আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম।। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় একটি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রকে ধরতে গিয়ে তাদের অতর্কিত গুলিবর্ষণের শিকার হয়েছে রাউজান থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল। এই সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ৬ জন কর্মকর্তাসহ মোট ১২ জন সদস্য গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছেন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চায়না রাইফেলের বিপুল পরিমাণ (গোলাবারুদ) ও বেশ কিছু দেশীয় ভারী আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়েনগর বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুখ্যাত মো. জাকের আলম ওরফে ডাকাত আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে কদলপুর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র। সম্প্রতি গত ২৫ সেপ্টেম্বর এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পায় পুলিশ। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও চক্রটিকে পাকড়াও করতে রাউজান থানা পুলিশের একটি দল জয়েনগর বড়ুয়া পাড়ায় অভিযান চালায়।
পুলিশের বিশেষ দলটি মূল অভিযুক্ত জাকের আলমের বসতঘরে প্রবেশের চেষ্টা করামাত্রই ভেতর থেকে অতর্কিতে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে সন্ত্রাসীরা। পরিস্থিতি আকস্মিক হওয়ায় এবং জীবন রক্ষার্থে পুলিশও তৎক্ষণাৎ পাল্টা আত্মরক্ষামূলক গুলি চালায়। দুই পক্ষের এই তুমুল সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই আকস্মিক হামলায় রাউজান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মো. নোমানেদ আলম, এসআই বায়েজিদ মৃধা, এসআই জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস ও এএসআই রফিউল হোসেনসহ মোট ১২ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে প্রধান হোতা ডাকাত আলম ও আজিজ বস পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে পুলিশি অভিযানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলদার হোসেন (৩৭) নামের এক সক্রিয় সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম জানান, আহত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একটি দোনলা বন্দুক, একটি একনলা বন্দুক, ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, ৬টি সিসা কার্তুজ, ৪টি রামদা এবং বেশ কিছু ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।
এসপি মাসুদ আলম আরও বলেন, পলাতক প্রধান দুই অপরাধী ডাকাত আলম ও আজিজ বসকে আইনের আওতায় আনতে বর্তমানে পুরো এলাকায় যৌথ ও বিশেষ চিরুনি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাউজান থানায় অস্ত্র আইন ও পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।





মন্তব্য