ইসমাঈল হোসাইন,উত্তরা,ঢাকা >>> রাজধানীর উত্তরায় ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে একটি চক্র। নিজেদেরকে সমন্বয়ক দাবি করে তারা কখনো বাসা-বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে, কখনো কিশোর গ্যাং পরিচালনা করছে। আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে নিরীহ মানুষকে মারধরসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে এই চক্র। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে উত্তরাবাসী।এ চক্রের মূলহোতা হিসেবে উঠে এসেছে আসাদুর রহমান আকাশের নাম। তার বিরুদ্ধে তিন সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন—দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক জাহাঙ্গীর কবির, সকালের সময় পত্রিকার সিটি রিপোর্টার মো. জোবায়ের আহমেদ ও বিজয় টিভির রিপোর্টার এ কে আজাদ। তারা ইতোমধ্যে উত্তরা পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে। দুই ব্যবসায়ীর দ্বন্দ্ব সংক্রান্ত খবর সংগ্রহ করতে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্টে গেলে আকাশের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাং সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আকাশ ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের এলোপাতারি মারধর করছে। বিশেষ করে সাংবাদিক মো. জোবায়ের আহমেদের গলা টিপে ধরা ও একের পর এক ঘুষি-লাথি মারার দৃশ্যও ফুটেজে ধরা পড়ে।ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, আকাশ সন্ত্রাসী কায়দায় রেস্টুরেন্টে ঢুকে তুইতোকারি করে নাম জানতে চায় এবং পরিচয় জানতে চাইলে সাংবাদিক জোবায়ের আহমেদকে মারধর শুরু করে। পরে তার সহযোগীরাও হামলায় যোগ দেয়। এমনকি সাংবাদিকদেরকে চেয়ারে বসিয়ে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আকাশ বাহিনী।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুর রহমান আকাশ সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে কেবল বলেন—“ভিডিওটা আবার দেখে প্রশ্ন করুন।” এরপর তিনি আর কোনো যোগাযোগ করেননি।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূখ্য সংগঠক ওমর ফারুখ বলেন, “সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা মানেই গণতন্ত্রের ওপর হামলা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।”ডিএমপি উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে পশ্চিম থানার ওসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” একই সাথে তিনি ‘মব কালচার’ প্রতিহতের কঠোর আশ্বাস দেন।


মন্তব্য