মোঃ আরাফাত তালুকদার জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী >>> নাম বদলে দীর্ঘ দুই দশক ফেরারি জীবন কাটিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আনোয়ার হোসেন নামের এক সাজাপ্রাপ্ত আসামির। ১৭ বছরের কারাদণ্ড এড়াতে পরিচয় গোপন করে নাম পাল্টেছিলেন, তৈরি করেছিলেন ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স। তবে পুলিশের তৎপরতায় দীর্ঘ ২০ বছর পর তাকে ধরা পড়তে হলো আইনের জালে।গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার হোসেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের পুকুরজনা গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, ২০০৭ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানায় তার বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে ওই মামলায় ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।সাজার রায় ঘোষণার পর থেকেই আনোয়ার হোসেন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে তিনি পটুয়াখালী থেকে পালিয়ে রাজধানী ঢাকায় আশ্রয় নেন। সেখানে নিজের আসল পরিচয় সম্পূর্ণ মুছে ফেলে ‘রেজাউর রহমান রেজা’ নাম ধারণ করেন।নিজের নতুন পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। ভুয়া নামে সংগ্রহ করেছিলেন জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স। এই পরিচয় ব্যবহার করেই তিনি গত ২০ বছর ধরে ঢাকায় বাস ও বিভিন্ন গণপরিবহন চালিয়ে আসছিলেন।দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও সম্প্রতি পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি বিশেষ দল ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।পটুয়াখালী সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০ বছর ধরে পালিয়ে থেকেও অপরাধের দায় থেকে বাঁচতে পারেননি আনোয়ার। গ্রেপ্তারের পর তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য