আনোয়ার হোসেন,কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)প্রতিনিধি >>> নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র ও আলোর দিশারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার বদলি জনিত বিদায় যেন একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি।স্বল্প সময়ে দেবদূতের মতো এসে তিনি মানবিক সেবা, নেতৃত্ব ও আন্তরিকতায় সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই কর্মকর্তার বিদায় এখন সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তৈরি করেছে এক গভীর শূন্যতা ও বেদনার অনুভূতি। তিনি শুধু সততা,নিষ্ঠার সাথে প্রশাসনিক দায়িত্বই পালন করেননি,বরং জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য,অবকাঠামো উন্নয়ন,বাল্য বিবাহ বন্ধ,বালু পাচাররোধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর হস্তক্ষেপে সর্বস্তরে সাড়া ফেলছেন। এছাড়াও এতিমখানা,আশ্রয়ন,বৃদ্ধাশ্রমে দুঃস্থ-অসহায় ও হতদরিদ্র লোাকদের বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়ানোয় তিনি প্রসংসায় ভাসেন। অপরাপর বিভিন্ন খাতে তার উদ্যোগ ছিল প্রশংসনীয়।বিশেষ করে যেকোন সংকটময় মুহূর্তে তার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে সাধারণ মানুষের কাছে এক আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলেছিল।নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ)আসনের স্মরণকালের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তিনি কর্মনিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। এজন্য রংপুর বিভাগীয় কমিশনার তাকে ডেকে নিয়ে দক্ষ সহকারী রিটাণিং কর্মকর্তার সন্মানে ভূষিত করেছেন। শুধু কি তাই, প্রতিভাবান এ ইউএনও ২০১০সালে চ্যানেল আই-লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সেরা দশে জায়গা করে নিয়েছিলেন। সুশীল সমাজের মানুষজন বলেন,কর্মময়ী নারী ইউএনও হিসেবে তিনি ছিলেন একজন সহজ-সরল ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা,যিনি সবসময় মানুষের কথা শুনতেন এবং সমস্যার সমাধানে আন্তরিক ছিলেন। তার বিদায়ে শুধু প্রশাসন অঙ্গনই নয়,পুরো উপজেলা জুড়ে এক ধরনের শূন্যতা নেমে এসেছে।পরিশেষে সুশীল সমাজের এ মানুষজন ইউএনও’র কর্মদক্ষতা,সততা ও মানবিক গুণাবলীর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তার ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করেন। গণমাধ্যম কর্মী নাজমুল হোসাইন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,আলোকিত ইউএনও হিসেবে তার কর্মের প্রতি ছিল একাগ্রতা,দায়িত্বের প্রতি ছিলেন নিষ্ঠাবান।তিনি কোন ক্ষমতার দম্ভ দেখাননি, উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের জন্য তার কার্যালয় ছিল উন্মুক্ত। যেকোনো শ্রেণী পেশার মানুষের কথা তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। সাধ্যমত নিয়মের মধ্য থেকে সমাধানের চেষ্টা করতেন। এছাড়াও সরকারি সকল গৃহিতপদক্ষেপসহ জাতীয় দিবস গুলো অত্যান্ত সুচারুভাবে পালন করেছেন। এমন একজন কর্মকর্তা বার বার পাওয়া যায় না। নতুন ইউএনওর আগমন যেমন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে, তেমনি বিদায়ী ইউএনওর স্মৃতি দীর্ঘদিন এলাকাবাসীর হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে। তার বিদায় যেন এক বেদনাঘন মুহূর্ত, যা স্মরণ করিয়ে দেয় দায়িত্বশীল নেতৃত্বের কথা। তার মতো একজন কর্মকর্তা হারানো সত্যিই কষ্টের। তার বিদায় উপজেলাবাসীর হৃদয়ে এক গভীর বেদনার ছাপ রেখে গেছে। তাঁর সকল কর্মে স্মরণীয় হয়ে থাকবে চিরকাল।বিদায়ী ইউএনও সোহানিয়া বলেন,আমি চেষ্টা করেছি সরকারি নির্দেশনা মেনে আমার দায়িত্ব পালন করেছি সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠা দিয়ে। আমার দায়িত্ব পালন করতে উপজেলার জনগণ ও সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা এবং সমর্থন ছিল। পেয়েছি সকলের নিরন্তন ভালবাসা। এই ভালোবাসার কাছে আমি ঋণী। এই এলাকার মানুষের সহযোগিতা ও শ্রদ্ধা আমি কখনো ভুলব না।সবমিলে এ উপজেলায় কাজ করতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপলক্ষ্যে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সোহানিয়া কিশোরগঞ্জের ইউএনও হিসাবে যোগদান করেন। এর আগে ২০১০ সালে তিনি লাক্স সুপারষ্টার ও ক্লোজআপ মিস বিউটিফুল খেতাব অর্জন করেন। যোগদানের প্রায় ৪ মাস পরেই তাকে বদলি করা হয়। তার পরবর্তী কর্মস্থল ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।নবাগত ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন,আরিফুর রহমান।


মন্তব্য