কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) ও কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক পরিষেবার তথ্যমতে, সোমবার রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে দেশটির চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার পৌরসভার কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। প্রাথমিকভাবে কলম্বিয়া কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬ দশমিক ৬ বলে জানালেও, পরবর্তী পর্যালোচনায় ইউএসজিএস এর মাত্রা ৭ দশমিক ৪ নিশ্চিত করেছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
ভূমিকম্পের প্রভাবে চোকোসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চোকোর গভর্নর নুবিয়া কর্ডোবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, পুরো প্রদেশজুড়ে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে এবং আফটারশকের ঝুঁকি নিয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল সান হোসে দেল পালমারের পাশাপাশি প্রাদেশিক রাজধানী কুইবদোতেও হতাহত ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব তৈরির কাজ চলছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কলম্বিয়া ও প্রতিবেশী ইকুয়েডরের কর্তৃপক্ষ।
রাজধানী বোগোটার কয়েকটি ভবন থেকেও লোকজনকে নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেশের একাধিক এলাকায় ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। চোকো প্রদেশের কুইবদোতে হতাহতের পাশাপাশি ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এএফপির ধারণ করা একটি ভিডিওতেও সেখানে একটি ভবন ধসে পড়তে দেখা যায়। এছাড়া এহে কাফেতেরো পর্যটন অঞ্চলের পেরেইরা ও মানিজালেস শহর থেকেও ভবন ধসের ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পেরেইরায় অন্তত ১৮ জন, মানিজালেসে দুজন এবং ভ্যালে দে কাউকা অঞ্চলে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, পেরেইরার মেয়র ওই এলাকায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধার ও জরুরি সেবার কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছেন। এলাকাটিতে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এর কয়েক সপ্তাহ আগেই প্রতিবেশী ভেনিজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। জুনের শেষ দিকে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে ৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং শত শত ভবন ধ্বংসের খবর পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওই কম্পনগুলো অঞ্চলটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়। কলম্বিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সূত্র: Daily Amar Desh


মন্তব্য