আব্দুল্লাহ আল মারুফ নিজস্ব প্রতিবেদক >>> বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপজনিত ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলা’ মোকাবেলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় ঘূর্নিঝড় মোকাবেলায় বিশদ আলোচনার পর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।১৬ নভেম্বর’২৩ ইং বৃহস্পতিবার রাত ৮.০০ টায় জুম এ্যাপ্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। সভায় চট্টগ্রাম জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দপ্তর প্রধান, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন এনজিও, গণমাধ্যমকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় জেলা প্রশাসক আসন্ন ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকার পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ উপজেলা পর্যায়ে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও নগদ অর্থের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে মর্মে মতামত প্রদান করেন। এছাড়াও কারিতাস, ব্র্যাক, ব্যুরো বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন বেসরকারী এনজিও সংস্থা দুর্যোগ মোকাবেলায় তাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আছে বলে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান তাঁর আলোচনায় জরুরি সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে হাসপাতাল, বিদ্যুৎ,গ্যাস, পানি ও সিটি কর্পোরেশনে কন্ট্রোল রুম খোলা, উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা আয়োজন, স্ব স্ব এসওপি অনুযায়ী সকল দপ্তরের কার্যক্রম গ্রহণ, বিভিন্ন এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যমকে দুর্যোগ মোকাবেলায় অংশগ্রহণ, উপকূলবর্তী ও পাহাড়ি এলাকায় মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং কার্যক্রম চলমান রাখা, যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার সাথে ও জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের নাম্বারে যোগাযোগ রাখার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন।এছাড়াও জেলা প্রশাসক আরও জানান, চট্টগ্রাম মহানগরে ১১৬টি ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪৯৩ টি সহ মোট ৬০৯ টি আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রস্তুত রাখার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ, জেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদেরকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।সভাপতির নির্দেশক্রমে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জেলার ত্রাণসামগ্রী মজুদ পরিস্থিতি সভায় উপস্থাপন করেন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে জেলা প্রশাসনের নিকট ত্রাণকার্য বাবদ নগদ ২২,৩০,০০০ টাকা, চাল ২৪৪ মেঃ টন, গো-খাদ্য ৬,৮০,০০০ টাকার, শিশু খাদ্য বাবদ ৬,৮০,০০০ টাকা, শুকনো খাবার ৪৭২ ব্যাগ, কম্বল ১০০০ পিস এবং ওরস্যালাইন ৪৭,০০০ প্যাকেট মজুদ আছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি পর্যালোচনাক্রমে প্রয়োজনের নিরিখে এসব সামগ্রী দ্রুত বরাদ্দ প্রদান করা হবে বলেও জানান ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা।জেলা প্রশাসক বলেন, ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে বিভিন্ন টিম মাইকিং শুরু করেছেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে, পাশাপাশি শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ঔষধ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সকল দফতর ও সংস্থার সাথে সমন্বয় রক্ষা করে সকল পর্যায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলেও জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মহোদয়।


মন্তব্য