নিউজ ডেস্ক >>> বন বিভাগের চট্টগ্রাম সদরের সহকারী বন সংরক্ষক মারুফ হোসেন এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেন নেতৃত্বে বনবিভাগের লোকজন সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সীমান্ত এলাকায় বনবিভাগের আড়াই হাজার একর বন উদ্ধারের অজুহাতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা একটি লেকের বাঁধ কেটে দিয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে হঠাৎ এই বাঁধ কেটে দেওয়ায় স্থানিয় বাসিন্দাদের শুস্ক মৌসুমে প্রায় ৬০/৬৫ টি কাঁচা ঘর ও তাদের ক্ষেতের ফসল সহ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে স্থানিয় বাসিন্দাদের সমুহ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্থরা। ৩ ফেব্রুয়ারি’২০২৪ ইং শনিবার বনবিভাগের লোকজন এই বাঁধ কেটে দেয় বলে জানা গেছে। এ সময় বন বিভাগের প্রায় ৫০/৬০ জন বনকর্মী ও ২০/৩০ জন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।
অপরিকল্পিতভাবে হঠাৎ লেকের বাঁধ কেটে দেওয়ার ফলে লেকের পানিতে প্লাবিত হয়ে তলিয়ে গেছে উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক। হাট-বাজার, স্কুল মাদ্রাসায়ও পানি উঠেছে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছে, হঠাৎ পানিতে প্লাবিত হয়ে নষ্ট হয়েছে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল। ভেঙে গেছে প্রায় ৫০/৬০টি কাঁচা ঘরবাড়ি। অসংখ্য কৃষকের হাজার হাজার হেক্টর বোরোধান সহ আলু, মরিচ, শসা ক্ষেতসহ শীতকালীন সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, ভেসে গেছে মৎস্য খামারের মাছ।
সোনাকানিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, ৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রচন্ড গর্জন দিয়ে এলাকায় পানি প্রবেশ করে সবকিছু প্লাবিত করে দেয়। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন বিশ্বাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরাফাত সিদ্দিকী, কৃষি কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস জানিয়েছেন, লোহাগাডা উপজেলার বনভূমি অবৈধভাবে দখল করে বাঁধ তৈরির একটি সংবাদ গণমাধ্যমে দেখেছি, এরপর বনবিভাগ ঐ বাঁধটি কেটে দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবে ঐ লেকের বাঁধ কেটে দেওয়ার ব্যাপারে ইউএনও জানেননা এবং তাঁকে অবহিত না করেই অপরিকল্পিতভাবে বাঁধটি কেটে দিয়েছে বলে জানান তিনি। হঠাৎ বাঁধটি কেটে দেওয়ার ফলে উপজেলার সোনাকানিয়া সহ পার্শ্ববর্তি এলাকার অংশ বিশেষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্বিকার করেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস। পানিতে প্লাবিত হয়ে শতাধিক মৎস্য খামারের মাছ ভেসে যাওয়া, দোকানের মালামাল নষ্ঠ সহ ৫০/৬০টি কাঁচা ঘরবাড়ি, রাস্তা-ঘাট ও একটি স্লুইস গেইট ভেঙে যাওয়ার বিষয় নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা। তবে লেকের পানির প্লাবনে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমান নির্ণয়ে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে বলেও জানান তিনি। প্রাথমিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩ মেট্রিকটন চাল ও ১৫০টি কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এভাবে অপরিকল্পিত ভাবে বাঁধ কেটে লাখো মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ও ভোগান্তিতে ফেলা অমানবিক, অবিবেচক ও অযৌক্তিক বলেও মন্তব্য করেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা। এ বিষয়ে যথার্থ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাঁছে জানাবেন বলেও আশ্বাষ দেন তিনি।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুনের কাঁছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বন বিভাগের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করতে বাঁধ কেটে পানি ছেড়ে দেওয়া ছাড়া অন্য কোন বিকল্প ছিলোনা বলে জানান তিনি। পানির স্রোত প্রবাহের ছোট একটা রাস্তা করে দেওয়া হলেও রাতে পানির অতিরিক্ত স্রোতের তোড়ে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি। ঘরবাড়ি ভেঙ্গে যাওয়া, ফসলি জমি তলিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির ব্যাপারে জানতে চাইলে আল মামুন মাত্র ৫টি বাড়ি ভেঙে যাওয়ার এবং অল্প পরিমাণ কৃষি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানান।


মন্তব্য