৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
চট্টগ্রামে শারদীয় দুর্গোৎসব: মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ প্রস্তুতি, নিরাপত্তার দাবি আয়োজকদের চট্টগ্রামে ধাওয়া করতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় পুলিশ কনস্টেবল নিহত পটিয়ায় ধলঘাট স্কুল এন্ড কলেজের, দিন দুপুরে ফ্যান চুরি। ঠাকূরগাঁওয়ে কুটির শিল্প উদ্যোতা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত। চলনবিল পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিয়ে ফরিদপুরে মতবিনিময় সভা রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিপুল পরিমান ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ১৪ ঘণ্টাতেও হয়নি তদন্ত কমিটি রুহিয়াতে পিঠে সোলার প্যানেল, মাথার ওপর ফ্যান—রোদে কৃষকের অভিনব কৃষিকাজ কক্সবাজার জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড কল্যান সভা অনুষ্ঠিত নগরকান্দায় ৯ নং লস্করদিয়া ইউনিয়নে কৃষক, দুস্হ মহিলা ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সেলাই মেশিন- -হুইল চেয়ার ও বালাইনাশক স্প্রে মেশিন বিতরণ
আন্তর্জাতিক:
নেপালে সাহসী সাংবাদিকতার জন্য শহীদুল ইসলাম বাবরকে ফুলেল শুভেচ্ছা সমাজসেবায় বিশেষ অবদান: স্বর্ণপদক ও সম্মাননা পেলেন নাহিদ উজ্জামান শিল্পী শিমলার মুকুটে নেপাল-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অনন্য স্বীকৃতি জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে থাকা ৫৩৪টিসহ ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের দীর্ঘ দাবি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত শিল্পী শিমলা নেপালে হিমবাহ ধসে বন্যা: নিহত ৩১, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সেবায় অটল ইউএনআরডব্লিউএ, কার্যক্রম বন্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান বদলাচ্ছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের চিত্র: দুবাইয়ের ট্রানজিট প্রবণতা ও নতুন ডিজিটাল নিয়ম
     
             

চট্টগ্রামে শারদীয় দুর্গোৎসব: মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ প্রস্তুতি, নিরাপত্তার দাবি আয়োজকদের

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম।।

শারদীয় দুর্গাপূজা কড়া নাড়ছে দরজায়।ঢাকের বাদ্য, কাশফুলের শুভ্রতা ও শিউলির গন্ধে চট্টগ্রামজুড়ে এখন শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ। নগর থেকে গ্রাম বাংলার সবখানেই চলছে প্রতিমা ও মণ্ডপ সাজানোর শেষ মুহূর্তের কাজ। তবে উৎসবের এই আনন্দের পাশাপাশি স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে একধরনের শঙ্কা ও উৎকণ্ঠাও কাজ করছে।বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর শাখার তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৫৬৮টি পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলায় ২ হাজার ২৭৪টি এবং মহানগরে ২৯৪টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় জেলায় ৭২টি এবং মহানগরে দুটি পূজা বেড়েছে।জেলা ও মহানগরের পূজার চিত্র: চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলার মধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আট উপজেলায় মোট ১ হাজার ৩৯৬টি (৭৯৬ প্রতিমা ও ৬০০ ঘট) এবং উত্তর চট্টগ্রামের সাত উপজেলায় ৮৭৮টি (৮৫৯ প্রতিমা ও ১৯টি ঘট) পূজার আয়োজন রয়েছে। একক উপজেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি ২৩৩টি প্রতিমা পূজা হচ্ছে রাউজানে। তবে প্রতিমা ও ঘট মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩১১টি পূজা হচ্ছে আনোয়ারা উপজেলায় (১১৪ প্রতিমা ও ১৯৭ ঘট)। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম ২৪টি পূজা হচ্ছে কর্ণফুলী উপজেলায়।মহানগরের ১৬ থানার মধ্যে কোতোয়ালি থানায় সবচেয়ে বেশি ৮৭টি এবং ডবলমুরিংয়ে সবচেয়ে কম ৪টি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোতোয়ালিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসবাস বেশি থাকায় এখানে পূজার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন নেতারা।পটিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার চিত্র ও স্থানীয়দের বক্তব্য: দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দুই উপজেলা পটিয়া ও চন্দনাইশেও শারদীয় উৎসবের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। পটিয়ায় এবার ২০১টি এবং চন্দনাইশে ১৩৫টি পূজার আয়োজন করা হয়েছে।পটিয়া উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দীপ্ত দেবনাথ বলেন, আমাদের পটিয়া অঞ্চলে উৎসবের আমেজ শুরু হয়ে গেছে, মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমার কাজ প্রায় শেষ। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কারণে আমাদের মনে সামান্য শঙ্কা কাজ করছে। আমরা চাই, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় উৎসবটি যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।চন্দনাইশ উপজেলার সনাতন ধর্ম সমাজের প্রতিনিধি প্রদীপ চৌধুরী জানান, “দুর্গোৎসব আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ উৎসব। এখানে শিশু, কিশোর থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়। আমরা চাই এই আনন্দ যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয়। উৎসবের দিনগুলোতে প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ও কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি জানাচ্ছি।প্রশাসনের প্রস্তুতি ও আয়োজকদের প্রত্যাশা:জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ এবং মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এড. নিখিল কুমার নাথ জানান, গত বছরগুলোর অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনার অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার আয়োজক ও প্রশাসন উভয়েই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। অতীতে ধর্মান্ধ বা উগ্র কোনো গোষ্ঠী যাতে পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে জন্য পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে আরও কঠোর নজরদারির আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে মণ্ডপকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের নিরাপত্তায় সুনির্দিষ্ট তালিকা ও সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন নেতারা।শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে চট্টগ্রামবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম সবসময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য মডেল। নগরীর প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও মন্দির এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা যাতে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে, আনন্দমুখর পরিবেশে এবং উৎসবমুখর আমেজে তাঁদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সর্বাত্মকভাবে সজাগ রয়েছে।তিনি আরও বলেন, উৎসবের আনন্দে কোনো দুষ্কৃতকারী বা উগ্র গোষ্ঠী যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব থানা ও ওয়ার্ড কমিটিকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং দর্শনার্থীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি আমাদের মাঠ পর্যায়ের টিমও কাজ করছে। চট্টগ্রামবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতায় অতীতের মতো এবারও একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সুন্দর শারদোৎসব উপহার দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।এদিকে সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানিয়েছেন, পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বসে প্রয়োজনীয় ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।সব মিলিয়ে, ঢাকের বাদ্য আর রঙিন আলোর রোশনাইয়ে চট্টগ্রামবাসী একটি আনন্দমুখর ও নিরাপদ শারদোৎসবের প্রত্যাশা করছে।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page