কবি শাহাদাত হোসেন তালুকদার চট্টগ্রাম >>> ফজলে লোহানী স্যারের “যদি কিছু মনে না করেন”এই একটা বাক্যই পুরা বাংলাদেশ শিখে গেছিল।উনি প্রশ্ন করতেন, আর গোটা জাতি উত্তর খুঁজতো।পর্দায় উনি একা, কিন্তু সামনে বসা কোটি মানুষের আসর থাকতো ওনার সাথে।তারপর এলো হানিফ সংকেতের “ইত্যাদি”শুক্রবার রাত ৮:৩০,গ্রামে কারেন্ট তা আকাশকুসুম কল্পনা গেলে ১২ ভোল্ট ভাড়াতে মাইকের ব্যাটারীতে টিভি দেখা।নাটকের বিশেষ চরিত্রে আলী জাকের ডলি জহুর,সারা জাকের,আসাদুজ্জামান নুর,হুমায়ূন ফরিদী,তারানা হালিম,শমী কায়সার,সুবর্ণা মোস্তফাদের মতো নাট্য অভিনয়ের চেহারা গুলো আজো স্মৃতির কোনে জমা।গান ম্যাজিকে বাচ্চাদের হাততালি,আর বড়রা নিত উপভোগের অনুভবে মনের গহীনে।পর্দার পেছনে কী হচ্ছে কেউ জানতো না,তবুও সবাই বিশ্বাস করতো—হানিফ ভাই মিথ্যা বলবেন না।আর নাটক? “এইসব দিনরাত্রি”, “ঢাকায় থাকি”, “বহুব্রীহি”, “সংশপ্তক”।বাকের ভাইয়ের জন্য মানুষ রাস্তায় নামছিল টিভির চরিত্র, কিন্তু কান্না ছিল আসল।কারণ তখন নাটক ছিল পরিবারের সদস্য।আনিসুল হক স্যারের “ভিন্ন সময়” এর উপস্থাপনা,উনি কথা বলতেন না, যাদু করতেন,মানুষ টিভির সামনে থেকে উঠতেই চাইতেন না।বিজ্ঞাপন আসলেও চ্যানেল পাল্টাতো না।আর এই ছবিটা দেখেন—সেই যুগেরই ছবি।সাদাকালো CRT টিভি, পর্দা নাই, পাশে ফ্যান ঘুরে, মাটিতে বসা ঝাঁক ঝাঁক মানুষ।কিন্তু মন? মনটা ছিল কালার টিভির চেয়েও রঙিন।আমার কাব্য “জীবন তরী”তে”মিথ্যের প্রলাপে নীতি বিহ্বলে / যতসব বিসংবাদ”তখনকার নাটক-উপস্থাপনায় মিথ্যা ছিল না।প্রয়াত ফজলে লোহানী মিথ্যা বলেন নাই,হুমায়ূন আহমেদ চরিত্র দিয়ে মানুষকে ছোট করেন নাই।হানিফ সংকেত মানুষকে বোকা বানান নাই।তাই পর্দা সাদাকালো হলেও মানুষ ছিলো সাদা মনের রঙিন চিত্তের।”আঁধারের আড়ালে সত্য চুপালে / প্রায়শ্চিত্ত অভিশাপ”আজকে HD পর্দা, 4K ছবি,কিন্তু সত্য আঁধারে,তখন টিভির পেছন দেখেও মানুষ সত্য খুঁজতো। আজকে সামনে বসেও খুঁজে পায় না।পাড়া মহল্লা বাড়ির আঙিনায় সমবেত দর্শকদের সেই মনমাতানো দৃশ্যপট আমাকেও কাছে ডাকছে।কারণ ওই ডাকে লোভ ছিল না, হিংসা ছিল না,ছিল শুধু—”আয়, একসাথে বসি,যা দেখায় দেখি,না দেখলেও গল্প করি”।এখন সবার ঘরে স্মার্ট টিভি কিন্তু “স্মার্ট” মানুষ কমে গেছে। তখন টিভি বোকা ছিল,কিন্তু মানুষগুলা বোকা ছিল না ছিলো সোজা সরল।আমার “জীবন তরী”র কবিতার শিক্ষা আর এই ছবির শিক্ষা এক জায়গায় মিলে যায়—যেমন -“শ্রমে ধর্মে বিশ্বাস আস্থায় / ফল আর পরিণতি”।ওরা শ্রম করে টিভি কিনছিল,ধর্ম মেনে শুক্রবারে “ইত্যাদি” দেখতো,বিশ্বাস করতো উপস্থাপকের হাসি রসিকতার বাকবাক্য,আর আস্থা রাখতো পাশের মানুষটার উপর।তাই ফল পেয়েছিল সেই যুগ,যে যুগের নাম “সোনালী যুগ”।


মন্তব্য