আব্দুল্লাহ আল মারুফ। জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধিতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ১৯০০ প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (২ মে) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এই কৃষি প্রণোদনা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং শম্ভু নাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম -১৪ আসনের এমপি জসিম উদদীন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা,মনিরুজ্জামান,উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সামসুজ্জামান,কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার বিত্তম কুমারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আউশ আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে তালিকাভুক্ত ১৯০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে কৃষি প্রণোদনা হিসেবে নিচের উপকরণগুলো দেওয়া হয়েছে,উফশী আউশ ধান বীজ: ৫ কেজি।ডিএপি (DAP) সার: ১০ কেজি।
এমওপি (MOP) সার: ১০ কেজি।
অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন,জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আউশ ধান একটি অত্যন্ত কার্যকরী ও স্বল্প মেয়াদী ফসল। আমরা চাই সাতকানিয়ার কোনো জমি যেন অনাবাদি না থাকে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফলন নিশ্চিত করতে আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন:সরকার কৃষিবান্ধব নীতি গ্রহণ করায় আজ আমরা খাদ্য উৎপাদনে,স্বনির্ভরতার পথে ।সাতকানিয়ার কৃষকরা অত্যন্ত পরিশ্রমী। তাদের এই শ্রমকে ফলপ্রসূ করতে আমরনিশ্চিত করে প্রকৃত চাষিদের হাতেই এই প্রণোদনা পৌঁছে দিচ্ছি। মোবাইল ব্যাংকিং ডাটাবেজ যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যেন কোনো প্রকৃত কৃষক বাদ না পড়ে। কৃষকরা যদি আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চফলনশীল বীজের সঠিক ব্যবহার করেন, তবে অচিরেই সাতকানিয়া দেশের খাদ্য ভাণ্ডারে আরও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
প্রণোদনা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রান্তিক কৃষকরা। ঢেমশা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল গফুর বলেন, এহন যে হারে সার আর বীজের দাম বাড়ছে, আমাগো মতো গরিব কৃষকের লাই আউশ চাষ করা খুব কষ্ট অই যাইত। সরকারের পক্ষ তুন বিনে পয়সায় উন্নত মানের বীজ আর সার পাই মেলা উপকার অইয়ে।
আরেক নারী কৃষাণী মরিয়ম বেগম জানান, সময়মতো সার ও বীজ হাতে পাওয়ায় এবার তিনি নিজের জমিতে ধানের ভালো ফলন ও লাভের আশা করছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উন্নত বীজের মাধ্যমে সাতকানিয়ায় আউশের বাম্পার ফলন সম্ভব হলে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


মন্তব্য