মোঃ কাজী আব্দুল্লা হিল আল কাফী
রাকিবঃ রাস্তার পাশে দোকানে বসে চা খেতে খেতে চোখ ঘুরাতেই দেখতে পেল শাকিল খুব তাড়াতাড়ি কোথায় যেন যাচ্ছে। শাকিলকে ডাক দিয়ে রাকিব বললো কোথায় যাও?
শাকিলঃ রাস্তায় চলার বেগেই বললো বাজারে যাচ্ছি। কথা বলার সময় নাই। খুবই তাড়া আছে আমার বাজার নিয়ে বাড়িতে দিয়ে এসে তোমার সাথে কথা বলছি।
রাকিবঃ আচ্ছা ঠিক আছে যাও তাহলে এখন যাও পরে কথা হবে। এখন পরে একা একা রাকিব মনে মনে বলে আজ শাকিলের কি হলো? যে শাকিল এত অলস সেই আজ বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাজারে যাচ্ছে। কে জানে হঠাৎ তাঁর কি হলো? যাই হোক বাজার থেকে আসার পর না হয় জিজ্ঞেস করবো।
শাকিলঃ জীবনে তো বাজার করি নাই। হঠাৎ বাজারে গিয়ে দোকানদারকে কি বলবো সেটাই তো জানিনা? ভাবতে ভাবতে শাক সবজির দোকানে গিয়ে দোকানদারকে বললো ভাই তোমার দোকানের যত কিছু আছে সব ব্যাগ ভরে দিয়ে দাও তো?
সবজির দোকানদারঃ শাকিলের কথা শুনে তো দোকানদার অবাক মনে বীর বীর করে বলে এত বাজার করবে কি একদিনে খাওয়া তে সম্ভব নয়?
শাকিলঃ কি হলো ভাই দেন না কেন? দোকানদার কিছু না বলে মুখের দিকে চেয়ে রইলো।
সবজির দোকানদারঃ ভাই এতগুলো বাজার কি করবেন?
শাকিলঃ খাব, বাড়িতে অনেক আত্বীয় স্বজন আসছে।
সবজি দোকানদারঃ সেটা তো ঠিক আছে এত বাজার তো আপনার ব্যাগে ধরবে না। তাই আমি বলি কি অল্প অল্প করে নিয়ে যান তাহলে ঠিক হবে।
শাকিলঃ খুব রাগান্বিত হয়ে বললো আচ্ছা ঠিক আছে।
মানিকঃ পাশের দোকানে বাজার করছে মানিক সেই এই কথা গুলো শুনে হাসছে। সে মনে মনে বলছে উনি জীবনে কখনো বাজার করেনি না কি?
শাফিঃ শাকিলের কর্মকান্ড দেখে তার মুখে দিকে চেয়ে রইলো। এমন সময় বাজারের সবাই হাসাহাসি শুরু করলো।
শাকিলঃ দ্রুত যেটুকু দোকানদার বাজার দিয়েছে তাই নিয়ে শাক সবজির বাজার থেকে চলে আসে। বাজার থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ করে বহুদিনের বন্ধু নাজমুলের সাথে দেখা হলো।
নাজমুলঃ কি রে শাকিল কেমন আছিস। অনেক দিন পর দেখলাম বাজার করলি না-কি?
শাকিলঃ বলিস না রে বাড়িতে হঠাৎ করে না বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে অনেক লোকজন এসেছে তাই বাজারের ব্যাগটি নিয়ে ছুটে এসেছি।
নাজমুলঃ ওহ এই কথা তোমার বাজার করা শেষ না আরো করবে।
শাকিলঃ আরে না রে নাজমুল এখন মাত্র শাক সবজি নিলাম মাছ মাংস নেওয়া বাকি আছে।
নাজমুলঃ তাহলে চলো আগে তুমি বাজার করা শেষ করো তারপর না হয় কথা বলবো।
শাকিলঃ আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে আমার সাথে তুমিও চলো বাকি বাজার একসাথে করবো।
নাজমুলঃ ঠিক আছে চল এইতো সামনে মাছের দোকান।
শাকিলঃ হ্যা দেখতে পাচ্ছি।
নাজমুলঃ কি মাছ নিবি? শাকিল
শাকিলঃ হঠাৎ মাছের দোকানদারকে বললো তোমার
দোকানের সব মাছ দিয়ে দাও।
নাজমুলঃ অবাক দৃষ্টিতে শাকিলের চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো। বললো কি রে এত মাছ কি করবি?
