জামাল হোসেন পাবনা জেলা প্রতিনিধি
পাবনায় মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ও উত্তরাঞ্চলীয় ব্যুরো চিফ উৎপল মির্জার বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামী শরীফুল ইসলাম মহুরী এখনও গ্রেফতার হয়নি।ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ আটককৃত চারজনকে সোমবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। পাবনা সদর থানার ওসি রওশন আলী এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।পাবনা সদর থানার ওসি রওশন আলী জানান, গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ গুরুত্বপুর্ন তথ্য দিয়েছে। সেই অনুযায়ী পুলিশ কাজ করছে।পুলিশ জানায়, রোববার (১২ নভেম্বর) দুপুরে বেশকিছু সন্ত্রাসী একটি মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলযোগে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক উৎপল মির্জার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা সাংবাদিকের নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বাসার তালা ভেঙ্গে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে।ঘটনার সময় সাংবাদিক উৎপল মির্জা বাড়িতে ছিলেন না। হামলার ঘটনায় ভীত সন্ত্রস্ত সাংবাদিক উৎপল মির্জার স্ত্রী ফোনে তাকে ঘটনা জানান। তিনি তাৎক্ষনিক পুলিশ সুপারকে জানালে সদর থানার ওসির নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ চার জনকে আটক করে। এ সময় বাড়ীর বাইরে দাড়িয়ে থাকা অন্যরা পালিয়ে যায়।ভুক্তভোগী সাংবাদিক উৎপল মির্জা বলেন, ‘দুপুরে আমি মাছারাঙা টেলিভিশনের পাবনা অফিসে কর্মরত ছিলাম। এ সময় আমার স্ত্রী কান্নাজড়িত কন্ঠে হামলার ঘটনাটি জানায়। আমি দ্রুত পুলিশ সুপারকে জানালে তিনি সদর থানার ওসিকে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পাঠান। পরে হামলাকারী বেশিরভাগ পালিয়ে গেলেও চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।’এদিকে সাংবাদিক উৎপল মির্জার বাড়িতে সশস্ত্র হামলা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাবনায় কর্মরত সাংবাদিকরা। তারা বলেন, এই হামলার মুল হোতা শরীফুলকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে না পারা দু:খজনক।পাবনা প্রেসক্লাব সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান ও সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘সাংবাদিক উৎপল মির্জার বাড়িতে প্রকাশ্যে সশস্ত্র হামলার ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা এই হামলার পেছনে জড়িত তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। পাশাপাশি পরিবারটির নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানাচ্ছি।’পাবনা সদর থানার ওসি রওশন আলী বলেন, ‘সাংবাদিক উৎপল মির্জা বাদি হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে রোববার রাতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেছে। সেই মামলায় আটককৃতদের গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে


মন্তব্য