সখিপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি।। টাঙ্গাইলের সখিপুরে কুকুরের কামড়ে ১০ শিশু ও ১২ জন নারীসহ ৫৪ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর একজনকে ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গত রোববার দুপুর ২টা থেকে ও গতকাল সোমবার ২টা পর্যন্ত সখিপুর পৌরসভাসহ উপজেলার কমপক্ষে ১৫-২০ গ্রামে একটি জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুর এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে।কুকুরের কামড়ে আহত গ্রামগুলো হচ্ছে সখিপুর পৌর শহরের সানবান্দা, বিজ্ঞানাগার, বাগানচালা, ময়থাচালা, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কানার মোড় এলাকা। উপজেলার গ্রামগুলো হচ্ছে দেবলচালা, আন্ধি, কালিয়া, ঘোনারচালা, কচুয়া, আড়াইপাড়া দামিয়া, হামিদপুর, বাঘের বাড়ী, জোয়াইরপাড়া, মহানন্দপুর, কাহারতা।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গতকাল বেলা দুইটার দিকে কালিয়া ইউনিয়নের দেবলচালা গ্রামের আব্দুর রশিদসহ কয়েকজন নারী ও শিশুকে কামড় দিয়ে সখিপুর পৌর শহরের দিকে ঢুকে। এরপর আন্ধি থেকে পৌর শহরের কানার মোড় পর্যন্ত কমপক্ষে ২০ জনকে কামড় দেয়। গত রোববার রাত ১০টার দিকে কুকুরটি দৌড়ে কাহারতা গ্রাম হয়ে কচুয়া চলে যায়। এরপর গতকাল সোমবার সকালের দিকে কুকুরটি কালিয়া, ঘোনারচালা ও সর্বশেষ দামিয়া গ্রামের বেশ কয়েকজন নারী ও শিশুকে কামড়ায়। আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জন শিশু ও ১২ জন নারী রয়েছে। দুদিনে আহতদের মধ্যে ৫৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ঘেঁটে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও অন্তত ১০-১৫ জন বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে স্থানীয় নানা সূত্রে জানা গেছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন নোমান (৯), আরবি (৪),শাজাহান (৫৫), ফাহাদ (১৮), জান্নাত (৯), রাশেদা বেগম (৫০), জয়নাল (৬০), শামসুল আলম (৪৮), নদী আক্তার (২৪), আব্দুর রশিদ (৬০), সোয়ামনি (৯), সাজিদ (৯), ফজলু মিয়া (৩৫), হিমেল (২১), শামীম (১৫), জালাল মিয়া (৪০), উহান (৫), রুবেল মিয়া (৩২), দীপ্ত খান (১৫), সোহাগ (১৫), রায়হান (৪৫), শফিকুল (৪০), মামুন (১৮), হোসেন আলী (২৮), চান মিয়া (২৬), জাহাঙ্গীর আলম (৫০), বিমলা (৪৫), খাদিজা বানু (৬০), আলেয়া বেগম (৫০), ফাতেমা (৪৫), তালেব আলী (৭০), মারুফ (২৫), ছোয়ামনি (৩), হাসান আলী (৪৫), হাজেরা খাতুন (৪০), সিফাত (১১), জুলহাস উদ্দিন (৭০), শাহেদা বেগম (৬০), মোতালেব মিয়া (৩৫), খন্দকার হাবিবুর (৫০), লাকি আক্তার (৩৫), মেহেরান বেগম (৬০), ইয়ামিন (২), অর্পণ সরকার (৯), জান্নাতী (৮), নুরুল ইসলাম (৪৫), সোকছেদ আলী (৬০)। এদের মধ্যে গুরুতর আহত আবদুর রশিদকে ঢাকার মহাখালীর সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান।গতকাল সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় কথা হয় কালিয়া ঘোনারচালা গ্রামের খন্দকার হাবিবুরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ সকালে আমি আমার নাতনিকে স্কুলে নিয়ে গিয়েছিলাম। বাড়িতে ফেরার পথে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুর এসে আমার নাতনিকে কামড় দেয়। ফেরাতে গেলে আমাকেও কামড় দেয়। চিৎকারে লোকজন লোকজন ছুটে এলে কুকুর তাদেরও কামড়ায়।একই গ্রামের মেহেরান বেগম নামের আরেক আহত বয়স্ক নারী বলেন, ইয়ামিন নামের দুই বছরের নাতনিকে কোলে নিয়েছিলাম। এ সময় কুকুরটি লাফ দিয়ে নাতনিকে কামড় দেয়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আমাকেও কামড় দেয়।দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের কর্মীরা আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। খারযুক্ত সাবানপানি দিয়ে ক্ষতস্থান ধুয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে দেওয়া হচ্ছিল ভ্যাকসিন।জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীমা আহমেদ বলেন, প্রত্যেককে একাধিক স্থানে কুকুর কামড়িয়েছে। কামড়ের ক্ষতগুলো বেশ গভীর। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে বয়স্ক নারী পুরুষ ও শিশু রয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রনী বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক। গ্রামবাসী উদ্যোগ নিয়ে ক্ষ্যাপা কুকুরটিকে মেরে ফেলা উচিত ছিল।


মন্তব্য