রিপোর্ট : আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। কক্সবাজারের উখিয়ার মাটি থেকে উঠে আসা এক কণ্ঠশ্রমিক এখন চট্টগ্রামের আকাশ-বাতাস মাতানো এক নাম। সুরের মায়ায় জড়িয়ে শৈশব থেকে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, আজ তা পূর্ণতা পাচ্ছে মৌলিক গানের সজীবতায়। সংগীতকে পেশা নয় বরং নিরন্তর সাধনা হিসেবে গ্রহণ করে সংগীতাঙ্গনে নিজের এক স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করছেন এই বহুমাত্রিক শিল্পী।
চট্টগ্রাম শহরে বড় হওয়া জোৎস্না আক্তার মৌ, শিল্পীর হাতেখড়ি হয়েছিল প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীত প্রশিক্ষক ও ওস্তাদজীদের কাছে। ওস্তাদ মিলন আচার্য্য, বাবুল ইসলাম এবং আর্য সংগীতের কল্যাণকান্তি নাথ আশিষের কাছে নিয়েছেন সংগীতের শুদ্ধ পাঠ। পরবর্তীতে জগলুল পাশা ও মান্না বড়ুয়ার নির্দেশনায় নিজেকে শাণিত করেছেন প্রতিনিয়ত। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি। আধুনিক গানের সজীবতা আর শেকড়সন্ধানী লোকসংগীত-এই দুইয়ের মিশেলে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের এক ‘বহুমাত্রিক’ শিল্পীসত্তা।
শিল্পী মৌ’র সম্প্রতি প্রকাশিত তার প্রথম মৌলিক গান ‘প্রেমের ঘাটে’ শ্রোতামহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অন্যের গানের অনুকরণের চেয়ে মৌলিক সৃষ্টিতেই তিনি খুঁজে পান প্রকৃত আনন্দ। শিল্পী বলেন,অন্যের সুরে নিজেকে মেলানোর চেয়ে নিজের একটি সুর তৈরি করার আনন্দই আলাদা। পুরনো গানের অবদান চিরন্তন, কিন্তু মৌলিক গানই একজন শিল্পীর আসল পরিচয়।
বর্তমানে বেশ কিছু নতুন গানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। গুণগত মান বজায় রেখে আধুনিকতার সাথে ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটানোই এখন তার মূল লক্ষ্য।একজন শিল্পীর গড়ে ওঠার পেছনে পরিবারের সমর্থন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ফুটে ওঠে তার কথায়। সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন তার পরিবার ও স্বামীকে। তিনি আবেগপূর্ণ কণ্ঠে জানান, স্বপ্নটা তার হলেও তা বাস্তবে রূপ দিতে দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন তার স্বামী। সংসার ও গান-এই দুইয়ের মাঝেই তিনি খুঁজে পান জীবনের পূর্ণতা।
সংশ্লিষ্ট জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে যখন ‘অটো-টিউন’ এবং ‘ইউটিউব ভিউ’ কেন্দ্রিক সস্তা জনপ্রিয়তার হিড়িক চলছে, তখন এই শিল্পীর শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি অনুরাগ ও নিয়মিত রেওয়াজ করার মানসিকতা প্রশংসনীয়। একাডেমীর একজন প্রতিনিধি জানান,একজন প্রকৃত শিল্পীর পরিচয় তার মানের স্থায়িত্বে। আধুনিক ও ফোক গানের এই সংমিশ্রণ নতুন প্রজন্মের সংগীতচর্চায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘প্রেমের ঘাটে’ গানটি প্রকাশের পর থেকেই ভক্তদের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। একজন নিয়মিত শ্রোতা মন্তব্য করেছেন, তার গায়কীতে মাটির টান আছে, আবার আধুনিক গানের মাধুর্যও আছে। এমন শুদ্ধ সুরের চর্চা সচরাচর দেখা যায় না।
প্রযুক্তির ওপর অতি-নির্ভরশীল না হয়ে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সংগীতের ব্যাকরণ এবং শাস্ত্রীয় সংগীতের ভিত্তি মজবুত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, রাতারাতি জনপ্রিয় হওয়ার চেয়ে মানসম্মত গান গেয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়াই প্রকৃত সার্থকতা।
এক নজরে শিল্পীর দর্শন,সংগীত জীবন শুরু: ২০১৭ সাল।প্রথম মৌলিক গান: প্রেমের ঘাটে।প্রিয় পরিচয়,বহুমাত্রিক শিল্পী।আধুনিক ও লোকসংগীতের মেলবন্ধন এবং নিজস্ব গায়কী তৈরি।


মন্তব্য