কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া দুই সাংবাদিকের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার বিকেলে ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা শাওন নামের ওই যুবককে রাত ৩টার দিকে সদর দক্ষিণের বিজয়পুর এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আটক করা হয়। ধৃত শাওন ওই এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার দুপুরে, যখন যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি তানভীর দীপু এবং স্টার নিউজের আবদুল্লাহ আল মারুফ সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে লালমাইয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সদর দক্ষিণের উত্তর রামপুরের মিস্ত্রীপুকুর পাড় এলাকায় যানজটে আটকা পড়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি। সাংবাদিক তানভীর দীপু যানজট নিরসনে এগিয়ে গিয়ে লোহার বেরিকেড সরাতে সহায়তা করছিলেন। এ সময় শাওন নামের ওই যুবক অকারণে তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ধাক্কা দেয়।
সাংবাদিক তানভীর দীপু জানান, পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য সহকর্মী মারুফ এগিয়ে এলে শাওন রড হাতে নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়। স্থানীয়রা তাকে সরিয়ে নিলেও কিছুক্ষণ পর সে পেছন থেকে অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে মারুফ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং তানভীর দীপুকেও লাঞ্ছিত করা হয়। এই হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর ডিবি পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে এবং ১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।
আসামি গ্রেপ্তারের পর কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু জেলা পুলিশ সুপার ও ডিবি পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অপরাধীরা দ্রুত আইনের আওতায় আসায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর হবে এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলার ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস কেউ পাবে না। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই আসামি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে ছিল, তবে গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাকে সদর দক্ষিণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাত প্রায় ৩টায় তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় আমরা ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অপরাধীরা আইনের আওতায় আসলে দ্রুতই অপরাধ কমে আসবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময় আমরা পদুয়ার বাজার মোড়ে যান জোর দেখে উত্তর রামপুর বিদ্যুৎ অফিসের সামনের সড়ক দিয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কে উঠতে যাচ্ছিলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময় সড়কের সামনে স্থানীয়দের তৈরি করা লোহার বেরিকেড এর মধ্যে কয়েকটি গাড়ি আটকে পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে করে সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে আমি যানজটের কারণ জানতে সামনে এগিয়ে যাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে লোহার বেরিকেডটি উপরের দিকে ধরে একটি একটি করে গাড়ি সরে যেতে সহযোগিতা করি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরই মধ্যে স্থানীয় শাওন নামের এক যুবক এসে কেন যানজট নিরসন করছি ও মানুষকে চলে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছি এটি নিয়ে আমার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে যায়।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ


মন্তব্য