বিএসপি আন্তর্জাতিক ডেস্ক >>> হরমুজ প্রণালির আকাশে উড্ডয়নের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন নিখোঁজ হয়েছে। এমকিউ–৪সি ট্রাইটন মডেলের ড্রোনটি উড্ডয়নের সময় জরুরি সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ভূপাতিত করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা নজরদারি মিশন শেষ করে ড্রোনটি ইতালির সিসিলিতে অবস্থিত নেভাল এয়ার স্টেশন সিগোনেলা ঘাঁটিতে ফেরার পথে ছিল।উড্ডয়নের সময় হঠাৎ ড্রোনটি ইরানের দিকের আকাশে কিছুটা মোড় নেয় এবং ‘৭৭০০’ কোড পাঠায়, যা সাধারণত জরুরি পরিস্থিতির আন্তর্জাতিক সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এরপর দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই রাডার থেকে হারিয়ে যায়।ড্রোনটি দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি কোনো পক্ষ এটি ভূপাতিত করেছে—এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।ঘটনাটি এমন সময় ঘটলো, যখন মাত্র দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ড্রোন এমকিউ–৪সি ট্রাইটন ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক ড্রোনগুলোর একটি। প্রতিটির মূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।প্রচলিত যুদ্ধবিমানের তুলনায় এই ড্রোন দীর্ঘ সময় আকাশে থেকে কৌশলগত নজরদারি পরিচালনা করতে পারে। বিশেষ করে সমুদ্রপথের গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ অঞ্চল বা ‘চোকপয়েন্ট’-এ টানা নজরদারির জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে।ড্রোনটি প্রায়ই পি–৮এ টহল বিমানের জন্য উচ্চ আকাশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন উপসাগরীয় অঞ্চলে নজরদারি জোরদার করতে এসব ড্রোন নিয়মিত মোতায়েন করা হয়।ড্রোনটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


মন্তব্য