সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি >>> “সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” শ্লোগানকে সামনে রেখে শিশু রামিসা হত্যার বিচারসহ কন্যাশিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার দুপুরে শহরের আলফাত স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্ট) এলাকায় পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) সুনামগঞ্জ সদর এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।সুজন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি ও প্যান সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সমন্বয়কারী নুরুল হক আফিন্দীর সভাপতিত্বে এবং সুনামগঞ্জ সদর পিএফজির সমন্বয়কারী ফজলুল করিম সাঈদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো নির্মম ঘটনা সমাজে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিকল্প নেই।বক্তারা আরও বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। তারা বলেন, দেশের অর্ধেকেরও বেশি জনগোষ্ঠী নারী। নারী ও কন্যাশিশুদের ঝুঁকির মধ্যে রেখে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ও নারী নেত্রীরা শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা দেশের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে।বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের মতো অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীরা বলেন, অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়বে এবং আইনের প্রতি আস্থা কমে যাবে।সভায় বক্তারা পিএফজির কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, সংগঠনটি একটি অসম্প্রদায়িক, বহুত্ববাদী, সহনশীল ও মানবিক সমাজ এবং রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সহিংসতা নিরসন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সুজন উপদেষ্টা ও লেখক সুখেন্দু সেন, সুজনের নির্বাহী সদস্য ও ইসলামগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুজ আলী, সদর পিএফজির নারী অ্যাম্বাসেডর শাহীনা চৌধুরী রুবি, পিস অ্যাম্বাসেডর সালেহিন চৌধুরী শুভ, সিরাজুল ইসলাম পলাশ, জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোদাচ্ছির আলম সুবল, সাতগাঁও জিবদারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নোমান আহমদ, সুজনের নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আবু নাসার, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হাছান আতাহের, আশরাব আলী, মোসায়েল আহমদ, নুর জাহান বেগম, সাংবাদিক রকিব মিয়া তালুকদার, সাংবাদিক আমিনুল হক, কর্ণবাবু দাস, বিটু বড়ুয়া, মছিহুর রহমান রাসেল, রোশনা আক্তার তৃষ্ণা, রিনা আক্তার ও ওয়াইপিএজির তুর্যদাস প্রমুখ।


মন্তব্য