দুই মাস আগেও সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে তেমন আলোচনা ছিল না। তবে বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রাতারাতি তার জীবন বদলে দিয়েছে। বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ হাতছাড়া করা ৩৪ বছর বয়সী এই রেফারি এখন ইউরোপের ফুটবল মঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রে। উয়েফা সুপার কাপের ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি বর্তমানে অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গে অবস্থান করছেন। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগ দিতে মিয়ামিতে গিয়ে মার্কিন সীমান্ত কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়েন ওমর। ভিসা জটিলতা ও ‘যাচাই-সংক্রান্ত উদ্বেগ’-এর কারণে তাকে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। এমনকি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকেও এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যদিও তিনি বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব না দিয়ে সমালোচকদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। নিজের সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে উয়েফাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওমর বলেন, দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের পর লক্ষ্যের এত কাছে পৌঁছেও তা হাতছাড়া হওয়া যেকোনো পেশাদার ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। তবে বিশ্বকাপের সেই হতাশা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই তার জন্য খুলে যায় নতুন দুয়ার। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ)-এর সঙ্গে আলোচনার পর উয়েফা তাকে সুপার কাপের ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন এক বিবৃতিতে ওমরকে আফ্রিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেকে প্রমাণ করা তরুণ ও অভিজ্ঞ রেফারি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ওমর আরতান প্রথম সোমালি রেফারি হিসেবে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল পরিচালনা করেছেন। ২০২৫ সালে বর্ষসেরা আফ্রিকান রেফারি নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৬ বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়াটা তার ক্যারিয়ারের বড় অর্জন ছিল, কিন্তু ভিসা জটিলতায় সেই স্বপ্ন বাধাগ্রস্ত হয়। এবার ইতিহাসের প্রথম নন-ইউরোপীয় রেফারি হিসেবে সুপার কাপের ফাইনাল পরিচালনার মাধ্যমে তিনি নতুন নজির গড়তে যাচ্ছেন। সিএএফ সভাপতি প্যাট্রিস মোতসেপে এই নিয়োগকে আফ্রিকান রেফারিদের জন্য বড় সম্মান এবং ফুটবলের মাধ্যমে মানুষকে একত্র করার চমৎকার দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ওমর বলেন, এটিই হবে ইউরোপে তার পরিচালিত প্রথম ম্যাচ। আগামী বুধবার সালজবুর্গের রেড বুল অ্যারেনায় চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী পিএসজি ও ইউরোপা লিগজয়ী অ্যাস্টন ভিলার মধ্যকার ফাইনালে সম্পূর্ণ আফ্রিকান রেফারিং দলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
২০২৫ সালের বর্ষসেরা আফ্রিকান রেফারি নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৬ বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া; সব মিলিয়ে সময়টা দারুণ কাটছিল ওমরের।
মাঝে বিশ্বকাপে না যেতে পারার সেই ধাক্কাটা আসে।
সূত্র: মানবজমিন


মন্তব্য