আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অবৈধ ইটভাটার জন্য পাহাড় ও কৃষিজমি কাটার সময় ৩ জন মাটিখেকোকে আটক করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় মাটি কাটার একটি এসকেভেটর (বকু) এবং একটি ডাম্পার ট্রাক জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটককৃতদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার (৫ জিন) রাতে সাতকানিয়া থানা সার্কেল এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর যৌথ নেতৃত্বে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কেবি৩ নামক একটি অবৈধ ইটভাটার মালিক শাহ আলম কোম্পানির নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে দিন-রাত সমানতালে ফসলি জমি ও সরকারি পাহাড় কেটে মাটি লুট করা হচ্ছিল। এতে ওই এলাকার পরিবেশ ও কৃষিখাত মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও দীর্ঘ দিন কোনো স্থায়ী প্রতিকার না পেয়ে গতকাল রাতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাটি কাটার স্থান ঘেরাও করে। তারা মাটি কাটার সরঞ্জামসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটকে রেখে প্রশাসনকে খবর দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং আসামিদের গ্রেফতার করে।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান জানান,আমরা এই চক্রটিকে ধরার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালাচ্ছিলাম। কিন্তু আমাদের আসার খবর পেয়ে প্রতিবারই তারা পালিয়ে যেত। এবার এলাকাবাসীর সাহসী ও তাৎক্ষণিক সহযোগিতায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইটভাটার ম্যানেজারকে ৩ মাস এবং গাড়ি চালককে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাটি কাটায় ব্যবহৃত এসকেভেটর ও ডাম্পার জব্দ করা হয়েছে।পাহাড় ও কৃষিজমি রক্ষায় মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন কঠোর অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ঘটনার বিষয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন,পাহাড় এবং কৃষিজমি আমাদের জাতীয় সম্পদ ও পরিবেশের মূল ভিত্তি। আইন অমান্য করে যারা ব্যক্তিস্বার্থে এসব ধ্বংস করছে, তারা সমাজের শত্রু। পুলিশ ও প্রশাসন পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। গতকালকের ঘটনায় এলাকাবাসীর এই সচেতনতা ও প্রতিরোধ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ ও জনগণের এই যৌথ প্রয়াস একটি মাইলফলক। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, সাতকানিয়ার বুকে কোনো অবৈধ ইটভাটা বা সিন্ডিকেটকে পাহাড় ও ফসলি জমি গ্রাস করতে দেওয়া হবে না। এই চক্রের মূল হোতাসহ পর্দার আড়ালের অপরাধীদের বিরুদ্ধেও নিয়মিত মামলা রুজু করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এভাবে সরকারি পাহাড় এবং ফসলি জমি কেটে নিয়ে গেলে অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। তারা এই অভিযান নিয়মিত সচল রাখার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।


মন্তব্য