আব্দুল্লাহ আল মারুফ নিজস্ব প্রতিবেদক>>> বিগত সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা জমে উঠেছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায়।চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় আলোচনার ঝড় বইছে বলে জানা গেছে। বৃহত্তর চট্টগ্রাম ১৫টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা চাঙা হয়ে উঠেছে। উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা না থাকলেও এবার আওয়ামী লীগে প্রার্থীদের ছড়াছড়ি হতে পারে বলে ধারণা করছে জনসাধারণ।বিরোধী দলীয় বিএনপি এবং অন্য দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন,যেখানে আওয়ামী লীগের লোকজনই নিরপেক্ষ ভোট নিয়ে শঙ্কিত, সেখানে অন্য দলের নেতাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বাঁশখালী, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, পটিয়া, কর্ণফুলী, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে,এবার নির্বাচন সামনে রেখে সরকারদলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশলে দলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সংসদ-সদস্য ও পরাজিত প্রার্থীদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ।এদিকে নেতাদের নিজস্ব ভোট ব্যাংকের ওপর ভরসা করে তারা নির্বাচন করতে চান। পাশাপাশি তারা এলাকার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী হওয়ার কথা জানান দিচ্ছেন।বাঁশখালীতে আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গালিব চৌধুরী, মোজাম্মেল হক সিকদার, খোরশেদ আলম, আওয়ামী লীগ নেত্রী রেহেনা আক্তার কাজেমী, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইয়ামুন নাহার, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজ উদ্দিন সুমন প্রমুখ। এর বাইরেও অনেক নেতা রয়েছেন।সাতকানিয়া উপজেলায় বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।তাদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বিএমএ-এর কেন্দ্রীয় নেতা ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী ও সালাহ উদ্দীন চৌধুরী। ডা. মিনহাজুর রহমান বলেন, নেতাদের দ্বন্দ্বের কারণে সাতকানিয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং সুশাসনের কাক্সিক্ষত বিষয়টি অধরা থেকে গেছে। কিন্তু সংসদ-সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান সমন্বয় করে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে বাধ্য। অতীতে এটা হয়নি।লোহাগাড়া উপজেলায় একাধিক প্রার্থী তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে তারা যোগদান করছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন,লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন হিরুসহ অনেকে।চন্দনাইশে নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করায় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ করা যাচ্ছে। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কাশেম ওরফে কাজরি কাশেম, চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ চৌধুরী জুনু, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক, বরকল ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ও জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট কামেলা খানম রূপা, কেন্দ্রীয় যুবলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মীর মো. মহিউদ্দিন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা লায়ন নজরুল ইসলাম প্রমুখ নির্বাচন করতে পারেন। পটিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের অর্ধডজন নেতা প্রার্থী হতে চান। তাদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্মসম্পাদক বদিউল আলম বদি, পটিয়া উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তিমির বরণ চৌধুরী, সাবেক পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফারুক, পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম শামসুজ্জামান, সুচক্রদণ্ডী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাংস্কৃতিককর্মী মোহাম্মদ ছৈয়দ, বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম, মহানগর যুবলীগ নেতা দিদারুল আলম দিদার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট নেতা সাজ্জাদ হোসেন।এদিকে হাটহাজারী উপজেলায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম রাশেদুল আলম, হাটহাজারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সোহরাব হোসেন চৌধুরী নোমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্মসম্পাদক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক বোর্ড সদস্য ইউনুস গনি চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, পরিবহণ মালিক সমিতির নেতা মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী মঞ্জু, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য জসিম উদ্দিন শাহ প্রমুখের নাম শোনা যাচ্ছে।অপরদিকে রাঙ্গুনিয়ায় একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা স্বজন কুমার তালুকদার, সাবেক চেয়ারম্যান এবং উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মুহাম্মদ আলী শাহ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য এবং উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কামরুল ইসলাম চৌধুরী, উত্তর জেলা কৃষক লীগের সভাপতি এবং বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার প্রমুখ।


মন্তব্য