৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
বায়েজিদে ইয়াবাসহ মা-ছেলে গ্রেফতার সাতকানিয়ায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রোর কর্মশালা অনুষ্ঠিত। বিয়ের প্রলোভনে সম্পদ আত্মসাৎ, প্রাণনাশের ঝুঁকিতে মৌসুমি জুলাই থেকে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস চট্টগ্রামে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নয়, পাওয়া গেল ৪ কোটি টাকার ইয়াবা লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং–এর ৬৮তম চার্টার বার্ষিকী উদযাপন খাগড়াছড়ি পানছড়িতে ৫ মে’র শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। পটিয়ায় প্রীতিলতার ১১৬তম জন্ম দিনে সংসদ এনাম। কাটিরহাট বাজারে জলাবদ্ধতা নিরসনে অভিযান, মোবাইল কোর্টে জরিমানা ২০ হাজার টাকা পটিয়া স্কুলের তালা ভেঙে ১৭টি সিপিইউ ভাংচুর ও ২টি মনিটর চুরি।
আন্তর্জাতিক:
লেবাননে ইসরাইলি হামলা ৩ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিহত ৫ জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে লড়াইয়ে ৪ শীর্ষ প্রার্থী মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপাকে ভারতের বিমান খাত: জ্বালানির আকাশচুম্বী দামে বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি লাহোর থেকে যাতি উমরা স্মৃতির অলিন্দে পাঞ্জাবের আতিথ্য তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি ডলার ও সুন্দরী স্ত্রী চাইলেন উগান্ডার সেনাপ্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না ইরান।। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় আহত ইরানি নেতা কামাল খারাজির মৃত্যু নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ ইরানের ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে নামবে নরক
     
             

