আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্রসৈকত এলাকার ১ টি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জন তরুণ-তরুণীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে সৈকত সংলগ্ন সাগর ছাঁয়া হোটেলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই হোটেলে হানা দেন। আটককৃতদের মধ্যে ৭ জন যুবক ও ৭ জন যুবতী রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী ও বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। তাদের মধ্যে এক দম্পতিও রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল নোমান অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোটেলটিতে অভিযান চালিয়ে মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে হোটেলটির মালিক এহসান মুঠোফোনে দাবি করেন, পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁদের নিয়ে গেছে। আটককৃতদের কাছে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
পারকি সৈকত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাঁদের দাবি, সাগর ছাঁয়া হোটেলে দীর্ঘদিন ধরেই অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছিল। হোটেলের কর্মচারীরা সৈকতে আসা পর্যটকদের নানাভাবে প্রলুব্ধ করে হোটেলে নেওয়ার চেষ্টা করে, যা পরিবার নিয়ে আসা সাধারণ পর্যটকদের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে রয়্যাল কমিউনিটি সেন্টার ও সাগর ছাঁয়া হোটেলের ম্যানেজার তুলাশ দাশকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
হোটেলটির বিরুদ্ধে কেবল অনৈতিক কার্যকলাপ নয়, বরং ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে সড়ক নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।
সৈকত এলাকায় পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও পর্যটকেরা।


মন্তব্য