মোঃ আঃ লতিফ মিয়া সখিপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি >>> টাঙ্গাইলের সখিপুরে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক অস্বীকার করে ওই নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় স্বামী আবদুর রশিদসহ (২১) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সখিপুর থানা পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাজাইল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তরা হলেন স্বামী আবদুর রশিদ, আবদুর রশিদের বাবা আব্বাস উদ্দিন, তার মা চন্দ্র ভানু। আহত রোজিনা সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় রোজিনার বাবা বাদী হয়ে সখিপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের হারিঙ্গাচালা গ্রামের রোজিনা আক্তারের (২৭) সঙ্গে পাশ্ববর্তী হতেয়া রাজাবাড়ি ইউনিয়নের বাজাইল গ্রামের আব্বাস উদ্দিনের ছেলে আবদুর রশিদের (২৪) প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। পরে তারা আদালতে গিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিয়ের পর আবদুর রশিদ তার বিভিন্ন আত্মীয়ের বাড়িতে রোজিনাকে নিয়ে বেড়াতে যান। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয় বলে দাবি করেন রোজিনা আক্তার। পরে রোজিনা বধূবেশে রশিদের বাড়িতে উঠতে চাইলে রশিদ ও তার পরিবারের সদস্যরা সম্পর্ক অস্বীকার করেন। বৃহস্পতিবার স্ত্রীর মর্যাদা চেয়ে বিয়ের কাগজপত্র নিয়ে রশিদের বাড়িতে গেলে রোজিনাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। এতে রোজিনা গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলেই রোজিনার বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।মারধরের শিকার রোজিনা দাবি করেন, আমার কাছে কোর্ট ম্যারিজের কাগজপত্র, ভিডিও ও ছবিসহ আরও বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ আছে। ওরা আমাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।থানা হাজতে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত আবদুর রশিদ সমকালকে বলেন, ওই নারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমার সম্পর্ক হয়। পরে বেড়াতে গেলেi েসে ও তার লোকজন আমাকে আটকিয়ে মোবাইল এবং টাকা পয়সা কেড়ে নিয়েছে। একপর্যায়ে উকিল ডেকে এনে জোর করে কাগজে সই নিয়েছে। সে আমার বাড়িতে এসে ফাঁসি দিতে চেয়েছিল। এ কারণে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল।সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এসএম আবুল কাশেম সমকালকে বলেন, অভিযুক্ত তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার তাদেরকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হবে।


মন্তব্য