আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর চালানো তাণ্ডব রুখতে রণংদেহী মূর্তিতে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার সকালে উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের চূড়ামণি ও ছনখোলা এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাটির ট্রাক চলাচলের রাস্তাগুলো বিচ্ছিন্ন এবং ইটভাটায় মজুদ করা বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়েছে।
শনিবার (৭মার্চ) সকালে,উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র স্থানীয়দের জিম্মি করে পাহাড় ও কৃষিজমি উজাড় করে আসছিল। অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত ড্রাম ট্রাক যাতায়াতের জন্য তৈরিকৃত অবৈধ সংযোগ সড়কগুলো এক্সকাভেটর দিয়ে কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এছাড়া, মাটির অবৈধ ব্যবহার বন্ধে ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সহায়তায় ইটভাটায় প্রস্তুতকৃত হাজার হাজার কাঁচা ইট পানিতে ভিজিয়ে বিনষ্ট করা হয়।
অভিযুক্ত ব্রিকফিল্ড ও নেপথ্যের কারিগর
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের আঙুল মূলত এলাকার চারটি বড় ব্রিকসফিল্ডের দিকে-কেবি ৩ (KB 3) এবিসি (ABC) বিবিসি (BBC) ইউবিএম (UBM): হালোয়াঘোনা এলাকার আলোচিত ‘দুবাই রফিক’-এর মালিকানাধীন এই ইটভাটার বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে পাহাড় কাটার সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা আরো বলেন,আমরা কথা বলতে ভয় পেতাম। আমাদের পৈত্রিক জমি আর চোখের সামনের পাহাড়গুলো শেষ হয়ে যাচ্ছিল। আজ প্রশাসনের এই পদক্ষেপে আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে মাটি লুটের ফলে সাতকানিয়ার এই অঞ্চলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি উর্বর মাটি ইটভাটায় চলে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে এবং ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন: পরিবেশ বিধ্বংসী এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। যারা পাহাড় ও কৃষিজমি ধ্বংস করছে, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। শুধু রাস্তা কাটা নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা (মামলা ও জেল-জরিমানা) গ্রহণ করা হবে।


মন্তব্য