নেপালে বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমবাহের বরফ ও পাথরের ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে বিদেশি পর্যটকসহ আরও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন গ্রাম ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের তালিকায় ৩৮৪ জন পর্যটক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ২৯১ জন নাগরিক অন্তর্ভুক্ত।
স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টার দিকে ভোটেকোশি নদীর পানি উপচে পড়লে এই বিপর্যয় ঘটে। এতে বেশ কয়েকটি গ্রাম, সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংস হয়ে যায়। নেপাল সরকারের মুখপাত্র অসমিত পোখারেল জানিয়েছেন, উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে তারা ভারত ও চীনের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি নুয়াকোট জেলায় বহু বহুতল ভবন, ট্রাক ও ভ্যান বিপুল পরিমাণ কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছে। এছাড়া ভোটেকোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নিখোঁজ পর্যটকদের বেশিরভাগই ভারতীয় নাগরিক বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত বলে ধারণা করছে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড। তারা তিব্বতের কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে কর্মরত তাদের দেশের নাগরিকরাও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাঠমান্ডুতে তাদের দূতাবাস ১১ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পেয়েছে, যারা সম্ভবত রাসুয়া জেলায় অবস্থান করছিলেন।
কাঠমান্ডুভিত্তিক জলবায়ু গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভোটেকোশি নদীর শাখা নদী লেন্দে খোলায় বুধবার সর্বোচ্চ মাত্রার বন্যা দেখা দিয়েছে। এর সম্ভাব্য কারণ হিমবাহ থেকে সৃষ্ট তুষার ও পাথরের ধস। উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টেও একই অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় নয়জন নিহত হয়েছিলেন এবং নেপাল-চীন সংযোগকারী সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেবার পার্শ্ববর্তী তিব্বতের পাহাড়ি অঞ্চলে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে হিমবাহ-হ্রদের পানি উপচে পড়েছিল।
সূত্র: মানবজমিন


মন্তব্য