আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম।।কারাগারের সেই চিরচেনা দৃশ্য—লোহার গ্রিলের দুই পাশে দাঁড়িয়ে গগনবিদারী চিৎকার আর কান্নার শব্দে প্রিয়জনের কথা শোনার প্রাণান্তকর চেষ্টা। চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগারে সেই চিরাচরিত কষ্টের দৃশ্যপট বদলে গেল আজ। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার বিশেষ আগ্রহ ও উদ্যোগে চালু হয়েছে ‘ওয়ান-টু-ওয়ান ইন্টারকম’ টেলিফোন ব্যবস্থা।
গ্রিলের বাধা কাটল প্রযুক্তিতে এতদিন বন্দীদের সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনদের প্রধান অভিযোগ ছিল অসহনীয় শব্দ আর ভিড়। মাঝখানে লোহার শিক আর দূরত্বের কারণে একে অপরের কথা বুঝতে পারতেন না অনেকেই। সেই দুর্ভোগ লাঘবে চট্টগ্রাম কারাগারে একসাথে ৩২টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের কারাগারগুলোর ইতিহাসে বৃহৎ পরিসরে প্রথম।
একসঙ্গে ৩২টি বুথ: ১২টি পুরুষ ও ৪টি মহিলা বন্দীদের জন্য (উভয় পাশে ১৬টি করে মোট ৩২টি সেট)ইন্টারকম ব্যবহারের ফলে কোনো চিৎকার ছাড়াই স্বাভাবিক কণ্ঠে কথা বলা যাচ্ছে। বন্দী এবং দর্শনার্থীদের মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করা।
উদ্বোধনী দিনে খুলশির আমবাগান থেকে আসা রুমা আক্তার তাঁর বন্দী স্বামীর সঙ্গে কথা বলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, আগে চিৎকার করেও কথা বোঝা যেত না, আজ ইন্টারকমে ছেলের সঙ্গে বাবার শান্তিতে কথা বলা দেখে তার চোখ ভিজে উঠেছে। একইভাবে রাজনৈতিক বন্দীর ভাই আব্বাস উদ্দিন জানান, আজ কোনো ঝামেলা ছাড়াই ভাইয়ের সঙ্গে সব কথা গুছিয়ে বলতে পেরেছেন।
অপরাধের বিচার আদালত করবেন, কিন্তু বন্দীদের স্বজনেরা তো অপরাধী নন। তাদের জন্য একটি মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”
— মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম।কারা অধিদপ্তরের অনুমোদনে এবং আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এই পাইলট প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে নিচতলায় এটি চালু হলেও পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় তলাতেও এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, প্রযুক্তির এই ব্যবহারে চট্টগ্রাম কারাগার সারাদেশে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। ভবিষ্যতে ভিডিও কলের মাধ্যমেও বন্দীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ তৈরির স্বপ্ন দেখছে প্রশাসন।


মন্তব্য