আনোয়ার হোসেন, কিশোরগঞ্জ (নীলফামার) প্রতিনিধি >>> “পার করেছি আঠারো,পেরিয়ে যাব পাহাড়ও”এই স্লোগানে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির(সেল্প)এর উদ্যোগে স্বপ্নসারথি কিশোরীদের গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রীতম সাহা। আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি)এবিএম সারোয়ার রাব্বী, ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির সেল্প) এর জেলা ব্যবস্থাপক মাজেদুল হক সরকার, ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির (সেল্প)এর উপজেলা শাখার অফিসার মোখলেছুর রহমান ও সেল্প এর কমিউনিটি অর্গানাইজার সিন্দু রায় প্রমুখ। এছাড়াও ১০টি গ্রামের ১০টি স্বপ্ন সারথি দলের ২৫ জন গ্রাজুয়েট কিশোরী এবং অভিভাবক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানে সকল কিশোরীরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাছাড়া ব্র্যাকের স্বপ্ন সারথি দল কর্তৃক পরিচালিত একটি কার্যক্রম হিসেবে এটি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধসহ নানা জীবন দক্ষতামূলক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমি এই প্রোগ্রামসহ ব্র্যাকের সকল প্রোগ্রামের সাফল্য কামনা করছি। ভবিষ্যতেও ব্র্যাক এই উপজেলায় এই ধরণের সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহৃত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি স্বপ্নবাজ কিশোরীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, শুধু তোমরাই স্বপ্ন দেখছো না, আমরা নিজেরাও স্বপ্ন দেখছি। আমাদের স্বপ্ন তোমাদের নিয়ে। তোমরা একদিন স্বপ্ন পূরণ করে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এই উপজেলা তথা দেশের গর্ব হবে তোমরা।তোমাদেরকে দেখে অনেক মেয়ে স্বপ্ন দেখতে শিখবে। পরিশেষে তিনি সবার জীবনের মঙ্গল কামনা করেন। অপর দিকে স্বপ্নসারথি গ্রাজুয়েট কিশোরীরা বলেন, আজ আমাদের খুব আনন্দের একটি দিন। কারণ, ২ বছর ধরে আমরা শিখেছি কিভাবে নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে হয়। জীবন দক্ষতা মূলক ২৬টি সেশনে আন্তরিকতার সাথে অংশগ্রহণ করেছি। জেনেছি,স্বপ্ন পূরণ করতে হলে মন দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে।নিজের শরীর ও মনের যত্ন নিতে হয়, আবেগকে প্রশ্রয় না দিয়ে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে সাবধানে। হতে হবে স্বাবলম্বী। আমরা আত্মবিশ্বাসী হয়েছি। বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছি। আজ আমরা ঝুঁকিপূর্ণ জীবন পেরিয়ে ১৮তে পা রাখতে পেরেছি। গ্রাজুয়েট হয়েছি। আমরা যখন গ্রাজুয়েট হওয়ার আনন্দের অনুষ্ঠান করছি,তখন দেশের হাজার হাজার কিশোরী বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে। নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যাচ্ছে। খুন হচ্ছে। বাল্য বিয়ের বোঝা সইতে না পেরে আত্মহত্যাও করছে। এমন পরিস্থিতিতে ১৮পার হওয়া এক বিশাল অর্জন। পরে ইউএনও তাদের মাঝ গ্রাজুয়েটের প্রত্যয়ন পত্র ও “পার করেছি আঠারো, পেরিয়ে যাব পাহাড়ও” এ স্লোগানের লিপিবদ্ধ একটি করে মগ প্রদান করেন।











মন্তব্য