শাকিলঃ খাব বাড়িতে অনেক আত্বীয় স্বজন আসছে তারা খাবে।
নাজমুলঃ বলিস কি এই মাছ তো এক মাস খেলেও শেষ হবে না রে৷ আর একদিনে খাওয়া দুরে থাক। বরং একটা কাজ করতে পারিস পরিমান মত মাছ নিয়ে বাড়ি যেতে পারিস।
শাকিলঃ আচ্ছা তাই হোক।
নাজমুলঃ মাছ নিয়ে চল এখন চলে যাই।
শাকিলঃ মাংস নেওয়া হলো না তো। বাহিরে গরুর মাংসের দোকানে একই অবস্থা।
নাজমুলঃ চল এখন বাড়ি যাই। রান্না বসাবে দুপুরে খেতে হবে।
শাকিলঃ না মুরগী নেওয়া এড়িয়ে গেছে।
নাজমুলঃ তুমি তো যে জ্বালাইলা আরো।
শাকিলঃ হ্যা এবার মুরগীর দোকানে গিয়ে বললো তিন পায়ের দশটি টি মুরগী দেন তো।
মুরগী দোকানদারঃ মুখের দিকে চেয়ে রইলো।
শাকিলঃ কি হয়েছে?
মুরগী দোকানদারঃ ভাই আমার বাবা দাদা চৌদ্দ গোষ্ঠী মুরগীর ব্যবসা করেছে কিন্তু তিন পায়ের মুরগী দেখি নাই।
শাকিলঃ ওহ ভাই দুঃখীত! যাই হোক দশটি মুরগী দেন।
নাজমুলঃ শাকিল তুমি কি কখনো বাজার করছো। না-কি আজকে প্রথম বাজারের ব্যাগ নিয়ে আসছো। আমার তো মনে হয় না তুমি এর আগে বাজার করছো
শাকিলঃ না রে এর আগে তো কোনোদিন বাজারে আসি নাই। আর বাজার তো দুরের কথা।
নাজমুলঃ যাই হোক মুরগী নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিই। না জানি আরো কত তুমি ঝামেলা করবে? তুমি বাজারে আসছো কখন?
শাকিলঃ এইতো সকাল আটটায়।
নাজমুলঃ এখন বাজে কয়টা।
শাকিলঃ বারটা।
নাজমুলঃ দুপুরের খাবার কখন খায়
শাকিলঃ একটা না হয় দুটোর সময়
নাজমুলঃ এখন বাজে বরোটা বাড়ি যাবি কখন রান্না করবে কখন? আর খাবেই বা কখন,
শাকিলঃ তাই তো চল দ্রুত বাড়ি যাই।
নাজমুলঃ কি আর করবার চল আজ তোদের আত্বীয় স্বজনের মনে হয় তিনটে চারটের আগে খাবার মুখে উঠবে না।
শাকিলঃ একটা গাড়ি ডাক দাও। গাড়িতে করে তাড়াতাড়ি যাই।
নাজমুলঃ রিকশায় চড়ে আসতে শুরু করলো।
শাকিলঃ আসার পথে বটতলায় দেখা হলো রাকিবের
রাকিবঃ কি খবর শাকিল সকাল থেকে কি বাজারে করলে?
শাকিলঃ হ্যা বলেই চললো আর কিছু বললো না।
নাজমুলঃ পাশে বসে কিছু বলছে না।
শাকিলঃ রিকশা থেকে নেমে তাঁর স্ত্রী নওশিন কে
ডাকলো।
নওশিনঃ বাড়িতে তো সে রেগে আছে।
শাকিলঃ কি হয়েছে? এত রেগে কেন তুমি
নওশিনঃ এখন বেলা কয়টা বাজে সেই কখন বাজারে গেছো। এতক্ষণ লাগে না-কি বাজার আনতে। এখন কখন রান্না বসাবো কখন সবকিছু হবে আর কখন খেতে দিবো বলো।
নাজমুলঃ ভাবি আজকে রাস্তা ঘাটে প্রচুর জ্যাম তারপরে আবার বাজারে এত ভীড় সিরিয়াল নিয়ে মনে হয় বাজার করতে হলো।
শাকিলঃ হ্যা
নাজমুলঃ বন্ধুকে রক্ষা করতে মিথ্যা কথা বললো।
নওশিনঃ আচ্ছা ঠিক আছে। আমি রান্না করছি। তোমরা ফ্রেশ হয়ে নাও। তারপরে খেতে আসো।
শাকিলঃ আচ্ছা
রান্না করলো খেয়ে দেয়ে আরাম বিশ্রাম করলো বিকেল বেলা আত্বীয় স্বজন চলে গেল। শাকিল রাকিব নাজমুল এর সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দিল। আর বললো বলিস না রে জীবনে করি নাই বাজার আর সেই বাজারের ব্যাগ হাতে দিয়ে বলছে বাজার করতে, কি একটা প্যারার মাঝে পরে গেছিলাম। যাই হোক আমার তো কেউ যেন আর প্যারায় না পরে। সেদিকে লক্ষ রাখবো। বসবাস করতে সবকিছু বা সবকাজ জেনে রাখা ভালো। সব কাজ জানলে কোনো ঝামেলায় পড়তে হয় না।
কয়েকটি চরিত্র নিয়ে নাটকটি সাজানো হয়েছে। রাকিব,শাকিল,নাজমুল,মানিক,শাফি, নওশিন,মুরগী দোকানদার, সবজি দোকানদার।
কাউকে উদ্দেশ্য করে নাটকটি রচনা নয়৷ এটা একদম কাল্পনিক,শুধু বিনোদনের জন্য নাটকটি লেখা।


মন্তব্য