আব্দুল্লাহ আল মারুফ >>> চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলে বঙ্গোপসাগরে নোঙর করা একটি বিদেশি জাহাজে দুই নাবিকের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছুরিকাঘাতে রাফিপং কালহান (৩০) নামের এক থাইল্যান্ডের নাগরিক নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ৮টার দিকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।নিহত রাফিপং কালহান থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি কে.পি.পি-০১-এ ক্রু হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি থাই নাগরিক সান্যপং কালহানের ছেলে।বন্দর ও শিপিং এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, থাইল্যান্ডের ফুকেট বন্দর থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে গত ১১ মে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এমটি কে.পি.পি-০১। গত ১৭ মে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের আনোয়ারা অংশের ‘চার্লি এঙ্করেজ’ পয়েন্টে অবস্থান নেয়।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাহাজের অভ্যন্তরে দুই বিদেশি ক্রুর মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সহিংস মারামারিতে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে রাফিপং কালহান মারাত্মকভাবে জখম ও রক্তাক্ত হন।জাহাজে দুই বিদেশি নাবিকের মধ্যে মারামারির একপর্যায়ে রাফিপংকে ছুরিকাঘাত করা হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।-মো. সোহেল উদ্দিন, সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্ট কর্মকর্তা ঘটনার পর শিপিং এজেন্টের সহায়তায় দ্রুত ওই নাবিককে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:নিহতের মরদেহ বর্তমানে চমেক হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে।এটি যেহেতু বিদেশি জাহাজে দুই বিদেশি নাগরিকের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই আন্তর্জাতিক মেরিটাইম আইন ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ ছিল এবং অভিযুক্ত নাবিকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসকেও অবহিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


মন্তব্য