২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
অ্যামোনিয়া নেই, উৎপাদনও নেই—বন্ধ ডিএপি প্ল্যান্ট ইছামতি নদীর ভাঙন রোধে ব্লক স্থাপনের উদ্যোগ, রাঙ্গুনিয়ায় পরিদর্শন প্রতিনিধি দলের পটিয়ায় হামের টিকাদান শুরু। কুমিল্লার দেবিদ্বারে ওয়াহেদপুর সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে সেলাইমেশিন বিভিন্ন উপহার ও নগদ অর্থ বিতরণ। অ্যামোনিয়া সংকটে বন্ধ হয়ে গেল চট্টগ্রামের ডিএপি সার কারখানা পানছড়িতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ঝড়ের ক্ষত মুছতে রেড ক্রিসেন্ট, আদিতমারীতে অসহায়দের পাশে মানবিক সহায়তা চট্টগ্রামে ৭ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা, শুরু ২০ মে ঈদগাহ দিঘির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব, প্রতিপক্ষের সাংবাদিক সম্মেলনের প্রতিবাদে গ্রামবাসীর সাংবাদিক সম্মেলন চাটখিলে এসএসসি/দাখিল পরীক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ
আন্তর্জাতিক:
তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি ডলার ও সুন্দরী স্ত্রী চাইলেন উগান্ডার সেনাপ্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না ইরান।। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় আহত ইরানি নেতা কামাল খারাজির মৃত্যু নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা ছিল বলে অভিযোগ ইরানের ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ না খুললে নামবে নরক ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ হরমুজ: ভূ-রাজনীতির অগ্নিপথ ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উদ্বেগ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: মার্কিন কোষাগারে বিপুল খরচের বোঝা ৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ: নাসার আর্টেমিস-২ অভিযানের সফল শুরু সমুদ্রতলের ডিজিটাল ধমনী ও ইরান-মার্কিন সংঘাত: বিশ্ব অর্থনীতি কি ধসের মুখে
     
             

চট্টগ্রামের সুপারশপগুলোতে বন্ধ হয়নি পলিথিনের ব্যবহার

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

ইমাম ইমু চট্টগ্রাম >>> পরিবেশের ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে গত ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপগুলোতে পলিথিন বা পলিপ্রপিলিনের ব্যাগ ব্যবহার বর্জন করার নির্দেশনা দেয় পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর পরিবর্তে পাট বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করতে বলা হয়। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা মানছে না চট্টগ্রামের সুপারশপগুলো। আগের মতোই ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ। অপরদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুপারশপগুলোতে বিকল্প হিসাবে পরিবেশবান্ধব উপাদানে তৈরি পাট বা কাপড়ের ব্যাগ পৌঁছানোর কথা থাকলেও সব সুপারশপে তা পৌঁছায়নি। এছাড়া অনেকে পলিথিনের বিকল্প ব্যাগ পাননি। এক্ষেত্রে কিছু জায়গায় পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া ব্যাগ ১২ থেকে ২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এজন্য পলিথিনের ব্যাগ ছাড়া বাজার করতে অনীহা দেখা গেছে ক্রেতাদের মধ্যে। যার কারণে বাধ্য হয়ে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করছেন বলে জানান সুপারশপ কর্তৃপক্ষ। এদিকে কিছু সুপারশপ কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানেন না বলেও জানান।

জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় সুপারশপগুলোতে পলিথিন ব্যবহার বর্জন করতে বলেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিকল্প হিসেবে ক্রেতাদের জন্য সব সুপারশপে বা শপের সামনে পাট ও কাপড়ের ব্যাগ রাখতে বলা হয়। এ নিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধের বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়। এছাড়া ইএসডিওর সঙ্গে বিকল্প পরিবেশবান্ধব উপাদানে তৈরি পাট বা কাপড়ের ব্যাগের উৎপাদনকারীদের নিয়ে একটি মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় চাহিদা ও সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা করেন সুপারশপের কর্তৃপক্ষ ও উৎপাদনকারীরা। এরপর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এক সপ্তাহের মধ্যে সব সুপারশপে পাটের শপিং ব্যাগের সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে পাটের ব্যাগ পৌঁছায়নি বলে জানান সুপারশপ মালিকরা। পলিথিন নিষিদ্ধের ঘোষণার পর গত এক মাসে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে এক হাজার কেজির বেশি পলিথিন জব্দ এবং আইন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি সুপারশপ ঘুরে গেছে, স্বপ্ন, খুলশী মার্ট, বাস্কেটসহ বেশ কিছু সুপারশপে কেনাবেচায় পলিথিনের সঙ্গে কাগজের ব্যাগও ব্যবহার করতে দেখা গেছে। বাস্কেটসহ কিছু জায়গায় পাটের ব্যাগ থাকলেও সেটা একদমই কম। পলিথিনের পরিবর্তে পাটের ব্যাগ কিনতে অনীহা প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। পলিথিনের ব্যাগ না দিলে বাজার না করে চলে যাচ্ছেন। আল মদিনা সুপারশপের ম্যানেজার বাবলু বলেন, আমরা চেষ্টা করছি কিন্তু ক্রেতারা পাটের ব্যাগ কিনতে আগ্রহী না। পলিথিনে পণ্য না দিলে বাজার না করে চলে যাচ্ছেন। এতে আমাদের গ্রাহক কমে যাচ্ছে।

হারুনুর রশিদ নামে এক ক্রেতা জানান, পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করতে হলে এর সরবরাহ আগে পুরোপুরি বন্ধ করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞার নোটিশে কোনো কাজ হবে না। সাধারণ মানুষের হাতে ধরিয়ে দিতে হবে কোনটা ব্যবহার হবে, কোনটা করা যাবে না। এছাড়া কাজ হবে না। কারণ আমাকে বাধ্য হয়ে পলিথিন ব্যবহার করতে হচ্ছে। কারণ আমি চাকরিজীবী আর রোজ ব্যাগ কিনে বাজার করা সম্ভব না। পাটের ব্যাগ কিনতে বাড়তি টাকার দরকার হচ্ছে। ফ্রান্স সুপারশপের মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে শুধু জানানো হয়েছে। এরপর এতোদিনেও কোনো কার্যক্রম দেখতে পাইনি। আমাদের জানানো হয়নি কোন ধরনের ব্যাগ ব্যবহার করবো বা কোথা থেকে ব্যাগ সংগ্রহ করবো। উচ্চমহল যদি নির্দেশনা পরিপূর্ণভাবে আমলে না নেয়, তাহলে পরিবর্তন সম্ভব না। অপরদিকে মুদি ও কাঁচাবাজারের দোকানগুলোতে অবাধে চলছে পলিথিনের ব্যাগের ব্যবহার। কাস্টমার ও দোকানি অনেকেই জানেন না পলিথিন ব্যাগ যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে কাউকে বাসা থেকে ব্যাগ আনতেও দেখা যায়নি। সবাই দোকান থেকে দেওয়া পলিথিনের ব্যাগে বাজার করছেন। দোকানদাররা জানান, সরকার পলিথিন নিষিদ্ধ করেছে শুনেছি। কিন্তু মানতে কাউকে দেখছি না। বাজারে কেউই ব্যাগ নিয়ে আসে না। সবাই খালে হাতে বাজারে চলে আসে, এখন ব্যাগ না দিলে কাস্টমার অন্য দোকানে চলে যায়। যার কারণে বাধ্য হয়ে দিতেই হয়। এছাড়া সবাই আগের মত পলিথিনে বেচাকেনা করছে। অভিযান করতেও কেউ আসেনি।

এদিকে পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাছুমা আক্তার কণা। তিনি জানান, আমরা পলিথিনের ব্যবহার কমাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এর ধারাবাহিকতায় আমরা অভিযান পরিচালনা করছি।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page