাছ বাজারে বেশি আসে।তানোর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল হোসেন বলেন,নদীর পানি কমে যাওয়ায় মাছ এখন সহজে ধরা পড়ছে, যা জেলেদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সুখবর। তবে দীর্ঘমেয়াদে নদী শুকিয়ে যাওয়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আমরা নিয়মিত জেলেদের পরামর্শ দিচ্ছি যেন তারা অতিরিক্ত মাছ শিকার না করে, যাতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। পরিবেশবিদদের মতে, রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের এই বিলকুমারী নদী শুধু একটি জলাধার নয়, এটি স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে এ নদীর পানি কমে যায়, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নেমে যাচ্ছে। এতে মাছ, জলজ প্রাণী ও আশপাশের কৃষিকাজে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।স্থানীয় পরিবেশকর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন,বিলকুমারী নদী বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু সেচের জন্য অতিরিক্ত পানি উত্তোলন ও বৃষ্টির অভাবে নদীটি ধীরে ধীরে মৃতপ্রায় হয়ে পড়ছে।সচেতন মহলের দাবি, নদীর পানিপ্রবাহ টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা বলছেন, নদী পুনঃখনন, পানির প্রবাহ পুনঃস্থাপন ও মাছের আবাসস্থল সংরক্ষণের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প এখন সময়ের দাবি। তানোর ও আশপাশের মানুষের প্রত্যাশা— যথাযথ উদ্যোগ নিলে একসময় প্রাণ ফিরে পেতে পারে রাজশাহীর এই ঐতিহ্যবাহী বিলকুমারী নদী। না হলে অচিরেই হারিয়ে যেতে পারে বরেন্দ্র অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page