আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম সংবাদদাতা >>> ১৮৮৪ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত জরাজীর্ণ ভবন, বর্ষায় থৈ থৈ পানি আর বিচারক-আইনজীবীদের চরম ভোগান্তি—এটাই চট্টগ্রামের সাতকানিয়া আদালতের বর্তমান চিত্র। দেশের বিচারিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হলেও যেন ‘যেই লাউ সেই কদু’ হয়ে আছে এই আদালত। শতবর্ষী পুরনো এই জরাজীর্ণ ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পরিচালিত হচ্ছে বিচারিক কার্যক্রম।সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে ভিজে যায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। বিচারকদের জন্য নির্ধারিত বাসভবনটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষিত হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই সেখানে অবস্থান করতে হচ্ছে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের। যথাযথ আবাসন ও কর্মপরিবেশ না থাকায় এখানে বিচারকদের স্থায়ী হওয়ার আগ্রহ কম, যার ফলে প্রায়ই দেখা দেয় বিচারক সংকট এবং বদলির প্রবণতা।ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো: দীর্ঘ ১৪০ বছরের পুরনো এই ভবনটি সংস্কারের অভাবে এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। ১৫ হাজারেরও বেশি বিচারাধীন মামলার ভার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে এই ভঙ্গুর কাঠামো।বর্ষা মৌসুমে আদালত প্রাঙ্গণ হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে যায়। বন্যার আশঙ্কায় অনেক সময় আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় নথিপত্র পাহারায়।বিচারপ্রার্থীদের বসার জন্য নেই কোনো নির্দিষ্ট স্থান। নেই কোনো গণশৌচাগার, যার ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থী নারী-পুরুষ চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় আদালত প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলভাবে যানবাহন রাখা হয়। এছাড়া আদালত সংলগ্ন সড়কগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক।সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাশেদুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন,সরকার বিচার বিভাগের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি করলেও সাতকানিয়া আদালতের কোনো পরিবর্তন হয়নি। স্বাধীনতার এত বছর পরও এমন অমানবিক পরিবেশে বিচারকার্য পরিচালনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বর্তমানে কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে কার্যক্রম চলছে। আমরা অবিলম্বে একটি আধুনিক ও বহুতল বিশিষ্ট আদালত ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।স্থানীয় আইনজীবীদের মতে, ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে এমন প্রাচীন ও বিপজ্জনক অবকাঠামোতে বিচারকাজ পরিচালনা বিচার ব্যবস্থার জন্য সম্মানজনক নয়। গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।


মন্তব্য