৬৭ ঢাকা নিয়ে ঢাকায় আসা ব্যক্তি এখন ৮ হাজার ৫ কোটি টাকার মালিক

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক >>> চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম পারিবারিক আর্থিক সংকটে ১৯৬৮ সালে মাত্র ৬৭ টাকা পকেটে নিয়ে ঢাকায় আসেন। শুরু হয় তাঁর সংগ্রামী জীবন। রাজধানীর খিলগাঁওয়ের একটি মেসে মাসিক ১৫ টাকা ভাড়ায় থাকতেন। ইসলামপুরে দোকানে দোকানে পণ্য বিক্রি করে মাসে কমিশনে আয় করতেন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা।২. বিক্রয়কর্মী হিসেবে প্রথম কাজ ঢাকায় এসে তিনি তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট তৈয়ব আশরাফ টেক্সটাইল মিলস–এর বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ছিল মরিয়ম টেক্সটাইল, আরটেক্স ফ্যাব্রিকস, নাজনীন ফ্যাব্রিকস—যেখানে ক্যারোলিন গেঞ্জি, মশারি, ওড়না ও পলিয়েস্টার কাপড় বিক্রি করতেন তিনি। পাশাপাশি নিজের পছন্দে পণ্য তৈরি করে বিক্রি করে মূলধন জমাতে থাকেন।৩. মুক্তিযুদ্ধ ও নতুন শুরু ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ফিরে যান গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায়। সেখানেই তিনি বিয়ে করেন। যুদ্ধ শেষে ঢাকায় ফিরে এসে নতুন করে শুরু করেন জীবন। এ সময় আগের প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুরবস্থার কারণে কিছু কারখানা ভাড়ায় নিয়ে উৎপাদন শুরু করেন।৪. উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ (১৯৭৬) ১৯৭৬ সালে পাওনা আদায়ে ব্যাংকগুলো মরিয়ম, আরটেক্স ও নাজনীন ফ্যাব্রিকস নিলামে তুললে তিনি সেগুলোর যন্ত্রপাতি কিনে নেন। প্রথমে আরটেক্স ফ্যাব্রিকসের ৪টি মেশিন কিনে বিনিয়োগ করেন ৮ লাখ টাকা। তখন কর্মী ছিলেন ২২ জন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর উদ্যোক্তা জীবন। ওই বছরেই জন্ম নেন তাঁর বড় ছেলে নোমান।৫. নোমান গ্রুপের আত্মপ্রকাশ (১৯৮৭) ১৯৮৭ সালে বড় ছেলে এ এস এম রফিকুল ইসলাম নোমান–এর নামে প্রতিষ্ঠিত হয় নোমান গ্রুপ। মরিয়ম, আরটেক্স, নাজনীন ফ্যাব্রিকস–সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একত্রিত করে গড়ে ওঠে বৃহৎ এই শিল্পগোষ্ঠী। বর্তমানে গ্রুপের অধীনে ৩২টি কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে কিছু পরিবারের সদস্যদের নামেও প্রতিষ্ঠিত।৬. ব্যাংকবিমুখ শুরু, আত্মনির্ভর নীতি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত কোনো ব্যাংকঋণ না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন নুরুল ইসলাম। নিজেই কাঁচামাল, রঙ, নকশা, বিক্রি—সব কিছু সামাল দিতেন। এখনো প্রতিদিন ১৮–২০ ঘণ্টা পরিশ্রমে তিনি কোম্পানির পরামর্শক হিসেবে যুক্ত আছেন।৭. রপ্তানি যাত্রা ও জাবের অ্যান্ড জোবায়ের (২০০০) ২০০০ সালে শুরু হয় নোমান গ্রুপের রপ্তানি। জাবের ও জোবায়ের নামের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছেলের নামে প্রতিষ্ঠিত হয় জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফ্যাব্রিকস, যা হয় রপ্তানির মূল চালিকাশক্তি। প্রথম রপ্তানি হয় ৬৫ লাখ ডলারের বেডশিট। ২০১৮ সালে রপ্তানি দাঁড়ায় সাড়ে ১৬ কোটি ডলারে (প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা)।৮. শীর্ষ রপ্তানিকারক হিসেবে স্বীকৃতি এ পর্যন্ত নোমান গ্রুপ ৪৬টি জাতীয় রপ্তানি পদক পেয়েছে, যার মধ্যে ১১টি ছিল শীর্ষ রপ্তানিকারকের স্বীকৃতি। ২০১৬–১৭ অর্থবছরে শুধু জাবের অ্যান্ড জোবায়ের–ই পেয়েছে দুটি স্বর্ণপদক। গ্রুপের প্রত্যাশা, আগামী দুই বছরের মধ্যে তারা ৫০টি পদকের মাইলফলক স্পর্শ করবে।৯. সংকটকাল: গ্যাস সংযোগ না পাওয়ার ধাক্কা ২০০৯ সালে গাজীপুরে সাতটি নতুন কারখানা গড়ে তোলে গ্রুপটি। কিন্তু গ্যাস–সংযোগ না পাওয়ায় ৭ বছর উৎপাদন বন্ধ থাকে। তাতে শুধু সুদেই গুনতে হয় ২ হাজার কোটি টাকা। কেউ কেউ বিক্রি করার পরামর্শ দিলেও তাঁরা তা করেননি। অবশেষে ২০১৫ সালে গ্যাস–সংযোগ পেয়ে কারখানাগুলো চালু হয়।১০. তুলা সংকটে বড় ধাক্কা (২০১১) ২০১১ সালে বিশ্ববাজারে তুলার দামে অস্থিরতা দেখা দিলে গ্রুপটি ৮০০ কোটি টাকার লোকসানে পড়ে। তবুও ব্যাংকের চেয়ে নিজেদের অর্থে বিনিয়োগ নীতির কারণে তারা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।১১. ব্যবসার দর্শন: যা বুঝি না, তা করি না নুরুল ইসলাম দৃঢ়ভাবে বলেন, “যে ব্যবসা বুঝি না, তা করি না। সন্তানদেরও বলেছি, না বুঝে ব্যবসা কোরো না।” তিনি আরও বলেন, “পণ্যের গুণগত মান, চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন এবং অপচয় হ্রাসে আমাদের গুরুত্ব বরাবরই বেশি।”১২. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পারিবারিক অংশগ্রহণ বর্তমানে বড় ছেলে রফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক। অন্য তিন ছেলে ও একমাত্র মেয়ে (উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর–ই–ইয়াসমিন ফাতেমা) সহ সকলে কোনো না কোনোভাবে গ্রুপে যুক্ত। ভবিষ্যতে সিনথেটিক ও পলিয়েস্টার ফ্যাব্রিকস–এ বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য: নতুন পণ্য ও বাজার এবং শীর্ষ রপ্তানিকারকের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।এই হলো বিক্রয়কর্মী থেকে শীর্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হয়ে ওঠার এক সাহসী ও প্রেরণামূলক যাত্রার গল্প—নুরুল ইসলাম ও তাঁর নোমান গ্রুপ।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page