৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
মহেশখালীতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে এমপি ফরিদের জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কক্সবাজারের চকরিয়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ জন আটক পীরগঞ্জ বৈরচুনা খেকিডাঙ্গায় ফুটবল টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জে প্রকৃতির স্নিগ্ন পরশে চায়নাবাঁধে ব্যতিক্রমের শিশু শিল্পীদের সাংস্কৃতিক আড্ডা* কাঞ্চনায় সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আইন-শৃঙ্খলা সভা উত্তর সাতকানিয়া থানা গঠনে ডিসিকে আইনজীবীদের স্মারকলিপি জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি অনুমোদন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে চন্দনাইশ বিএনপিতে বিভক্তির আভাস রুহিয়া উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ইউএনও’র সঙ্গে টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাক্ষাৎ
আন্তর্জাতিক:
নেপালে সাহসী সাংবাদিকতার জন্য শহীদুল ইসলাম বাবরকে ফুলেল শুভেচ্ছা সমাজসেবায় বিশেষ অবদান: স্বর্ণপদক ও সম্মাননা পেলেন নাহিদ উজ্জামান শিল্পী শিমলার মুকুটে নেপাল-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অনন্য স্বীকৃতি জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে থাকা ৫৩৪টিসহ ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের দীর্ঘ দাবি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত শিল্পী শিমলা নেপালে হিমবাহ ধসে বন্যা: নিহত ৩১, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সেবায় অটল ইউএনআরডব্লিউএ, কার্যক্রম বন্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান বদলাচ্ছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের চিত্র: দুবাইয়ের ট্রানজিট প্রবণতা ও নতুন ডিজিটাল নিয়ম
     
             

