৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
রামুতে ধরা পড়ল জোড়া খুনের প্রধান আসামি জিয়া চাঁদাবাজির মামলায় হাটহাজারীতে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ আটক সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে সুনই গ্রামের নাসিম নামে ১ জন নিহত হাটহাজারীতে পিকআপের ধাক্কায় ৪ জন গুরুতর আহত ফটিকছড়িতে বাস-সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ: বাবা-ছেলে নিহত, বিক্ষুব্ধ জনতার বাসে অগ্নিসংযোগ বাজেট অধিবেশনে প্যানেল স্পিকার শাহজাহান চৌধুরী এমপি জিয়া-বেগম জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান- লায়ন হেলাল চট্টগ্রামে সড়ক-ফুটপাত থেকে দুই শতাধিক দোকান উচ্ছেদ, হকারদের ক্ষোভ, নোটিশ ছাড়াই অভিযান ৬৩ বছরের অপেক্ষার অবসান, পতেঙ্গার তিন ওয়ার্ডে পৌঁছাচ্ছে ওয়াসার পানি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে সুনই গ্রামের নাসিম নামে ১ জন নিহত।
আন্তর্জাতিক:
মিলান বাংলা প্রেসক্লাব ইতালির আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত। মার্কিন বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের লেবাননে ইসরাইলি হামলা ৩ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিহত ৫ জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে লড়াইয়ে ৪ শীর্ষ প্রার্থী মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপাকে ভারতের বিমান খাত: জ্বালানির আকাশচুম্বী দামে বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি লাহোর থেকে যাতি উমরা স্মৃতির অলিন্দে পাঞ্জাবের আতিথ্য তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি ডলার ও সুন্দরী স্ত্রী চাইলেন উগান্ডার সেনাপ্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না ইরান।। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় আহত ইরানি নেতা কামাল খারাজির মৃত্যু
     
             

পাবনায় জুয়া খেলা ও নির্যাতন বন্ধে থানায় অভিযোগ করায় স্ত্রীকে ডিভোর্স

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

জামাল হোসেন পাবনা জেলা প্রতিনিধি

১৬ বছরের সংসার লিজা ও শাহীন দম্পতির। তাদের ঘরে ১০ ও ১২ বছরের দুটি সন্তান রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে কখনো সুখের মুখ দেখেনি লিজা। স্বামীর জুয়া খেলার টাকা জোগাড় করতে প্রতিনিয়ত প্রবাসী ভাইয়ের কাছে হাত পাততে হয়েছে তাকে। টাকা না পেলেই শাহিন লিজার ওপর চালাতো শারীরিক নির্যাতন। বাধ্য হয়ে বোনের সুখের জন্য প্রবাসী ভাই প্রায়ই টাকা দিত শাহীনকে। এরপরেও তাদের সংসার টেকেনি।জুয়া খেলা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় লিজা শাহিনের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহীন গত তিনদিন আগে লিজাকে ডিভোর্স দেয়। তবে লিজার প্রাপ্য কাবিনের ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেনি শাহীন।এদিকে থানায় অভিযোগ দেয়ার ৪ দিন পার হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় লিজা দুই সন্তানকে নিয়ে গত তিনদিন ধরে শাহিনের বাড়িতে অনশনে বসেছে।পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের কুদ্দুস আলীর ছেলে শাহিনের বাড়িতে এই অনশন করছেন সদ্য তালাকপ্রাপ্ত গৃহবধূ লিজা।জানা যায়, ১৬ বছর আগে পারিবারিকভাবে শাহিনের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পাটুলিপাড়া গ্রামের জলিল সরদারের মেয়ে লিজার বিয়ে হয়। শাহিন যুবক বয়স থেকেই জুয়া খেলায় আসক্ত। বিয়ের সময় লিজার পরিবার থেকে নেয়া যৌতুকের টাকা সে সময় জুয়া খেলে শেষ করে বলে অভিযোগ লিজার পরিবারের। এরপর অনেকবার শাহীন তার স্ত্রীকে চাপ দিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা নিয়ে জুয়া খেলে। এভাবে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে শাহিন জুয়া খেলে টাকা হেরেছে। ঋণ পরিশোধ করতে না পেয়ে শাহীন একাধিকবার আত্মগোপনে থাকে। পরে লিজার প্রবাসী ভাইয়ের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়ে শাহীন এনজিওর ঋণ পরিশোধ করে।গত কয়েক বছর লিজার পরিবার শাহীনকে জুয়া খেলার নেশা থেকে ফেরাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। উপরন্ত জুয়া খেলার টাকা না পেয়ে প্রায়ই লিজাকে ব্যাপক মারধর করে বলে শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিবারের। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনেকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েতুল হক, জেলা পরিষদ সদস্য আসলাম আলী, ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ বিষয়ে সালিশি বৈঠক করে সমাধান করতে ব্যর্থ হন। এর পরদিন শাহীন লিজাকে ডিভোর্স দেয়।লিজা বেগম বলেন, সালিশের দিন রাতেও ব্যাপক মারধর করে শাহীন। এক পর্যায়ে গলায় গামছা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় পা ধরে প্রাণ ভিক্ষা চাইলে ছেড়ে দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়। এরপর থেকেই দুই সন্তানকে নিয়ে অসহায় দিনযাপন করছি।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, যৌতুকের জন্য প্রায়ই মারধর করত গৃহবধূ লিজাকে। এমনকি সালিশে বসার আগেও ওই গৃহবধূকে মারধর করে তার স্বামী। এরপর ডিভোর্স দেয়ায় ওই নারী এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েতুল হক বলেন, শাহিন জুয়া খেলার কারণেই পরিবারে অশান্তি। তবে সালিশ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু শাহীনের প্রভাবশালী এক আত্মীয়ের জন্য সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম বলেন, ওই গৃহবধূ অভিযোগ দিলেও থানা পুলিশের কিছু করার নেই। তাকে পারিবারিক আদালতে গিয়ে মামলা করে প্রতিকার পাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অনশনের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা অনশনের কোনো বিষয় নয়। তার ভাইয়েরা বিষয়টি দেখতে পারে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page