নিজস্ব প্রতিবেদক।। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া অংশের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান ফোরক মিয়ার বিরুদ্ধে।শুক্রবার (৮ মে)উপজেলার কেরানিহাট সাতকানিয়া রিসোর্টের অপজিটিভ, সরেজমিনে তদন্তকালে সরকারি জায়গা দখল করে পাকা দোকান নির্মাণের চাঞ্চল্যকর এই চিত্র উঠে আসে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, উপজেলার ঢেমশা মৌজার ২নং বিএস খতিয়ানভুক্ত জায়গাটি মূলত বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন। সেখানে প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছাড়াই প্রভাবশালী এই জনপ্রতিনিধি পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মহাসড়কের জায়গা এভাবে দখল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে রাস্তা প্রশস্তকরণসহ উন্নয়নমূলক কাজে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হবে। প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি সম্পদ দখল হলেও রহস্যজনক কারণে তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ফোরক মিয়া জানান, উক্ত জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। তিনি দাবি করেন,২০২০ সালে সরকার এই জমি বিএস রেকর্ড করে নিয়েছে। কিন্তু আরএস রেকর্ড অনুযায়ী আমরাই এর প্রকৃত মালিক এবং আমাদের কাছে বৈধ দলিল রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের এলএ (ভূমি অধিগ্রহণ) শাখায় আমাদের একটি অভিযোগ বর্তমানে বিচারপ্রক্রিয়াধীন। সড়ক বিভাগ আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি ভুলবশত বিএস রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের
উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অঃ দাঃ) সওজ, দোহাজারী,
আব্দুল্লাহ আল নোমান পারভেজ জানান,
মহাসড়কের জন্য নির্ধারিত জায়গায় কোনো ধরনের ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। বিএস রেকর্ড অনুযায়ী এটি সরকারি সম্পত্তি। ইতোমধ্যে কাজ বন্ধ করার জন্য আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান এ প্রসঙ্গে বলেন,মহাসড়কের জায়গা দখলের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরকারি জমিতে অবৈধ দখলদার যে-ই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহাসড়কের পাশে সরকারি জায়গায় এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয়। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই দখল উচ্ছেদ করে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা হোক।


মন্তব্য