আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পরৈকোড়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কোদলা খালে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। বিষক্রিয়ায় খালের বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ মরে ভেসে উঠেছে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত রবিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোদলা খালটি দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য বেশ সমৃদ্ধ। এখানে নিয়মিত চিংড়ি, কোরাল, শোল ও চিরিংসহ হরেক রকমের মাছ পাওয়া যায়। এই খালের সুস্বাদু মাছের আকর্ষণে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে শৌখিন ও পেশাদার মৎস্য শিকারিরা আসেন। কেউ জাল বা বড়শি দিয়ে মাছ ধরলেও সম্প্রতি একদল অসাধু চক্র বিষ প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে। এতে খালের ছোট-বড় সব মাছ নিধন হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।তবে মাছ মারা যাওয়ার বিষয়ে ভিন্ন একটি মতও পাওয়া গেছে। কারো মতে, রাতের অন্ধকারে দলবদ্ধ শিকারিরা জাল দিয়ে মাছ ধরায় খালের পানি অত্যাধিক ঘোলাটে হয়ে অক্সিজেনের সংকট তৈরি হতে পারে। এই অক্সিজেন স্বল্পতার কারণেও মাছ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মৃত মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট হালদা নদী গবেষক ড. মো. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন,বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা কেবল অমানবিক নয়, এটি দেশের নদ-নদীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ। রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে মাছ শিকার সম্পূর্ণ অবৈধ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে জলজ প্রাণিকুল ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি বিষাক্ত মাছ খাওয়ার ফলে মানবস্বাস্থ্যের বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।খবর পেয়ে আনোয়ার উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হক জানান, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং পরীক্ষার জন্য মৃত মাছের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তিনি আরও বলেন, তদন্তে বিষ প্রয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।বর্তমানে এ ঘটনায় স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মাঝে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিবেশবাদীরা অবিলম্বে অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


মন্তব্য