আব্দুল্লাহ আল মারুফ নিজস্ব প্রতিবেদক >>> সাতকানিয়ায় লাগাতারভাবে সংঘঠিত হচ্ছে নির্বাচনী সংঘর্ষ। প্রায় প্রতিদিনই নৌকার প্রার্থী ডঃ নদভী এবং ঈগল প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মোতালেব সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়াচ্ছে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নে। ২০ ডিসেম্বর বুধবার রাতে নৌকা সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মোতালেব সমর্থক পশ্চিম ঢেমশা ইউপি চেয়ারম্যান রিদোয়ানুল ইসলাম সুমনের বাড়িতে গুলি বর্ষন, গাড়ী ও নির্বাচনী অফিস ভাংচুরের পর ২১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে নৌকার প্রার্থী ডঃ নদভী’র সহধর্মিনী রিজিয়া রেজার গাড়িবহরে নৃশংস হামলা, ছাত্রলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান গুরুতর জখমের ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকে অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করল নৌকার প্রার্থী।
২১ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম -১৫ আসনের চরতী ইউনিয়নের কাটাখালী ব্রীজ এলাকায় নৌকা প্রার্থীর গণসংযোগে সশস্ত্র হামলার এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান এবং চরতী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ চৌধুরী গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত প্রচারণার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামুদ্দিন নদভীর পক্ষে চরতী ইউনিয়নে গাড়িবহর নিয়ে প্রচারণা চালাতে যান তার সহধর্মিনী মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিজিয়া রেজা চৌধুরী। দিনভর প্রচারণা শেষে গনসংযোগকারী টিম কাটাখালী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার গাড়িবহরে আকস্মিকভাবে একদল দুবৃত্ত হামলা করে। এ সময় হামলাকারীরা নির্বাচনী প্রচারনার গাড়ী বহরের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর এবং নৌকা সমর্থকদের মারধর করে বলে জানা গেছে। হামলায় সাতকানিয়া থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান এবং চরতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ চৌধুরী গুরুতর আহত হন।
রিজিয়া রেজা চৌধুরী জানান, ‘পূর্বনির্ধারিত প্রচারণার অংশ হিসেবে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে চরতী ইউনিয়নে গাড়িবহর নিয়ে প্রচারণা চালাতে যাই আমরা। সন্ধ্যার দিকে কাটাখালী ব্রীজ এলাকায় পৌঁছালে স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ মোতালেবের নামে স্লোগান দিতে দিতে এক দল সমর্থক আমাদের গতিরোধ করে। তারা ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে আমাদের গাড়িবহরে ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা সকলেই চিহ্নিত এবং তারা সকলেই ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান ও এমএ মোতালেবের অনুসারী বলে দাবী করে মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় এ নেত্রি। দুবৃ্ত্তরা চরতির বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে পুর্ব থেকে অবস্থান নিয়েছিল বলেও দাবী করেন রিজিয়া রেজা। স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মোতালেব আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি হয়েও দলীয় হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হারাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে দাবী করেন রিজিয়া রেজা। তিনি আরো বলেন, প্রফেসর ড. আবু রেজা নদভীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হতে তিনি ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে উঠেপড়ে লেগেছেন এবং পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
হামলার ঘটনায় আহত চরতী ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু রেজা নদভীর পক্ষে প্রচারণা চালাই দিনভর। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততা দেখে এমএ মোতালেবের ঈর্ষান্বিত হয়ে হামলার পথ বেছে নিয়েছে। আমার উপরও তারা হামলা চালিয়েছে। ২০-২৫ নেতাকর্মীকেও আহত করেছে তারা।
এব্যাপারে সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রিটন সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগীতা থাকবে তা স্বাভাবিক, কিন্তু সে প্রতিযোগীতায় প্রতিহিংসাপরায়ন মানষিকতা কাংখীত নয়। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটলেও সাতকানিয়ার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সার্বক্ষনিক সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। প্রত্যেকটি ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে কে কোন পক্ষ তা বিবেচনায় না এনে অভিযুক্ত আসামীদের গ্রেফতারে থানা পুলিশের বেশ কয়েকটি টীম নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছে। অপরাধী যেই হউক, কাউকে কোন অনুকম্পা করে ছাড় দেওয়া হবেনা। মাননীয় সাংসদের সহধর্মিনী রিজিয়া রেজার গাড়ী বহরে হামলার খবর শুনেছি, ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। মামলা হলে অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনে সোপর্দ্দ করা হবে।


মন্তব্য