৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
রুহিয়াতে পিঠে সোলার প্যানেল, মাথার ওপর ফ্যান—রোদে কৃষকের অভিনব কৃষিকাজ কক্সবাজার জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড কল্যান সভা অনুষ্ঠিত নগরকান্দায় ৯ নং লস্করদিয়া ইউনিয়নে কৃষক, দুস্হ মহিলা ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সেলাই মেশিন- -হুইল চেয়ার ও বালাইনাশক স্প্রে মেশিন বিতরণ নিয়তি চলছে গাড়ি। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ: ডিসি কুড়িগ্রাম সদর সেনাই একদতাদুর্যোগের নষ্ট হয়ে যাওয়া রাস্তা এখনো অকেজো হয়ে আছে। ঠাকূরগাঁওয়ে সড়ক দূর্ঘটনা, ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত। কুতুবদিয়ায় ৩৭২ দরিদ্র-অসহায় মানুষের মাঝে প্রায় ৩০ লাখ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ পটিয়া হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন।
আন্তর্জাতিক:
নেপালে সাহসী সাংবাদিকতার জন্য শহীদুল ইসলাম বাবরকে ফুলেল শুভেচ্ছা সমাজসেবায় বিশেষ অবদান: স্বর্ণপদক ও সম্মাননা পেলেন নাহিদ উজ্জামান শিল্পী শিমলার মুকুটে নেপাল-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অনন্য স্বীকৃতি জিয়া ও খালেদা জিয়ার নামে থাকা ৫৩৪টিসহ ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের দীর্ঘ দাবি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফের ভাইরাল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সেই চ্যালেঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট; বাঙালির হৃদয়ে চির অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত শিল্পী শিমলা নেপালে হিমবাহ ধসে বন্যা: নিহত ৩১, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সেবায় অটল ইউএনআরডব্লিউএ, কার্যক্রম বন্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান বদলাচ্ছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের চিত্র: দুবাইয়ের ট্রানজিট প্রবণতা ও নতুন ডিজিটাল নিয়ম
     
             

কোমর তাঁত: গহীন পাহাড়ের ত্রিপুরা নারীদের আত্মনির্ভরতার প্রতীক

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

মোঃ সোহেল রানা, বান্দরবান প্রতিনিধি >>> কোমর তাঁত পার্বত্য অঞ্চলের নারীদের অন্যতম প্রধান উপার্জনের উৎস। কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নয়, সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে ঘরে ঘরে এই শিল্প গড়ে তুলেছেন পাহাড়ি ত্রিপুরা নারীরা। পার্বত্য অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল। সেই সঙ্গে অবসর সময়ে নারীরা কোমর তাঁতে পিনন, থামি, ওড়না ও মাফলার বুনে থাকেন।নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে অতিরিক্ত কাপড় সাপ্তাহিক হাটে বিক্রি করে তাঁরা বাড়তি আয় করেন এবং ক্রমশ সাবলম্বী হয়ে উঠছেন। কাঠ ও বাঁশের তৈরি কাঠির মাধ্যমে কোমরের সঙ্গে তাঁতটি বিশেষভাবে বাঁধা হয়, সেই থেকেই এর নাম ‘কোমর তাঁত’।বান্দরবান জেলা ও আশপাশের পর্যটন এলাকার কিছু দোকানে পাহাড়ি নারীদের তৈরি কোমর তাঁতের শাল, থামি, পিনন, চাদর, মাফলার ও জামাকাপড় বিক্রি হয়। এছাড়াও বান্দরবান, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এই ত্রিপুরা নারীদের তৈরি পণ্য সরবরাহ করা হয়।বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ২নং তারাছা ইউনিয়নের সিনাই পাড়ার ২নং ওয়ার্ডে বসবাসকারী স্থানীয় ত্রিপুরা নারীরা কোমর তাঁতে কাপড় বুনতে অত্যন্ত দক্ষ। তাঁরা বাজার থেকে সুতা, উলের সুতা ও পাহাড়ি তুলা সংগ্রহ করে ঘরে বসেই কাপড় বুনেন। নিজেদের পরিধেয় পোশাক তাঁরা নিজেরাই কোমর তাঁতে তৈরি করেন।গৃহস্থালি কাজ ও জুমচাষের পাশাপাশি অবসর সময়ে তাঁত চালিয়ে কাপড় তৈরি করেন এই নারীরা। একজন নারী চাইলে প্রতি মাসে কোমর তাঁতের মাধ্যমে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।তারাছা ইউনিয়নের সিনাই পাড়ায় সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, রুস্মাইতি ত্রিপুরা (৪৮) নামের এক নারী ঐতিহ্যবাহী ‘রিনাই’ নামের পোশাক বুনছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি মায়ের কাছ থেকে এই কাজ শিখেছেন এবং গত ৩৪ বছর ধরে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত আছেন। ঐতিহ্যবাহী এই পোশাক নিজেরা তৈরি করলেও অনেক সময় গ্রামের অন্যান্য নারীর অর্ডারেও পোশাক তৈরি করেন তিনি।প্রতিটি রিনাইয়ের দাম সুতার গুণমান অনুযায়ী ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। একটি রিনাই প্রস্তুত করতে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে।ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি সুনিল ত্রিপুরা জানান, “কোমর তাঁত বা উঠান তাঁতে তৈরি পণ্য—যেমন থামি (রিনাই), ওড়না (রিশা) ইত্যাদি—ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে এসব পণ্যের বাজারজাতকরণের কোনো কার্যকর সুযোগ নেই। সরকারি সহায়তায় বিপণনের সুব্যবস্থা না হলে এই শিল্প কেবল গৃহস্থালি পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।”দশকের পর দশক ধরে পাহাড়ি নারীরা এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের ব্যয়, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ—সবকিছুই আসে এই তাঁতশিল্প থেকেই।স্থানীয়দের পাশাপাশি পাহাড়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছেও কোমর তাঁতের পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তবে সে অনুযায়ী সরকারি সহায়তা না থাকায় অনেক নারী শিল্পী হতাশা প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page