আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। ঢাকা সম্প্রতি রাজনীতির মাঠে নামা নিয়ে বিনোদন ও রাজনৈতিক পাড়ায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মাধ্যমে তার এই রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি, তবে রাজপথের লড়াইয়ে বিএনপির সঙ্গেই থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই অভিনেত্রী।
কেন একজন অভিনয়শিল্পী বা নারী হয়ে তাকে রাজনীতিতে আসতে হলো-সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন নানা আলোচনা ও নেতিবাচক মন্তব্যের মুখে এবার সরব হয়েছেন তিনি। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ বার্তায় রাজনীতিতে আসার পেছনের কারণ ও তার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য স্পষ্ট করেছেন চমক।
রাজনীতি নোংরা লোকের কাজ-এই ধারণা ভাঙতে হবে চমক তার পোস্টে উল্লেখ করেন, দেশের সুস্থ পরিবর্তনের জন্য ভালো মানুষের রাজনীতিতে আসা জরুরি। তিনি বলেন,দেশের সব ভালো মানুষ যদি এটা চিন্তা করে বসে থাকে যে, রাজনীতি নোংরা লোকের কাজ, তাহলে কোনোদিন রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলাবে না। ফলে দেশও বদলাবে না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ভালো মানুষদের নিরুৎসাহিত করতে একটি অসাধু চক্র কাজ করে। তার মতে, শিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তিরা রাজনীতিতে এলে যাদের দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে, তারাই মূলত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছড়িয়ে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করে।
রাজনীতিই দেশসেবার বড় মঞ্চ,দেশের সেবা করতে হলে রাজনীতিই একমাত্র পথ কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে চমক বলেন, দেশের জন্য কাজ করার অনেক উপায় থাকলেও রাজনীতিই হচ্ছে জনসেবার সবচেয়ে শক্তিশালী ও বড় প্ল্যাটফর্ম। ভালো মানুষরা এই ময়দান থেকে দূরে থাকলে পরোক্ষভাবে দেশেরই ক্ষতি হবে বলে তিনি মনে করেন।
অভিনেত্রী চমক তার লেখায় দেশের রাজনীতিতে নারীদের প্রতিবন্ধকতার বিষয়টিও সাহসের সাথে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান:দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী হলেও সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব এখনো নগণ্য।
প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক পরিবার ছাড়া সাধারণ নারীদের রাজনীতিতে আসা অত্যন্ত কঠিন।নতুন কোনো নারী রাজনীতিতে এলে তাকে নানা কুরুচিপূর্ণ তকমা দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।তিনি বলেন, নারীদের জন্য একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যারা নতুন বা বহিরাগত হিসেবে রাজনীতিতে আসছেন, তাদের পথ রুদ্ধ করতেই কিছু অসৎ লোক সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্তা করে থাকে।
সবশেষে রুকাইয়া জাহান চমক জানান, কেবল শখের বশে নয় বরং দেশের সামগ্রিক অবস্থা পরিবর্তন, নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নারীদের ক্ষমতায়নে অনুপ্রেরণা দিতেই তিনি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। তার এই সাহসী অবস্থানকে ভক্তদের একটি অংশ সাধুবাদ জানালেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন আগামীর রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের শিক্ষিত নারীদের অংশগ্রহণের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে।


মন্তব্য