৬৭ ঢাকা নিয়ে ঢাকায় আসা ব্যক্তি এখন ৮ হাজার ৫ কোটি টাকার মালিক

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক >>> চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম পারিবারিক আর্থিক সংকটে ১৯৬৮ সালে মাত্র ৬৭ টাকা পকেটে নিয়ে ঢাকায় আসেন। শুরু হয় তাঁর সংগ্রামী জীবন। রাজধানীর খিলগাঁওয়ের একটি মেসে মাসিক ১৫ টাকা ভাড়ায় থাকতেন। ইসলামপুরে দোকানে দোকানে পণ্য বিক্রি করে মাসে কমিশনে আয় করতেন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা।২. বিক্রয়কর্মী হিসেবে প্রথম কাজ ঢাকায় এসে তিনি তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট তৈয়ব আশরাফ টেক্সটাইল মিলস–এর বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ছিল মরিয়ম টেক্সটাইল, আরটেক্স ফ্যাব্রিকস, নাজনীন ফ্যাব্রিকস—যেখানে ক্যারোলিন গেঞ্জি, মশারি, ওড়না ও পলিয়েস্টার কাপড় বিক্রি করতেন তিনি। পাশাপাশি নিজের পছন্দে পণ্য তৈরি করে বিক্রি করে মূলধন জমাতে থাকেন।৩. মুক্তিযুদ্ধ ও নতুন শুরু ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ফিরে যান গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায়। সেখানেই তিনি বিয়ে করেন। যুদ্ধ শেষে ঢাকায় ফিরে এসে নতুন করে শুরু করেন জীবন। এ সময় আগের প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুরবস্থার কারণে কিছু কারখানা ভাড়ায় নিয়ে উৎপাদন শুরু করেন।৪. উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ (১৯৭৬) ১৯৭৬ সালে পাওনা আদায়ে ব্যাংকগুলো মরিয়ম, আরটেক্স ও নাজনীন ফ্যাব্রিকস নিলামে তুললে তিনি সেগুলোর যন্ত্রপাতি কিনে নেন। প্রথমে আরটেক্স ফ্যাব্রিকসের ৪টি মেশিন কিনে বিনিয়োগ করেন ৮ লাখ টাকা। তখন কর্মী ছিলেন ২২ জন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর উদ্যোক্তা জীবন। ওই বছরেই জন্ম নেন তাঁর বড় ছেলে নোমান।৫. নোমান গ্রুপের আত্মপ্রকাশ (১৯৮৭) ১৯৮৭ সালে বড় ছেলে এ এস এম রফিকুল ইসলাম নোমান–এর নামে প্রতিষ্ঠিত হয় নোমান গ্রুপ। মরিয়ম, আরটেক্স, নাজনীন ফ্যাব্রিকস–সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একত্রিত করে গড়ে ওঠে বৃহৎ এই শিল্পগোষ্ঠী। বর্তমানে গ্রুপের অধীনে ৩২টি কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে কিছু পরিবারের সদস্যদের নামেও প্রতিষ্ঠিত।৬. ব্যাংকবিমুখ শুরু, আত্মনির্ভর নীতি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত কোনো ব্যাংকঋণ না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন নুরুল ইসলাম। নিজেই কাঁচামাল, রঙ, নকশা, বিক্রি—সব কিছু সামাল দিতেন। এখনো প্রতিদিন ১৮–২০ ঘণ্টা পরিশ্রমে তিনি কোম্পানির পরামর্শক হিসেবে যুক্ত আছেন।৭. রপ্তানি যাত্রা ও জাবের অ্যান্ড জোবায়ের (২০০০) ২০০০ সালে শুরু হয় নোমান গ্রুপের রপ্তানি। জাবের ও জোবায়ের নামের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছেলের নামে প্রতিষ্ঠিত হয় জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফ্যাব্রিকস, যা হয় রপ্তানির মূল চালিকাশক্তি। প্রথম রপ্তানি হয় ৬৫ লাখ ডলারের বেডশিট। ২০১৮ সালে রপ্তানি দাঁড়ায় সাড়ে ১৬ কোটি ডলারে (প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা)।৮. শীর্ষ রপ্তানিকারক হিসেবে স্বীকৃতি এ পর্যন্ত নোমান গ্রুপ ৪৬টি জাতীয় রপ্তানি পদক পেয়েছে, যার মধ্যে ১১টি ছিল শীর্ষ রপ্তানিকারকের স্বীকৃতি। ২০১৬–১৭ অর্থবছরে শুধু জাবের অ্যান্ড জোবায়ের–ই পেয়েছে দুটি স্বর্ণপদক। গ্রুপের প্রত্যাশা, আগামী দুই বছরের মধ্যে তারা ৫০টি পদকের মাইলফলক স্পর্শ করবে।৯. সংকটকাল: গ্যাস সংযোগ না পাওয়ার ধাক্কা ২০০৯ সালে গাজীপুরে সাতটি নতুন কারখানা গড়ে তোলে গ্রুপটি। কিন্তু গ্যাস–সংযোগ না পাওয়ায় ৭ বছর উৎপাদন বন্ধ থাকে। তাতে শুধু সুদেই গুনতে হয় ২ হাজার কোটি টাকা। কেউ কেউ বিক্রি করার পরামর্শ দিলেও তাঁরা তা করেননি। অবশেষে ২০১৫ সালে গ্যাস–সংযোগ পেয়ে কারখানাগুলো চালু হয়।১০. তুলা সংকটে বড় ধাক্কা (২০১১) ২০১১ সালে বিশ্ববাজারে তুলার দামে অস্থিরতা দেখা দিলে গ্রুপটি ৮০০ কোটি টাকার লোকসানে পড়ে। তবুও ব্যাংকের চেয়ে নিজেদের অর্থে বিনিয়োগ নীতির কারণে তারা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।১১. ব্যবসার দর্শন: যা বুঝি না, তা করি না নুরুল ইসলাম দৃঢ়ভাবে বলেন, “যে ব্যবসা বুঝি না, তা করি না। সন্তানদেরও বলেছি, না বুঝে ব্যবসা কোরো না।” তিনি আরও বলেন, “পণ্যের গুণগত মান, চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন এবং অপচয় হ্রাসে আমাদের গুরুত্ব বরাবরই বেশি।”১২. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পারিবারিক অংশগ্রহণ বর্তমানে বড় ছেলে রফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক। অন্য তিন ছেলে ও একমাত্র মেয়ে (উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর–ই–ইয়াসমিন ফাতেমা) সহ সকলে কোনো না কোনোভাবে গ্রুপে যুক্ত। ভবিষ্যতে সিনথেটিক ও পলিয়েস্টার ফ্যাব্রিকস–এ বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য: নতুন পণ্য ও বাজার এবং শীর্ষ রপ্তানিকারকের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।এই হলো বিক্রয়কর্মী থেকে শীর্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হয়ে ওঠার এক সাহসী ও প্রেরণামূলক যাত্রার গল্প—নুরুল ইসলাম ও তাঁর নোমান গ্রুপ।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page